somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্ধকার আছে, আলোও আছে

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অন্ধকার আছে, আলোও আছে
------------- ড. রমিত আজাদ

এক ফেইসবুক ফ্রেন্ড খুব হতাশাজনক একটা পোস্ট দিয়েছেন। তাই দেখে মনটা খারাপ হলো। আসলে মনে কষ্ট পেলে এরকম পোস্ট দেয়াটাই স্বাভাবিক। যারা হঠাৎ হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তাদের জন্য একটা ক্ষুদ্র ঘটনা শেয়ার করছি।

অনেকগুলি বছর আগের কথা, তখন ইউক্রেইনে পড়ালেখা করছি। নব্বই-এর সেই উত্তাল দিনগুলোতে ওখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ ছিলো। শহরে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন অঘটন ঘটে। জবাবদিহীতার বালাই নেই, তাই দুষ্ট লোকেরা যা খুশী তাই করে। দিনের বেলায়ও অনেক সময় অপরাধ সংঘটিত হতো, আর সূর্যাস্তের পর তো কথাই নেই। এরকম এক সন্ধ্যায়, ডরমিটরীতে আমার রূমের দুই রূম পরে একটি রূমে গেলাম আমার ইয়েমেনী সিনিয়র ফ্রেন্ড আলীকে কিছু বলতে। উনার রূমে দরজা নক করে কোন সাড়া পেলাম না, বুঝলাম রূমে উনি নেই। ফিরে আসবো, এ সময় হুড়মুড়িয়ে ঐ ব্লকে (দুই রূম মিলিয়ে একটি ব্লক) ঢুকলো দুই তরুণী। আলীর পাশের রূমে নক করলো তারা। সেখান থেকেও কোন সাড়া আসলো না। এবার আমি ওদের দিকে তাকালাম, ওদের একজনকে আমি চিনলাম। ঐ রূমে ঝেনিয়া নামে এক ছেলে থাকতো, তার বড় বোন, ঐ তরুণীও আমাদের ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। আমি বললাম, "ওরা বোধহয় নেই।" তরুণীটি আমাকে চিনলো, আগে দু'একবার দেখেছে আমাকে, তবে করিডোরে দাঁড়িয়ে 'হ্যালো কেমন আছো?'-র বেশী কথা কখনো হয়নি। সে আমাকে বললো, "আপনার রূমে কি একটু বসতে পারি?" ওদের আচরণে মনে হলো ওরা খুব শংকিত বা কোন একটা ঝড় চলে গিয়েছে এই মাত্র ওদের উপর দিয়ে। আমি বললাম, "চলুন।"

ভাগ্যের কল্যাণে আমি একা এক রূমে থাকতাম। তাই ঝামেলা ছিলো কম। ওদের রূমে এনে বসালাম। কফি দিলাম। টিভি সেট অনই ছিলো। টিভি দেখতে দেখতে, কফি খেতে খেতে ওরা কিছুটা ধাতস্থ হলো। তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আপনাদের কি হয়েছে?" এরপর ওরা হরবর করে বললো যে, ওরা নিজ ডরমিটরী থেকে বেরিয়ে (ওদের ডরমিটরীটা আমাদেরটা থেকে শ'দুয়েক মিটার দূরে হবে, দুজনই আমাদের ইউনিভার্সিটির ছাত্রী) কোথাও যাচ্ছিলো, হঠাৎ দু'জন বজ্জাত ওদের দিকে তেড়ে আসে, আক্রমণ করতে চাইছিলো বা টেনে-হিঁচড়ে কোথাও নিয়ে যেতে চাইছিলো এমন। ওরা তাড়াতাড়ি আশ্রয়ের জন্য আমাদের ডরমিটরীর দিকে পালিয়ে আসে, যেহেতু ছোট ভাই এখানে আছে। তারপরেও ওরা ভিত ছিলো যদি বজ্জাতগুলো এই ডরমিটরীতে চলে আসে বা নীচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে! আমি বললাম, "হ্যাঁ, এরকম তো এখন প্রায় প্রতিদিনই হচ্ছে। সাবধান থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। যাহোক, এখন তো আপনারা এখানে, আর ভয় নাই।"

একটু পরে ইয়েমেনী আলী এলো আমার রূমে। ওদের দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো। আমি সবকিছু বললাম। সেও খুব সিমপ্যাথী দেখালো। আলী খুব মিশুক ছিলো। তরূণীদের কাছে আরো বেশী মিশুক! দ্রুত ওর রূমে চায়ের পাশাপাশি আরো কিছু নাস্তার ব্যবস্থা করলো। তারপর শুরু হলো জমিয়ে আড্ডা। মনে হলো এই সন্ধ্যায় নয়, আমরা অনেক আগে থেকেই পরিচিত। গল্পগুজব হাসি-ঠাট্টা করে সুন্দর একটা সন্ধ্যা কাটলো। পরিশেষে তরূণীরা বললো, "ভেরী ইন্টারেস্টিং! দুই-একটি বজ্জাতের তাড়া দিয়ে প্রবল শংকার মধ্য দিয়ে সন্ধ্যাটা শুরু হয়েছিলো, আর তার পরপরই পরিচয় হলো দুজন সজ্জনের সাথে। এই পৃথিবীতে খারাপ মানুষের পাশাপাশি ভালো মানুষও আছে!"

তাই বলি, কেউ যদি আপনার মনে কোন আঘাত দিয়ে থাকে, এতে একেবারে মুশড়ে পড়বেন না। অনেকেই আছে যারা আপনার বন্ধু, আপনার একান্ত শুভাকাঙ্খী! এরা অনেক সময় চেনাও হয়, অচেনাও হয়। অসুর-হিংসুটে মানুষগুলো আপনার পৃথিবীটাকে যেমন বেসুরো-অসুন্দর করে ফেলে, তেমনি শুভ-সুজন মানুষগুলো আপনার পৃথিবীটাকে সুর-ছন্দে ভরে দিয়ে সুন্দর করে তুলতে পারে।

এই পৃথিবী বৈপিরিত্যে ভরপুর।
এখানে যেমন শত্রু আছে, তেমনি মিত্রও আছে,
ঘৃণা আছে, ভালোবাসাও আছে,
বেসুরো কর্কশতা আছে, সুরের ঝংকারও আছে,
অন্ধকার আছে, আলোও আছে,
দুঃখ আছে, সুখও আছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ২:১৭
১৩টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×