somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজিন রিভিউ: Dangal

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শৈশবকালে টিভি খুললেই মারামারি টাইপ এক মঞ্চনাটক দেখতে বেশ মজাই লাগতো। নাটক শুরুর আগে বড় বড় হরফে নাম আসতো “WWE”! এটা বলে একটা খেলা! নাম আবার কুস্তি! অলিম্পিকে কুস্তি হচ্ছে শুনে সাথে সাথে টিভি খুললাম। দেখলাম, এইটা আবার কী? কই আন্ডারটেকার? কই রক? ধুর দেখুম না।
সেই আসল কুস্তি নিয়ে আমির খানের নতুন মুভি দঙ্গল। তাও আবার একই বছরে কুস্তি নিয়ে সালমান খানের হিট মুভি আসছে। পুরাই ডুববে। দঙ্গল নিয়ে যা আমি ভেবেছিলাম, ঠিক একই কথা সমাজ ভেবেছিল যখন গীতা এবং ববিতা নামক দুটি বাচ্চা মেয়ে কুস্তির ময়দানে নেমেছিল। সবার মুখে কুলুপ আঁটিয়ে তারা বর্তমানের কিংবদন্তী। ঠিক একই রকমভাবে দঙ্গল মুভিটি শুধু ভালো নয়, নিঃসন্দেহে সর্বকালের অন্যতম সেরা মুভি।

কাহিনী জানার তেমন কিছু নেই। সত্য কাহিনী। হরিয়ানার বিখ্যাত কুস্তিগীর মহাবীর সিং ফোগাত ( আমির খান) এর স্বপ্ন ছিল বিশ্বের দরবারে দেশের জন্য মেডাল জিতবে। দারিদ্রতা কাছে হার মেনে নিলেও স্বপ্ন ছিল তার ছেলে এই স্বপ্নপূরণ করবে। পর পর চারবার কন্যা সন্তান হবার পর নিজের স্বপ্নকে ধামাচাপা দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু কুস্তি কী শুধু ছেলেরাই পারে? শুরু হয় মেয়েদের নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখা। কিন্তু সবকিছু কী এতই সোজা? সমাজ কী বলবে? “মেয়েরা তো রান্না-বান্না আর বাচ্চা পালা ছাড়া কিছুই পারে না।“- এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে থাকা সমাজের বিরুদ্ধে তার লড়াই : “দঙ্গল”।

মুভিটির ভালোদিক বলতে গেলে কোন জায়গা থেকে শুরু করবো , এটা ভাবতেই অনেকক্ষণ লাগবে। বলা উচিত এটা কোন মুভি না। মনে হয় যেন কেউ কোন অভিনয় করছেনা। চোখের সামনে একজন মানুষ ও তার মেয়েদের মাথা উঁচু করবার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। সব কিছুই আসল। কুস্তির মার-প্যাঁচ, ঘাম , মাটি, অশ্রু, আবেগ, হাসির শব্দ, গ্রামের পরচর্চা – কোন কিছুতেই যেন বিন্দুমাত্র মিথ্যা নেই। আমি বিরাট কোন মুভি বোদ্ধা নই। সেকারণে আমি এরকম মুভি কখনই দেখি নাই। এটার কৃতিত্ব অবশ্যই নির্দেশক নিতেশ তিওয়ারির কাছে যায়। এছাড়া সাথে তো আছেনই এক জাদুকরী প্রযোজক আমির খান।
প্রসংশা শুধুমাত্র নির্মাণশৈলীতেই থেমে থাকবে না। কাহিনীতে আছে টান টান উত্তেজনা এবং দৃশ্যে দৃশ্যে হাসির খোরাক। মানতেই হবে মুভি শেষ হবার পর এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিল।

