somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় কন্যা আমার, আজ ইদের দিন!
একমাস ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা সিয়াম সাধনা করেছে। রমজান মাস মূলত সংযমের মাস। ফাজ্জা কাউকে আমি দেখিনি সংযম করতে। রমজান মাসে সবাই বিলাসিতা করেছে। খাওয়া দাওয়া থেকে জামা কাপড় কেনাকাটায় প্রচুর বিলাসিতা করেছে। বাইরের মানুষের কথা কি বলব, তোমার বড়মা, মানে আমার ভাবী পর্যন্ত বিলাসিতা করেছেন। তোমাদের নিয়ে বাইরে থেকে হাতে মেহেদি দিয়ে নিয়ে এসেছে। পরের দিন আবার বাইরে থেকে মেহেদী দেওয়ার জন্য একজন মহিলা নিয়ে এসেছে। তাকে দিয়ে আবার হাতে মেহেদি দিয়েছে। সেই মহিলাকে একগাদা টাকা দিতে হয়েছে। এটা যে অপচয়, সেটা তোমার বড়মা অনুভব করতে পারছে না। অথচ তোমার বড়মা ধার্মিক মানুষ হয়েছে। বোরখা, হিজাব পড়ে। নামাজ রোজা করে। রমজান মাসে সংযম কেউ করে না। ব্যবসায়ীরা মানুষকে ঠকায়।

ফারাজা তাবাসসুম, আজ ইদের দিন।
এখন আমরা তোমার নানা বাড়ি যাবো। দুপুরে আমাদের দাওয়াত। সকালে গোছল করে এসে দেখি, তোমার মা নতুন পাঞ্জাবি আমাকে পড়তে দিয়েছে। পাঞ্জাবি টা দেখেই আমার মেজাজ খারাপ হয়েছে। পাঞ্জাবি টা একটুও সুন্দর না। কেমন ঘি কালারের একটা ফালতু পাঞ্জাবি। আবার পাঞ্জাবির মধ্যে লাল কাপড়ের কাজ করা। অথচ ইদের দিন, তাই চুপ থাকলাম। সেই ফালতু পাঞ্জাবিই পড়লাম। আমি ভদ্রলোকের ছেলে, চিৎকার চ্যাচামেচি তো করতে পারি না। এই সুযোগ টাই তোমার মা নেয়। ঘরে বাইরে কত কিছু যে আমাকে সহ্য করে যেতে হয়! আমি শান্তি প্রিয় মানুষ! ইদের দিন দুপুর বেলা তোমার মা তোমাকে ভয়াবহ এক সাজ দিয়েছে। তোমাকে শাড়ি পরিয়েছে। মাথায় টিকলি, কানে দুল, হলায় মালা। একটা ৫ বছরের বাচ্চা মেয়েকে কেউ বিয়ের সাজ করায়! শাড়ি সামলাতে তোমাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

ফারাজা তাবাসসুম খান, তুমি তাড়াতাড়ি বড় হও।
তাহলে আমাকে বুঝবে। মাত্র ৫ বছর তোমার! কোনো কিছু নিয়েই তোমার সাথে আলাপ আলোচনা করতে পারি না। তুমি শুধু খেলা করতে পছন্দ করো। একবার তিন তলা যাও, মোহাম্মদের সাথে খেলা করো। একবার চার তলা যাও, শাবির, কিয়ানের সাথে খেলা করো। আবার যাও পাচ তলায় রোহার সাথে খেলা করতে। তোমার জীবন হয়ে গেছে খেলাময়। আমাকেও তুমি সময় দাও না, খেলা নিয়ে ব্যস্ত! আমি বাসায় ফিরলেও তুমি রোহার সাথে খেলা করতে থাকো। আমি ডাকলেও তুমি আসো না। এত খেলাধুলা কেন? স্কুল বন্ধ তাই? ফাজ্জা, জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে হবে লেখাপড়া। খেলাধুলা নয়। হ্যা খেলা করবে, লেখাপড়া শেষ করে। সারাদিন নয়, অল্প সময়। ফাজ্জা লেখাপড়া টা আনন্দ হিসেবে নাও, চ্যালেঞ্জ হিসেবে নাও। এও লেখাপড়াই তোমার জীবন এবং ভবিষ্যৎ গড়ে দিবে।

