somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজিন রিভিউ: M.S. Dhoni: The Untold Story

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


২০০৪ সালের সেই খেলাটির কথা এখনো মনে আছে। মাশরাফির দুর্ধর্ষ বোলিং এর সামনে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের কাপাকাপি অবস্থা। ব্যাটিং এর ৭ নম্বরে নামলো পামেলা এন্ডারসনের মত স্বর্ণকেশী উইকেট কীপার “ধোনী”। তার ব্যাটিং নিয়ে অনেক সুনাম আছে। ধোনী সেদিন ভালোই খেলছিল কিন্তু মাশরাফির বলেই মাত্র ১২ রান করেই আউট। কেউ বোঝেনি যে এই পোলা পরবর্তীতে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের কারণ হবে! সেই ধোনীই হবে বর্তমানের সবচাইতে “ধনী” ক্রিকেটার! আর তাকে নিয়ে নির্মিত হবে একটি বলিউড মুভি!

ধোনীকে নিয়ে মুভি হবে জেনে খুব অবাক হয়েছিলাম। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে ধোনীকে অনেক সম্মান করি কিন্তু আমি আবার শচিন টেন্ডুলকারের বিরাট ভক্ত। টেন্ডুলকার, গাংগুলি, কপিল দেব বাদ দিয়ে ধোনী? ধুর মিয়া। নায়ক আবার সুশান্ত সিং রাজপুত। কোথাও চান্স না পেয়ে এটাতেই ... । কিন্তু একটা ব্যাপারে বেশ আগ্রহী ছিলাম। মুভিটির পরিচালক নীরাজ পান্ডে। এই ব্যাটা যেটাতেই হাত দেয় সেটাতেই সোনা ফলে। এমনকি অনন্ত জলিলের গা হাত দিলে, জলিল IELTS এ ১০ এর মধ্যে ১১ পেয়ে যাবে।

যা ভাবলাম তার চাইতে অনেক বেশি হয়ে গেল। মহেন্দ্র সিং ধোনী নিয়ে নির্মিত এই মুভিটি এই বছরের অন্যতম সেরা মুভি। একটি চলচ্চিত্র যে একটি বিরাট প্রজেক্ট এবং একটি টিমওয়ার্ক, সেটির একটি দারুন উদাহরণ হিসেবে থেকে যাবে এই মুভিটি।

প্রথমেই প্রশংসা করতে হয় সুশান্ত সিং রাজপুতের। দারুন এবং ফাটাফাটি। এত ভালো অভিনয় অনেকদিন দেখা যায়নি। নায়কদের ব্যাটিং দেখলে ক্রিকেটীয় নান্দনিকতা একেবারেই পাওয়া যায় না। কিন্তু সুশান্ত সেটা ঠিকই নিয়ে এসেছেন। ১৮ মাস ধরে কঠোর ক্রিকেটের ট্রেনিংয়ের ফলাফল ভালভাবেই বোঝা যায় মুভিটিতে। ধোনীর ট্রেডমার্ক “হেলিকপ্টার শট” এর জন্য প্রতিদিন ২০০-৩০০ বার প্র্যাকটিসের পর এখন তিনি শটটি খুব সহজেই করতে পারেন। ধোনীর চলাচল এবং আচার-ব্যবহার ছাড়াও সব মিলিয়ে সুশান্তের অভিনয় সহজেই দর্শকদের মনের সাথে যোগাযোগ তৈরী করতে পারে। নিঃসন্দেহে এ বছরের সেরা অভিনয়।

এছাড়া মুভিটিতে পার্শ্ব চরিত্রের প্রত্যেকে অসাধারণ অভিনয় করেছেন। অনুপম খের, রাজেশ শর্মা, ভূমিকা চাওলা ... কারও নামই বাদ দেয়া যাবে না। নায়িকা চরিত্রে দিশা পাটানি এবং কিয়ারা আদভানিকে দারুন লেগেছে।
মুভিটির সবচাইতে ভালো দিক হলো নির্মাণ। দুর্দান্ত! নীরাজ পান্ডেকে বর্তমানে ভারতের অন্যতম সেরা পরিচালক মানতেই হবে। প্রত্যেকটি দৃশ্যকে বাস্তবতার সাথে দারুনভাবে মেলানো হয়েছে। ধোনীর ছোটবেলার বাসা, পাশের মাঠ, স্কুল, কর্মজীবনের কোয়ার্টার সবগুলিতে সেটের বদলে আসল জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে। খড়গপুর রেল স্টেশানের দৃশ্যগুলি করা কীভাবে সম্ভব হলো এখনও বুঝতে পারছিনা।
মুভিটির কাহিনী, সংলাপ খুবই দারুন। মুভিটি একটু লম্বা হলেও বোরিং লাগে না। মুভির সংগীতগুলি ফাটাফাটি না হলেও বেশ ভালো। এছাড়া অনেক দৃশ্যতেই গায়ের লোম খাড়া হয়ে যায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো নীরাজ পান্ডে নিজেই ধোনীর ভক্ত নন। সেকারণেই হয়তো মুভিতে এতটা বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।

মুভিটির খারাপ দিক হিসেবে বলবো স্পেশাল ইফেক্ট। আসল খেলার মধ্যে ধোনীর দেহে সুশান্তের চেহারা বসানো বেশীরভাগ সময়েই ভালো লাগেনি। এছাড়া কৈশোরের এক খেলার দৃশ্যটি অতিরিক্ত বিরক্তিকর লেগেছে।

মুভিটি সবার ভালো নাও লাগতে পারে। বিশেষ করে যারা ২০১৬ এর টি-২০ বিশ্বকাপের ভাইরা-ভাইদের বলদামীর দোষ ধোনীকে দেন, তাদের হয়তো ভালো লাগবে না।

মুভিটি আমার কাছে কোন ক্রিকেটীয় মুভি নয়; বরং একটি অনুপ্রেরণা দানকারী মুভি। যতই বাধাবিপত্তি আসুক, মেধাবীরা সফলতা পাবেই। সেটার কাহিনী নিয়েই এই মুভি। সব মিলিয়ে দারুন।

রেটিং – ৪.০ / ৫.০

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১:৫৭
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×