somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বজরঙ্গী ভা্ইজান ও আমাদের চলচিত্রের অবস্থান .......২০.০৭.২০১৫

২৭ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কথা ছিল, সিনেমা হলে গিয়ে বাংলা চলচিত্র দেখবো। দেখলাম, তবে ঘরে বসেই আরাম করে নতুন সালমান খানের হিন্দি চলচিত্র। আগেই ভেবেছিলাম সাধারন মারদাঙ্গা টাইপ ও ঈদের বিজনেস করার ফমূলা নিয়ে এই চলচিত্র। কথা ঠিক, বিজনেস করেছে ঠিকই, ফমুলাটাকে একটু ঘুরিয়ে দিয়ে। ভারতে প্রচুর চলচিত্র তৈরী হয়, অনেক চলচিত্র আমাদের বাংলাদেশের কর্মাশিয়াল চলচিত্র থেকে ও খারাপ হয়, কিন্তু ওরা প্রতি দশক যে হারে নিজেদের পরিবর্তন করছে, আমরা তার ধারের কাছেও নেই। এবার আসি এই চলচিত্রটি নিয়ে কিছু কথা, ধরুন আপনার মন খারাপ, কোন কিছু ভালো লাগছে না, ইট পাথরের মানুষদের দিকে তাকিয়ে ও কোন আবেগ ধরছে না। তাহলে এই চলচিত্রটি দেখে আপনার চোখে অটোমেটিক কান্না চলে আসবে। একটা সাধারন গল্প কে কিভাবে অসাধারন ও আবেগময়ী করতে পারে তারই মুন্সিয়ানা এই ছবির, যদি ‘লেলের মেরে সেলফি’ এর মতো গান ও আছে এবং অনেক ফুটেজ ও অতিরিক্ত। তার পর ও দর্শক কে ঠিকই ধরে রাখবে , এই অনবদ্য মুভিটি। আমি মুভিটির ব্যবসা সফল তার কল্যান কামনা করছি।

বাংলাদেশের চলচিত্র নিয়ে, সাধারন মানুষ হিসাবে কিছু কথা-
* আমরাও বাংলাদেশীরা চলচিত্র দেখতে চাই এবং এক দশক আগেও দেখতাম, সিনেমা হলে। কিন্তু মাত্র ৩/৪ টি হল ছাড়া আর কোন হল ই চলচিত্র দেখে ডাক্তার খরচ ছাড়া আপনি বাড়ী ফিরতে পারবেন না।
* দ্বিতীয় সমস্যা হলো টিকিট নাই, আগেই কালো বাজারে তা বিত্রি হয়ে যায়, যা এখনো হাস্যকর লাগে,
* চলচিত্রটির কোন গল্পই নাই, থাকলেও বলে দেওয়া যায়, কি হতে পারে,
* গল্পের প্রয়োজনে নারী শরীর প্রদর্শন করতে হয় , বুঝলাম । কিন্তু তা এত টাই বমি কর , যে পুরুষ মানুষের উত্তেজনাও বরফ হয়ে যায়।
* তার উপর পুরো সিনেমা ইন্ডাস্টি টা যেহেতু কাচা টাকার জায়গা, তাই মাছ ব্যবসায়ী, পুরান ঢাকার চালের গুমামের মালিকদেরই এখন জয়জয়কার , সুতরাং দর্শক ধরে রাখার কোন ইচ্ছাই মনে হয় নেই,
* তার উপর সিনামা টাইম ও একটা ব্যপার, শেষ হতে হতে রাত হয়, থাকে না কোন ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা এবং পযাপ্ত নিরাপত্তাও নাই।
তাই এত ঝামেলা করে মধ্যবিত্তের মানুষ কস্টের টাকায় কেনই বা সিনেমা হলে যাবে? তার থেকে ইন্টারনেট থেকেই তো দেখবে , বা কপি এন্ড পেস্ট করবে, এটাই স্বাভাবিক।


আমি ব্যক্তিগত ভাবে আর্ট ফিল্ম, মন্চ নাটক ও শর্ট ফিল্ম এর পরিবেশের সাথে অনেকদিন ধরেই অল্প বিস্তর যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের এই সব জায়গায় এখনো অনেক ভালো কাছ হচ্ছে, শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন। আমাদের মেধা রয়েছে, শুধু নাই উপযুক্ত সিস্টেমএর রোড ম্যাপ। সবই যেন রাজনৈতিক। হাগু ধরলো, সেটাও রাজনৈতিক। তাই নির্মল বিনোদন চলচিত্র, সেটাও চামচা ও অতি জ্জানী দের দখলে চলে গেছে।

’ডার্টি পিকচার’ মুভির একটা ডায়লগ আছে, দর্শক চায় ইন্টারটেইনমেন্ট , ইন্টারটেইনমেন্ট ও ইন্টারটেইনমেন্ট। সুতরাং উন্মুক্ত বিশ্বের মতো এখনো শাকিব খান, অপু বিশ্বাস ও আরো অনেকের ক্ষেত স্টাইল আমাদের চাইলেও জোর করে গিলিয়ে দেওয়ার টাইম চলে গেছে। আমরা মধ্যবিত্তের দল চাই , টমক্রুজের মতো ষ্টাইল, শাহরুখের মতো ডায়লগ থ্রো, মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর ব্যচেলর চলচিত্রের উন্মাদনা।

তাই ডিম আগে না মুরগী আগে, এই তর্ক না করে, পুরাতন সিনেমা হল গুলো সংস্কার করা উচিত। ধরেন সংস্কার করলো, তার পর কি হবে, ’এই মন, তোমাকে, আমাকে, তাহাকে দিলাম, টাইপ মুভি দিয়ে সিনেমা হল চলবে না। আবারো, শেওলা জমে যাবে । তাই দরকার, ঝকঝকে নতুন ঈদের মুভি, পুজার মুভি, নববর্ষ এর মভি। হিন্দি নতুন মুভিও, ইরানী, আমেরিকান, ফ্রান্স ইত্যাদির মুভি আমাদের বাজারে ওপেন করে দিতে হবে। তাহলে হল মালিকরা, ব্যবসা কন্টিনিউ করবে। আর সিনেমা হল ভেঙ্গে, মার্কেট বানাবে না।
তাই সরকাররের উচিত, নিজে না পারলে, দাতা সংস্থা গুলোর সাথে চলচিত্রের ব্যপারে নতুন নতুন প্রজেক্ট করে , এমনকি ফ্রান্স, ভারত, আমেরিকার চলচিত্র ইন্ডাস্টির সাথে একটা লিংক আপ করে , আমাদের বিনোদনের ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা। এতে রাজস্ব ও বাড়বে, জনসাধারনের কল্যান ও আমাদের মযাদা বাড়বে। আমরাও ইরানি মুভির মতো একটা রেভুলেশন এনে দিতে পারবো।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১৫ রাত ১:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×