somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামহীন ছোট গল্প ৩

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পলাশের খুব মন খারাপ । তার জীবনে প্রথম যে মেয়ে কে দেখে মনে ব্যাথা শুরু হয়েছে মানে বুক দুরুদুরু হাত পা কাঁপাকাঁপি শুরু হয়েছে মানে তার প্রথম ভালোবাসার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে । কিন্তু তার কিছুই করার নেই । কারণ তার প্রথম ভালোবাসা যে তার ৩ বছরের বড় । তাকে সে সবার সামনে আপু বলেই ডাকে । তার প্রথম ভালোবাসার নাম সে নিজে দিয়েছে পুতুল । পুতুল যখন দশম শ্রেণিতে পড়ে তখনই পলাশ তাকে প্রথম দেখে স্কুলে । আর সে দিনই পলাশের ঐ স্কুলে প্রথম দিন ছিল কারণ তার বাবা পাকাপাকি ভাবে এখানে চলে এসেছে । পুতুল কে দেখেই সে তার নাম দিয়ে দেয় মনে মনে । পুতুল মেয়েটির বাসা তার বাসার পাশে অর্থাৎ তার বাসার ২টা বাসার পরেই ।
সেই থেকে লুকিয়ে দেখা পুতুল কে । বাসা পাশাপাশি হওয়াতে তাদের মধ্যে পরিচয় হতে বেশি দিন লাগে নি । পলাশ পুতুলকে দেখলেই ভয় পেত তাই কথা একটু কম বলতো । পলশের মনে হতো কথা একটু বেশি বললেই সে ধরা পড়ে যাবে পুতুলের কাছে তার ভালোবাসা প্রকাশ পেয়ে যাবে পুতুলের কাছে । আর পুতুল সে পলাশের সাথে দেখা হলেই বলতো , ''ভালো মতো পড়াশুনা কর । রেজাল্ট ভালো করতে হবে । সাহায্য লাগলে বলিস । আমি সাহায্য করবো ।কোন কিছু না বুঝলে বলিস । "
পলাশ প্রতি উওরে বলতো শুধু জ্বী আচ্ছা ।
পুতুল কলেজে ভর্তি হবার পর কোন এক ছেলের প্রেমে পড়ে । ক্লাস আর কোচিং এর ফাঁকে ভালই প্রেম চলছিল পুতুল এর । পলাশ প্রথম যে দিন এ কথা শুনে পাড়ার ছেলেদের কাছে তখন ওর বিশ্বাস হয় না । কিন্তু যখন ও নিজের চোখে দেখে তার পুতুল আরেক জনের সাথে রিকশায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তখন তার চোখ দিয়ে আপন আপনিই পানি বের হয়ে আসে । ঐ দিন রাতে সে আর ঘুমাতে পারে নি আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে আর কথা বলবেনা পুতুলের সাথে । কিন্তু পরের দিন সকালে স্কুল যাওয়ার পথেই পুতুলের সাথে দেখা ।
পুতুল- কিরে পলাশ কেমন আছিস ? এখন দেখাই যায় না তোকে ? কই থাকিস ?
পলাশ - ভালো । আপনি কেমন আছেন আপু ? আপু আসলে দেখার ইচ্ছা থাকলেই দেখা যায় ।
পুতুল - কিরে বড় বড় কথা বলা শিখছিস দেখছি । তা পড়াশুনা কেমন চলছে ?
পলাশ - আরে না যা সত্য তাই বলছি । পড়াশুনা ভালোই চলছে ।
পুতুল - কিরে প্রেমে পড়ছিস নাকি ? চেহারার এ অবস্থা হইছে কেন ?
পলাশ - আপু প্রেমেতো আমি কবেই পড়েছি ।কিন্তু জানেন আপু আমি যার প্রেমে পড়েছি সে এখনো জানে না যে আমি তার প্রেমে পড়েছি ।আর সে এ সুযোগে আরেকজনের সাথে প্রেম করে বেড়াচ্ছে ।
পুতুল - হ্যাঁ বুঝলাম তুই বড় হইছিস । যাই কলেজে যাই ক্লাস আছে । ভালো থাকিস ।
পলাশ - আচ্ছা ।আপনিও ভালো থাকবেন ।
তখন থেকেই চলছে পুতুলের সাথে লুকোচুরি । পুতুল ঐ ছেলের সাথেই প্রেমের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে রইলো ।
আর পলাশ মনে মনে দোয়া করতে লাগলো যেন তাদের প্রেমটা ভেঙ্গে যায় । কিন্তু তা না হয়ে সম্পর্ক আরো শক্ত হয়ে টিকে রইল । পুতুলের প্রেমিকটা অনেক ভালো ছেলে । পুতুলকে অনেক ভালোবাসে ।এ সব কিছুই পলাশ জানে । তারপরেও পলাশ মনে মনে চাইতো যেন তাদের প্রেমটা ভেঙ্গে যায়।
পলাশ বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষে পড়ছে । তার বাসাতে তার পুতুলের বিয়ের কার্ড এসেছে । তার পুতুলের বিয়ে সেই প্রেমিকের সাথেই ।
পলাশ জানে ছেলেটি তার পুতুল কে অনেক সুখেই রাখবে । তারপরেও মনের কোণে ব্যাথা হচ্ছে প্রথম প্রেম বলে কথা ।
আজ পুতুলের বিয়ে । কিন্তু পলাশ বাসাতে নেই সে বসে আছে নদীর পাড়ে । তাকে পুতুল বার বার করে বলেছে তার বিয়েতে আসতে । আর পলাশ নদীর পাড়ে বসে ভাবছে । কেন যে এভাবে প্রেমে পড়লাম ।আর এখন কষ্ট পাচ্ছি মনে মনে । আর পুতুল কেওতো বলিনি আমি যে তাকে ভালোবাসি । থাক আর বলে কাজ নেই । তারপরেও মনের কোণে ব্যাথা হচ্ছে প্রথম প্রেম বলে কথা । না এভাবে কষ্ট পেলে নিজেরই ক্ষতি হবে । পলাশ উঠে দাঁড়ালো । মনের সকল কষ্ট জলাঞ্জলী দিয়েই সে হাঁটতে লাগলো তার বাসার পথে ।
তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ১২:০৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথের নামে কত শত অভিযোগ

