somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৫

০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমার নাম শাহেদ। শাহেদ জামাল।
মূগদা হাসপালে ডাক্তার দেখিয়েছি। সরকারি হাসপাতাল। ভিজিট মাত্র ১০ টাকা। শেখ হাসিনা দেশের মানুষদের জন্য এই হাসপাতাল করেছেন। যেহেতু সস্তা, তাই অনেক, অনেক রোগী হয়। ডাক্তাররা রোগী দেখতে দেখতে ক্লান্ত। বিধ্বস্ত। আমি দরিদ্র মানুষ। চালচুলা নেই। মেসে থাকি। বেকার। এজন্য সরকারি হাসপাতালে যাই। চিকিৎসা করাই এবং ফ্রি ওষুধও নিয়ে আসি। ফ্রি ওষুধ দিতে চায় না। তখন রিকোয়েস্ট করি। গরীব মানুষ স্যার। প্লীজ। এতে কাজ হয়। ওষুধ দেয়। সরকার নিয়ম করেছে, ফ্রি ওষুধ দিবে। অথচ আমাকে অনুনয় বিনয় করে চেয়ে নিতে হচ্ছে নাগরিক অধিকার। এই দেশে থকতে ইচ্ছে করে না।

সম্প্রতি আমার দুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ডায়বেটিস আর চোখের সমস্যা। ছোট লেখা একদম চোখে দেখি না। ঝাপসা লাগে সব কিছু। ডায়বেটিস হয়েছে। ডায়বেটিস খুব হারামী রোগ। তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। সামনে পছন্দের খাবার থাকলেও খেতে পারি না। প্রিয় বই হাতের কাছে পেলেও পড়তে পারি না। ঝাপসা লাগে। হ্যা চশমা পড়লে কিছুটা আরাম হয়। আমার চিরকালের অভ্যাস রোগ, শোক, অভাব, দু:খ-কষ্ট আমি সবার কাছ থেকে গোপন রাখি। কাউরে বলি না। নীলাকেও বলি না। আমার কোনো মন্দ কথা শুনলেই নীলার কষ্ট হয়। নীলা আমার প্রেমিকা ছিলো। বড় ভালো মেয়ে। শুধুমাত্র চোখে কাজল দিলেই নীলাকে দারুণ লাগতো! দেবী স্বরসতী আর নীলা দেখতে একই রকম। যেন তারা জমজ বোন।

হাসপাতালে যাই। লম্বা লাইন ধরে দশ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলাম।
ডাক্তারের রুমের কাছে গিয়ে দেখি, সেখানেও লম্বা লাইন। যাইহোক, লাইন ধরে এগিয়ে গেলাম ডাক্তারের কাছে। মহিলা ডাক্তার। বললেন, আপনার সমস্যা কি? আমি বললাম, চোখে সমস্যা। ছোট লেখা পড়তে পারি না। ডাক্তার মহিলা হাসলেন। সহজ সরল সুন্দর হাসি। বললেন, আমি চোখের ডাক্তার না। আমি ডায়বেটিস এর ডাক্তার। আমি স্যরি বলে, বললাম আমার ডায়বেটিস সমস্যা আছে। ওষুধ দেন। আমি অনুভব করি, আমার ডায়বেটিস সমস্যা বেড়ে গেলেই, চোখের সমস্যা বেড়ে যায়। ডাক্তার একটা টেস্ট দিলেন। আজকাল সব ডাক্তার টেস্ট দেয়। রিপোর্ট না দেখে কেউ কিছু বলতে পারে না। ডাক্তার, হাসপাতাল আর ওষুধ কোটি মানুষের ব্যবসা।

