কিছু ব্যাপারে অনেক বেশী আবেগপ্রবণ হয় মেয়েরা...
আর জীবনকে নিয়ে ফ্যাসিনেশন তাদের আমাদের থেকে অনেক বেশী, এই যেমন আমরা যেখানে স্বল্পমেয়াদী স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি ওরা সেখানে দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন দেখতে পচ্ছন্দ করে।
দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন দেখাকে আমি খারাপ বলছিনা, কারন দীর্ঘমেয়াদী এই স্বপ্নগুলোই ছেলেদের জীবনের বন্ডিং ফোর্স। পরিকল্পনায় কিংবা কল্পনায় মেয়েদের এই ফ্যাসিনেশন গুলো খুবই হেল্পফুল - এসবই ক্লাসিকাল কথাবার্তা।
আজকের যুগে একটা মেয়ে কেবল নিজেকে স্নেহ আর মমতার প্রতীক একজন নারী মনে করেনা। তার কদর বেড়েছে লাইফের অন্যান্য সেকটর গুলোতেও। সভ্যতার খাতিরেই এটা প্রয়োজন ছিলো।
মানুষের অবাক করা একটি বিষয় হলো মানুষ তার নিজের পরিবর্তন টা দেখতে পায়না - এটা একটা ফ্যাক্ট।
আগের পোস্টে আমি মানুষের পরিবর্তন নিয়ে বলেছিলাম। শুধু এটা বলিনি যে এই পরিবর্তন নিজে নিজে মাপা যায় না। প্রয়োজন পড়ে অতি বিশ্বস্ত একটি রেফারেন্স মানুষের। অথবা স্পেশাল কোন জীবন ঘনিষ্ঠ তথ্য প্রদানকারী।
'পারভার্সন' একটা জটিল শব্দ আজকের জামানায়।
তবে একটা কথা বলি। একজন হিজড়ার শরীর থেকে কখনোই আরেকটি হিজড়ার জন্ম হয়না। একজন সুস্থ মানুষের শরীর থেকেই যেমন একজন হিজড়ার জন্ম হয়, ঠিক তেমনি পারভার্সন জিনিসটাও তৈরী হয় অনেক গুলো স্বাভাবিক ঘটনা নিয়ে।
এবার আমার মূল বক্তব্যে আসি।
মেয়েদের এই ফ্যাসিনেশন যা আমাদের কে সুন্দরভাবে জীবনের রসনায় তৃপ্ত করে তার থেকেই তৈরী হয়েছে তার আরো একটি সত্তা।
এর নাম হলো দ্বি-চারণশীলতা।
একটা মেয়ে আজকের যুগে দ্ব-চারিনী হতেই পারে। আগেই বলেছি যে মেয়েরা এখন পৃথিবীর আলোয় আলোকিত অথবা অন্যভাবে বলতে গেলে এই গোটা পৃথিবী এখন নারী সত্তার নানা আয়োজনে আলোকিত। তাই মেয়েদের সেই আবহমান কল্পনা প্রিয় মনেও পরিবর্তন এসেছে।
আগেই বলেছি নারীর পরিবর্তন নারী নিজে দেখতে পাবেনা। দ্বিচারিণী একটা মেয়ে কখনোই জানেনা তার চাহিদা কি।
একটা মেয়েকে একটা ছেলেকে নিয়ে যখন স্বপ্ন দেখে তখন ছেলেটার সব গুলো ভালো অংশকে আগে ভালোবাসে, এরপর এই ভালো অংশগুলোকে নিয়ে তৈরী হয় তার ফ্যাসিনেশনের জাল বোনা।
এভাবেই এক একটি প্রেম - ভালোবাসা কিংবা দাম্পত্যের গল্প আগিয়ে চলে।
একজন দ্বিচারিণী মেয়ের গল্প একটু আলাদা হয়।
সে প্রথমে একজন ছেলের কাছে এসে তার এই ভালো অংশের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তখন এই ভালো অংশগুলো নিয়ে তার স্বপ্নের জাল বোনা চলতে থাকে।
কিন্তু তার আরো কিছু স্বকীয় স্বপ্ন থেকে যায় আঁধারে যা হয়তো মেয়েটা ছোট বেলা থেকেই দেখতো। এই যেমন তাকে যে বিয়ে করবে সে যেন কবিতা আবৃত্তি করতে পারে কিংবা তার পোট্রেট স্কেচ করতে পারে - এরকম কিছু! হয়তো ঐ ছেলে অনেক গুণে গুণী, শুধু এই স্পেসিফিক একটা গুণ ছাড়া।
মেয়েটা হাল ছেড়ে দেয়না। কারন সে জীবনের কাছে চ্যালেঞ্জে আবদ্ধ।
ঘটনা পরিক্রমায় সে এমন একজন ছেলের সন্ধান পেয়ে যায় যার মধ্যে আগের ছেলের সবগুলো গুণের পাশাপাশি তার মনে আঁধারে লুকিয়ে থাকা ঐ স্বপ্নগুলোও আছে।
এসময় মেয়েটা একটা জটিল স্নায়ু সন্ধির মাঝে উপস্থিত হয়। সে মনে মনে খুশি হয় আবার সব কিছু হারানোর ভয় তৈরী হয়।
কারন প্রথম ছেলেটাকে সে ছাড়তে পারেনা, আবার জীবনের চ্যালেঞ্জ জয় করে আনা এই নতুন উপহারও সে এড়িয়ে যেতে পারে না।
এটা চরিত্রহীনতা না, এটা হলো কল্পনাবিলাসিতার একটা অনেক হাই লেভেল। সবাই ওখানে যেতে পারে না।
সবাই এরকম করে ভাবতে পারেনা, তবে এটা সত্য এই মেয়েরা অনেক কষ্ট পায় জীবনে।
আবার এরা সাহসীও হয়, সব হারিয়েও আবার যুদ্ধ শুরু করতে পারে।
আমরা একে বলি দ্বিচারণশীলতা কিংবা মেয়েটাকে বলি দ্বিচারিণী
গল্পের শেষে কী হয় এসব মেয়েদের - উম, আমি আসলে জানিনা
আমি যদি কোনদিন জানতে পারি আমার এই ব্লগেই জানাবো -
আর জীবনে আরো কিছু দ্বিচারিণী নন্দিনী দেখার অপেক্ষায় রইলাম...
লেখকঃ ডাঃ রাজীব দে সরকার
রচনাকালঃ ১১-১০-২০১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


