somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটা জাতি কিভাবে বিভক্ত হয় সেই গল্প বলছি…

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা জাতি কিভাবে বিভক্ত হয় সেই গল্প বলছি…

শুরুটা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে, একটি নির্দলীয় আরাজনৈ্তিক আন্দোলন।
এতে একাত্বতা ঘোষনা করেছিল দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি সংগঠন, প্রত্যেক নাগরিক…
হাতে গনা কিছু জানোয়ার বাদে……

এরপর বলা হল এটা জামাত নিষিদ্ধ করার আন্দোলন।
এতেও সবাই খুশী। স্বাধীনতার বিরোধীতাকারী এই সংগঠনের যৌক্তিকভাবে বাংলাদেশে রাজনীতি করার কোন অধিকার নাই। আন্দোলন আগের চেয়েও জোরদার হল, সমর্থিত হল, প্রশংসিত হল…

এরপর বলা হল বিএনপি এবং জামাত ছাড়া যে কোন দল বা ব্যাক্তি এই আন্দোলনের অংশ।
এবার খুব একটা প্রশংসা পেলনা কথাটা। কারন এই আন্দোলনের প্রতি ৪ জন ব্যাক্তির মাঝে একজন এমন ছিল যে জীবনে কখনো না কখনো, কোন না কোন জাতীয়তাবাদী সংগঠন করেছে। এখান থেকে বিভক্তির শুরু।

এরপরও থেমে থাকেনি আন্দোলন। পরম মমতায় আম জনতা যখন আপন করে নিয়েছিল এই আন্দোলনকে, যখন অন্যান্য ইসলামিক সংগঠনও চেয়েছিল জামাত নিষিদ্ধ হয়ে যাক, যখন মাদ্রাসার মোল্লা-হুজুরেরাও যুদ্ধাপরাধীদের ফাসির দাবীতে সোচ্চার হয়েছিল, ঠিক তখনই কিছু হাম্বা বলে উঠল
“সকল ধর্মভিত্তিক সংগঠন নিষিদ্ধ করতে হবে”
এবার সত্যিই আঘাত পেল জনতার বিরাট একটা অংশ। কারন দেশের ৩৮টি রাজনৈ্তিক সংগঠনের মাঝে ১২টি ইসলামিক, দেশের প্রতি ৪টি অর্থনৈ্তিক সংগঠনের মাঝে একটি ইসলামিক, দেশের প্রতি ৩টি সামাজিক সংগঠনের মাঝে একটি ইসলামিক, প্রতি ২টি পরিবারের মাঝে একটি ইসলামিক…

তাও চলছিল আন্দোলন… এত বিভক্তির পরেও সকল বিভক্তির উর্ধে ছিল যুদ্ধাপরাদীদের বিচারের মহৎ উদ্দ্যেশ্য।

এরপর বলা হল এক ধর্মবিদ্বেষী মৃতদেহকে শহীদ উপাধী দিয়ে আন্দোলন কেন্দ্রে তার জানাজা পড়ানো হবে। যে নিজেই ধর্মকে ঘৃ্না করতো তার জোর করে জানাজা পড়িয়ে শুধু ধর্মকেই না, বরং সেই ধর্মবিদ্বেষীকেও অপমান করা হল। এবার বিভক্তি পরিষ্কার। এতটা হিপক্রেসি সহ্য করাটা সত্যিই কঠিন…

এবার খন্ড খন্ড হয়ে পড়ল জনতা। এবং তার সুযোগটা নিতে এক মুহুর্ত দেরী করেনি প্রতিপক্ষ। শুরু হয়ে গেল তান্ডব। আর ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত পেয়ে বাকী ১১ দলও এবার তাদের সাথে যুক্ত হল, যুক্ত হল মোল্লা-হুজুরেরা, যারা কিনা একসময় গলায় ঝুলিয়েছিল “ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই “

এবার আমার কিছু প্রশ্ন আছে…
এই আন্দোলনে দলীয় রাজনীতি টানা কি জরুরী ছিল?
এই আন্দোলনে ধর্ম টানা কি জরুরী ছিল?
এই আন্দোলনে হিপক্রেসি করা কি জরুরী ছিল?
এই আন্দোলনে কি শুধুই অনলাইন যোদ্ধাদের, জনতার না?
এই আন্দোলনে জনতার অনুভুতির কি কোনই মুল্য নেই?

আমার মনে হয় আমাদের সবার দাবী একটাই হওয়া উচিৎ
"দাবি একটাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই"
আমার আর আপনার পরিচয় বাঙ্গালী এবং বাংলাদেশী….
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১২:৩১
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×