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৫


*রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা চুরি করে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! বাস্তবতা হলো, রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পান, নজরুল তখন লেখালেখেই শুরুই করেননি। তাঁর বয়স সবে ১৪ ছিল।

প্রাপ্ত বয়সে নজরুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাটায় - পুটায় ঘষাঘষি, মাঝখানে মরিচদের জীবন শেষ?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩১

আওয়ামী তথা ভারতীয়দের নমস্য রবী বাবুর চিত্রে কালিমা লেপন।
দুই দিন পরে, আওয়ামী বিরোধীদের 'রবী' ইউনুস সাহেবকে গালাগালি!!!
এ যেন পাটাপুটায় ঘষাঘষি করে অভাগা মরিচদের জীবন শেষ করার চেষ্টা?
কিন্তু, রবী বাবু কিংবা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা প্রেমিকদের কলমে সময়ের বিবেক : বিশ্ব কবি রবিন্দ্র নাথ ঠাকুরের গ্রাফিতেতে কালী লেপন প্রসঙ্গ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৩৪


যে কবির গানে ভোরের আকাশ জেগে ওঠে প্রতিদিন
যাঁর সুরে আজও অশ্রু ঝরে হাসে হৃদয় রঙিন
সেই রবীন্দ্রনাথের ছবির বুকে কালি মাখায় যারা
তারা কি জানে তাঁরই গানে বাঙালির প্রাণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূল (সা.), আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুচিত কাজের সমালোচনা ও সমর্থন করা যাবে না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৪১




সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৭ থেকে ৬৯ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৭।দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দী রাখা কোন নবির উচিত নয়। তোমরা পার্থিব সম্পদ কামনা কর। আল্লাহ চান... ...বাকিটুকু পড়ুন

রঠার মুসলিম বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:১৮



রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্ষেপে রঠা এর ছোট গল্প "রীতিমত নভেল" এ রঠা মুসলমান শব্দের সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন ‘যবন’। যবন অর্থ অসভ্য, ম্লেচ্ছ, অপবিত্র, বর্বর জাতি, যেকোনো বিদেশি ইত্যাদি ইত্যাদি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×