অভিনয় আমির খান যে ভালো করছেনে এটা বলার কোন দরকার নাই। তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা নৈপুণ্য। শালা মুভি করলেই পুরা বোমা ফাটায়! মানতেই হবে আমির খানের যুগে বেঁচে আছি এটা একটি গর্বের বিষয়।
এছাড়া অভিনয় কে বা ভালো করে নাই? গীতা ফোগাত চরিত্রে ফাতিমা সানা শেখ যে আছাড় দেয়াটাই না দেখাইলো! আমি তো হাত থেকে কলম পড়ে গেলেই উঠাতে আলসেমি লাগে। আর গীতার কৈশোর চরিত্রের অভিনেত্রী জাইরা ওয়াসিম, ১৫ বছর বয়স হয়ে যে বাঘের মতো লড়াই করে, কী আর বলবো। এছাড়া সানিয়া মালহোত্রা, সুহানী ভাটনাগার, সাক্ষী তানওয়ার, গিরিশ কুলকারনী সবাই দারুন করেছেন।

একটি মুভি অনেক সময় বিবৃত বা Narrate করা হয়। হিন্দী মুভিতে অনেক সময় একাজটি করে থাকেন অমিতাভ বচ্চন, ওম পুরী, পীযুশ মিশ্র এর মত নামীদামী অভিনেতারা। এই মুভিটি বিবৃত করছেন গীতা-ববিতার চাচাতো ভাই চরিত্রের অভিনেতা অপারশক্তি খুরানা। পুরাই ফাটায় ফেলসে। পুরা মুভিটিতে একদম অন্যরকম রোমাঞ্চ এনে দিয়েছেন।

আসল কুস্তি খেলাটি যে এরকম রোমাঞ্চকর হতে পারে আমার জানা ছিল না। গীতা একেকটি পয়েন্ট নিচ্ছিল আর আমি লাফায় উঠছিলাম। মুভিটিতে ইচ্ছা করলে স্লো-মোশান ব্যবহার করে খেলার কিছু অংশ দেখাতে পারতো। কিন্তু সেটা না করে পুরা খেলা কমেন্ট্রিসহ দেখানো হয়েছে যেটা খুবই উপভোগ করেছি। বুঝতেই পারছেন যে অভিনেত্রীরা কতটাই পরিশ্রম করে কুস্তি শিখেছেন। হয়তো ভাবতে পারেন এরা অন্যরকম মেয়ে। বেশিরভাগ মেয়েরাই তো ঢঙ্গী হয়। তারা এই সব কুস্তি পারতো না। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে গীতার কৈশোর চরিত্রের অভিনেত্রী জাইরা ওয়াসিম সেরকমই একটি লুতুপুতু সুন্দরী মেয়ে। শুরুতে সবাই ভাবসিল একে দিয়ে হবে না। নড়াচড়াই করতে পারে না, এইটা আর কী কুস্তি করবে? কিন্তু ৬-৭ মাসের পর শুটিং এর সময় এই মাইয়া পুরাই আগুন লাগায় দিসে।

মুভিটির খারাপ দিক তেমন কিছুই নেই। বলতেই যদি হয় সেটা হলো শেষের দিকে কিছু দৃশ্য যেগুলি দেখে মনে হয়েছিল “ ধুর, এইগুলাতো হিন্দী মুভিতে হয়!”। ভুলেই গিয়েছিলাম যে, হিন্দী মুভি দেখছি।
মুভিটির অসাধারণ দৃশ্যগুলি চোখের সামনে এখনও ভাসছে। মেয়েদের চুল কেটে দেয়া, মেয়েদের পা টিপে দেয়া, মেয়ের কান্নামাখা ফোন, ... কোনটা ছেড়ে কোনটা বলবো?

“সুলতান” এর সাথে তুলনা চলে আসলেও, বিশ্বাস করুন, এমুভির সাথে কোন কিছুরই তুলনা হয় না।
সবমিলিয়ে, প্রসংশা করতে শুরু করলে একসময় বিশেষণ খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

রেটিং – ৫.০ / ৫.০
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৩২
৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

×