
হাদিস নবীজির মৃত্যুর বহু বছর পর লেখা হয়েছে।
কাজেই হাদিস ১০০% সঠিক হওয়ার সম্ভবনা নাই। কাজেই হাদিস আকড়ে থাকা সঠিক কাজ হবে না। এর মধ্যে আবার দুষ্ট লোকেরা ঝামেলা সৃষ্টি করার জন্য অসংখ্য জাল হাদিস তৈরি করেছে। এখন সাধারন মানুষ বুঝে না, কোনটা আসল হাদিস আর কোনটা নকল হাদিস। সমাজে বহু লোক আছে, ভুল হাদিস হৃদয়ে ধারন করে জীবন পার করে দিয়েছে। হাদিসে গন্ডোগোল আছে। ইহা সত্য। কিন্তু কোরআনে গন্ডগোল নেই। লোকজন কেন কোরআন বাদ দিয়ে হাদিস নিয়ে পড়ে থাকে! হাদিস সংগ্রহের অনেক বছর পার হয়ে গেছে। তবু কেন ইসলামিক স্কলাররা জাল হাদিস গুলো চিরতরে মুছে দিলো না? বর্তমান বিশ্বে হাদিসের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। হাদিস ছাড়াই উন্নত বিশ্ব গুলো তর তর করে এগিয়ে গেছে। শ্যাইয়ান ভাইয়ের জন্যই আজকের পোষ্টটি লিখতে বসিয়াছি।
আমাদের অসুখ বিসুখ হলেই আমরা ডাক্তারের কাছে যাই।
ডাক্তার রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দেন। ওষুধ খেয়ে আমরা সুস্থ হই। এখন কথা হচ্ছে, আমরা কিভাবে সুস্থ হলাম? ওষুধের গুনে না আল্লাহর ইচ্ছায়? অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থ হই। ওষুধ হইলো উছিলা। আবার ধরুন, আমরা অসুস্থ হলাম। অসুস্থ আমাদের কে বানালো? হ্যা অসুস্থতাও আল্লাহপাক আমাদের দেন। যাইহোক, একবার আমাদের মূসা নবী অসুস্থ হলেন। জটিল কোনো রোগ নয়। অতি সাধারণ রোগ। পেট ব্যথা। সেই যুগে পেট ব্যথার কোনো চিকিৎসা ছিলো না। ডাক্তার, হাসপাতাল, ওষুধ কিছুই ছিলো না। মূসা নবী পেটের ব্যথায় অস্থির। কোনো উপায় না দেখে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলেন। আল্লাহ বললেন, খেজুর গাছের পাতা খাও। পেট ব্যথা সেরে যাবে। মূসা খেজুর পাতা ভর্তা করে খেলেন এবং তার পেট ব্যথা ভালো হয়ে গেলো। (হ্যা এটা বানোয়াট হাদিস)।
রোগশোক নিয়ে অনেক হাদিস আছে।
বেশির ভাগ হাদিস ভূয়া। বানোয়াট। মূসা নবীর কথা বলি- মূসা নবীর পাতা খাওয়া নিয়ে তাফসীর ও কিসাসুল আম্বিয়া গ্রন্থে লেখা হয়েছে। যদিও ইহা জাল হাদিস। কারণ আল্লাহ 'হও' বললেই হয়ে যায়। কাজেই আল্লাহ পাতা খাওয়ার কথা বলবেন কেন? আল্লাহ ইচ্ছা প্রকাশ করলেই তো মূসা নবীর পেট ব্যথা গায়েব হয়ে যাওয়ার কথা। পাতার কোনো দরকার নাই। মূসা নবী খুবই লজ্জাশীল ছিলেন। উনি নারীদের দিকে তাকাতেও লজ্জা পেতেন। মূসা নবী একবার মিশর যান। সেখানে অনেক সুন্দরী মেয়ে ছিলো, মূসা নবী ফিরেও তাকাননি। মূসা নবীর আমলে সমস্ত পুরুষরা নদীর পারে উলঙ্গ হয়ে স্নান করতো। কিন্তু মূসা নবী এভাবে উলঙ্গ হয়ে সকলের সামনে গোছল করতেন না। এজন্য অনেকে মূসা নবীর নামে বদনাম ছড়িয়ে ছিলো- মূসা নবীর অণ্ডকোষে সমস্যা আছে। এরকম ফালতু হাদিসও আছে। যা শতভাগ বানোয়াট।
আরো কিছু বানোয়াট হাদিস আপনাদের শোনাই।
মূসা নবী বিকেলে এক গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তখন এক ফেরেশতা এসে বললেন, মূসা আপনার সময় শেষের দিকে। আপনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেন। মূসা নবী রেগে গেলেন। এবং ফেরেশতাকে এক থাপ্পড় দিলেন। থাপ্পড খেয়ে ফেরেশতা অন্ধ হয়ে গেলেন। যাইহোক, মূসা নবী অন্য নবীদের চেয়ে একটু আলাদা ছিলেন। তিনি সহজ সরল ছিলেন। যুদ্ধ পছন্দ করতেন না। তিনি বলতেন, দুনিয়াতে মৃত্যু না থাকলে ভালো হতো। অসুখ বিসুখ না থাকলে ভালো হতো। জান্নাত-জাহান্নাম না থাকলে আরো ভালো হতো। হাদিসে আছে- পাথরের খন্ড পর্যন্ত বলেছে, হে আরববাসী মূসাকে কষ্ট দিও না। আল্লাহ প্রতিটি মানুষকে ইখলাসের সহিত তার দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন।
আপনাদের জন্য প্রশ্নঃ ডাক্তার এবং নার্সদের কি উচিৎ কোরআন হাদিস ফলো করা?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