প্রিয় কন্যা আমার, ইদের দিন লেখাটা শেষ করতে পারিনি।
তোমার নানা বাড়ি চলে গিয়েছিলাম। আজ ইদের তৃতীয় দিন। গতকাল গিয়েছিলাম নারায়ণগঞ্জ, একটা শুটিং স্পটে। তুমি খুব আনন্দ করেছো। অনেক দৌড়ঝাপ করেছো। পড়ে গিয়ে হাটুর কাছে ব্যথা পেয়েছো। অনেকখানি ছিলে গেছে। এছাড়া জার্নিটা ভালোই ছিলো। আমার মাকে দেখলাম খুব ঘুরে বেড়ালো। ছবি তুললো। যাইহোক, ফাজ্জা আমাদের দেশটা গরীব দেশ। গরীব দেশে বিলাসিতা করা ঠিক না। এবার ইদে তুমি অনেক গুলো জামা কাপড় গিফট পেয়েছো। এজন্য ইদে আমি তোমাকে নতুন কোনো জামা টামা কিনে দেইনি। এজন্য তোমার মা অনেক আহত পেয়েছে! বারবার বলেছে, এটা কোনো কথা বাপ মেয়েকে ইদে কিছু কিনে দিবে না! মেয়ে হাজার উপহার পাক। বাপ কেন দিবে না! বাপ অপচয় পছন্দ করে না, এটা তোমার মায়ের বুঝা উচিৎ।

ফারাজা তাবাসসুম খান-
গতকাল রাতে এক ভয়ানক দুঃস্বপ্ন দেখেছি। স্বপ্নে আমি মরে গেছি। তুমি একদম অসহায় হয়ে গেছো! তোমার মা বেচে আছে, কিন্তু সে তোমাকে আদর ভালোবাসা দিয়ে ঠিক ভাবে বড় করতে পারছে না। তোমার মা সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে! আমার মৃত্যুর ছয় মাস না হতেই তোমার মা-ও মারা গেলো। তুমি পড়ে গেলে অকুল সমুদ্রে! তোমার আর ভাইবোন নেই। এখন তুমি কার কাছে যাবে! তোমার বয়স মাত্র ৫ বছর। তোমার খালা থাকে ইটালি। সে তার চার ছেলেমেয়ে নিয়ে ব্যস্ত। তোমার নানা বুড়ো, সে তোমার দেখভাল করতে পারবে না। তাহলে তুমি কার কাছে থাকবে? যদি আমার ভাবীর কাছে থাকো, সে তোমাকে সঠিক ভাবে বড় করতে পারবে না। সে তো আর তার ছেলেমেয়ে রেখে তোমাকে সময় দিবে না। তুমি কই যাবে? কার কাছে নিরাপদে থাকবে! এবং আদর ভালোবাসায় বড় হবে! এই হলো স্বপ্ন! স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে গেলো। ভীষণ মন খারাপ হলো আমার। সত্যিই যদি আমি হুট করে মরে যাই, তাহলে তোমার কি হবে!



সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৯
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঈদের আগের রাতে দুই মোল্লার কথোপকথন ( (কাল্পনিক)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২১


এশার নামাজ শেষ হয়েছে বেশিক্ষণ হয়নি। মসজিদের ভেতর রফিকুল্লাহ সাহেব একা বসে আছেন। বয়স বাষট্টি। হাতের তসবিটা নাড়ছেন, কিন্তু গোনা হচ্ছে না আসলে। চোখ গেছে দূরে—বাজারে আলো জ্বলছে, রিকশার ভিড়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর ঈদ কবে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:০৬




সবাইকে ঈদ মুরাবক!

ঈদ কেমন গেলো? পুরো রমজানের দুআা কতটুকু কাজে লেগেছে? বৃষ্টি ভেজা, বজ্রপাতে কোনো ভোগান্তি হয়েছে : প্রিয়জন সব ঠিকঠাক আছে? আহত বা নিহত হয়েছে?? ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৩

লিখেছেন অর্ক, ২২ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:৪৫



সারাজীবন আমি মানবতা, সত্য, শুভ, সুস্থ, সুন্দরের চর্চা করে এসেছি। আমার উপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে আমি কিছু বলি না বা দাবি করি না। এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইহুদীদের ষড়যন্ত এবং আমেরিকার খনিজ সমৃদ্ধ ভূমী দখলের লীলাখেলা।

লিখেছেন রাশিদুল ইসলাম লাবলু, ২৩ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪২



র্দীঘদিন ধরে ইহুদীরা মুসলিমদের সন্ত্রাসী পরিচয় তকমা দিয়ে বিশ্ব দরবারে ঘৃন্য জাতি সত্ত্বাতে পরিনত করার অপেচেষ্টায় রত ছিলো। মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী প্রথমেই ধারনা দিতে তৈরি করা হল আল কায়দা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×