শুরু হয়ে গেছে আবারো!!
হলি আর্টিসান বেকারী ট্রাজেডি নিয়ে আওয়ামীপন্থীরা বলছেন জামায়াত-বিএনপি জড়িত আর বিএনপি- জামায়াতের সমর্থকরা বলছেন আওয়ামীলীগ জড়িত।
ধরুন আপনি জামায়াত করেন আপনার ছেলেও কাল জিম্মি আপনি কি করবেন বা ভাববেন?? ছেলেকে কে জিম্মি করলো? আওয়ামীলীগ? কেন করলো? রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে? কিভাবে করলো? নাকি ভাববেন, আমার সন্তান সুস্থ্য ভাবে জীবিত ফিরে আসুক??
আসলে আমরা দোষারোপ করে হয়তো খানিক উত্তেজনা বোধ করি, নিশ্চিন্ত হই। কিন্তু সত্যিটাকে দুরেই সরিয়ে রাখি।
আল্লাহের তৈরী এই সুন্দর পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠ জীব আমরা, মানুষরা। আমাদের ছেলের বয়সী আধুনিক, স্মার্ট এই যুগের ছেলেরা সারা বিশ্ব হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় তাদের স্মার্ট ফোনে। তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশী বুঝে, জানে। তাদের চিন্তা ভাবনা অনেক স্বচ্ছ এবং পরিষ্কার। তারা যখন কোন ভুল করে, অনেক বেশী অবাক হই তারচেয়েও বেশী মর্মাহত হই। বাবারা তোমরা ইচ্ছে করলেই জানতে পার সারা পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা। তোমরা চাইলে তোমার হাতের ফোনেই পেতে পার কোরআন এর সম্পূর্ণ অর্থ। জিহাদ নিয়ে কোরআন এ কি বলা আছে? কিভাবে বলা আছে?
বাবারা তোমরা একটু চেষ্টা করলেই জানতে পারতে, আমাদের মুসলমানদের জন্য আল্লাহ দিয়ে দিয়েছেন সম্পূর্ণ জীবন বিধান "আল কোরআন"। যেখানে স্পষ্ট বলা আছে বিনা আপরাধে একজন মানুষ মারলে তা সমস্ত মানবজাতিকে হত্যা করার সমান। আর সেখানে বিশ বাইশ জন মানুষ হত্যা করা কতটা বড় ভূল!!
বাবারা তোমরাতো ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলে, সেখানে কি শিখায় জানিনা। কিন্তু তোমরা নিজেদের বিবেক হারালে কিভাবে? তোমরা এত বড় একটা বিশাল কাজ!! এ যাবার আগে একবার ভেবে দেখলে না কি করছো? কেন করছো? কার এতে উপকার হবে?
এত ফুটফুটে নিরীহ তোমাদের চেহাড়া, আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে তোমাদের মুরগী জবাই করতে বললে করতে পারতে? একটা নিরীহ প্রানী জবাই করতে গেলেও কষ্ট লাগে সেখানে মানুষ জবাই?? আল্লাহ তুমি আমাদের রহম করো। আমাদের ছেলেদের মন এত কঠিন কিভাবে হয়? এত নিষ্ঠুরতা কিভাবে পেয়ে বসে এই শান্ত স্নিগ্ধ যুবকদের? কারা এর পেছনে? যারা মেধা, বুদ্ধি দিয়ে এই নরম মনের সন্তানদের এমন নিষ্ঠুর বানিয়ে দিচ্ছে? তাদের ধরাছোয়ার বাহিরে থাকা আমাদের সন্তানদের জন্য কতটা নিরাপদ!!!
ছবি গুলো দেখছি আর ভাবছি আমাদের সন্তানরা আমাদের এ কি কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দিচ্ছে? আমাদের এখনই ঘুরে দাঁড়ানো উচিত। সন্তান কোথায় যায়? কার সাথে মিশে? তার বন্ধু কারা? তার আইডলজি কি? তার সাথে অনেক বেশী কথা বলতে হবে, সময় দিতে হবে, মিশতে হবে বন্ধুর মতোই। তাকে বোঝাতে হবে আল্লাহ আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন তার ইবাদত করার জন্য মানুষের উপকার করার জন্য। কারো ক্ষতি করার জন্য না।
আমাদের চারপাশে কি হচ্ছে? খেয়াল রাখতে হবে আশেপাশেও। আমরা আরেকটা হলি! আনহলি ট্রাজেডি দেখতে চাই না।
যাদের পরিবারের অংশ হারিয়ে ফেলেছে তাদের আল্লাহ তায়ালা শক্তি দেক এই শোক, কষ্ট কাটিয়ে উঠার জন্য। আমরা সবাই প্রস্তুত থাকি আর রহম চাই আল্লাহের কাছে। আল্লাহ আপনি আমাদের সবাইকে হেদায়েত করুন। সত্য মিথ্যা চিনতে শেখান। ভাল-মন্দ বোঝার ক্ষমতা দিন। আমাদের হেফাজত করুন।


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০১৬ দুপুর ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