হাসপাতাল থেকে বের হয়ে হলাম। চারিদিকে কড়া রোদ।
মধ্যদুপুরে গরম একটু বেশিই থাকে। তাছাড়া সামনেই পহেলা বৈশাখ। এই কড়া রোদ! এই আকাশ কালো করে ঝুম বিষ্টি। সাথে ধমকা বাতাস। ব্যাপক বাতাসে আম গুলো ঝরে যায়। আমার গলা শুকিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে এক বালটি পানি খেয়ে ফেলতে পারবো। দেখলাম, একলোক শরবত বিক্রি করছে। চিনি ছাড়া শরবত দিতে বললাম। শরবত মুখে দিয়ে দেখি, অতি ফালতু জিনিস। শুধু লেবু আর বিট লবন দিয়েছে। একটা সিগারেট খাওয়া দরকার। অনেকক্ষন ধরে সিগারেট খাই না। দরিদ্র হলেও আমি আবার কমদামী সিগারেট খেতে পারি না। বেনসন সিগারেট একটা বিশ টাকা। সারাদিনে দশ বারোটা লাগে। একটা সিগারেট ধরিয়ে ভাবছি কার কাছে যাবো এখন আমি! আমার জন্য কেউ অপেক্ষা করে নেই! নীলা চলে যাবার পর, মুনা নামের একটা মেয়ের সাথে ভাব হতে শুরু করেছিল! পোড়া কপাল আমার! মুনা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে গেলো!

একবার ছোট চাচাকে নিয়ে গেলাম, চেন্নাই। চাচার হার্টে সমস্যা।
হাসপাতালের নাম- ফরটিস মালার হাসপাতাল। সুন্দর হাসপাতাল। এখানে হার্টের ভালো চিকিৎসা হয়। মালোশিয়া, ইন্দোনেশিয়া আর চীন থেকেও এখানে লোকজন চিকিৎসা নিতে আসে। চেন্নাইয়ের ভাষা না বুঝলেও সমস্যা নাই। দোভাষী আছে। চাচা সারাদিন শুয়ে থাকে। আমি চেন্নাই শহর ঘুরে বেড়াই। বড় ভালো লাগে। সুন্দর শহর। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। কিন্তু ওদের খাবার খেয়ে আরাম পাই না। এক রেস্টুরেন্টে ভাত খেলাম। আমাকে ভাত দেওয়া হলো, কলা পাতায়! চেন্নাই শহর আর মানুষ গুলোকে কেমন যেন আপন আপন লাগে। এর কারণ হতে পারে সাউথ ইন্ডিয়ান অনেক মুভি দেখেছি। মালায়ালাম আর তেলেগু মুভি গুলো আমার ভালো লাগে। আসলেই এরা ভালো মুভি তৈরি করে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলের "ঘাস কাটা" এবং "মাটির স্তর সরিয়ে ফেলা" কৌশল

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩৩


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ কিছুদিন আগেই ট্রাম্পের নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। ট্রাম্পের এই ভৃত্যসুলভ মিত্র মধ্যস্থতা করে আমেরিকা-ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছে - এই খবর শুনে মনে সংশয় তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর ব্লগারদের পোস্ট নিয়ে একটা সংকলন বের করতে চাই

লিখেছেন ডার্ক ম্যান, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫১

আমি একটা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান চালু করতে চাচ্ছি। তাই আমার প্রত্যাশা প্রথম বইটা হবে সামুর ব্লগারদের পোস্ট সংকলন।
আপনারা যদি চান, তাহলে আপনাদের লেখা যেকোনো প্রিয় পোস্ট সেখানে দিতে পারেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনু কবিতা

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৫১



(১)
গল্প স্বল্প আড্ডার ভেতর
ডাকে পুরোনো দিন,
বিষন্ন স্মৃতির পাতা
ক্লান্ত বিলীন।

(২)
শোকের ধুলো জানালাতে,
বসে থাকে রোদ না মেখে,
হারিয়ে গেলো কারো মুখ
ভুল ঠিকানায় নাম লিখে।

(৩)
চায়ের ধোঁয়ায় মুখ লুকিয়ে
একাকী নিরালায়,
গল্প শেষেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন 2026 : BJP কি জিততে চলেছে ?

লিখেছেন গেছো দাদা, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৫

আসন্ন বিধান সভা নির্বাচনে(2026) কি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে BJP জিততে চলেছে?
আসুন জেনে নিই প্রকৃত সম্ভাব্য রেজাল্ট।
রাজ্য সরকারের IB এবং মোদী সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সূত্র অনুসারে,কোন দল কত আসন পেতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা যে আসলে কী চাই, নিজেরাও জানি না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫৬



কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই একটাই দৃশ্য—হতাশার গল্প আর সমালোচনার স্রোত। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন সাহেবকে নিয়ে নানামুখী আলোচনা বেশ জমে উঠেছে। ক্ষমতায় আসার দুই মাসও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×