somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য

০৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শত কিংবা হাজার বছর পরে যদি এই পৃথিবী টিকে থাকে, তাহলে বচ্চারা যখন আজকের এই বৈশ্বিক মহামারীর ইতিহাস পড়বে কিছুটা এমন হবে; “২০২০ সালে SARS-CoV-2 ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নোবল করোনা বা COVID-19 রোগে যখন সারা পৃথিবী দিশেহারা, তৎকালীন পরাশক্তি আমেরিকা ধরাশায়ী। সবদিকে অভিজাত এবং উন্নত ইউরোপীয় দেশ সমূহ কেঁদে কুল পাচ্ছে না। অবস্থা এমন হয়েছে যে লাখে লাখে আক্রান্ত হচ্ছে হাজারে হাজারে মানুষ মারা যাচ্ছে। যুবক, বৃদ্ধ, ধনী, গরিব, আর্মি, পুলিশ, মন্ত্রী, সরকার প্রধান থেকে কর্মকর্তা কেউ রেহাই পাচ্ছে না। বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বসে পড়েছিল। সারা পৃথিবী থমকে গিয়েছিল, বিমান থেকে শুরু করে পাবলিক বাসসহ সব যোগাযোগ বন্ধ। তখন পৃথিবীর খুব ছোট্ট একটা অত্যাধিক ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ছিল অবিচল, সে দেশের মন্ত্রীরা ছিল ভাইরাসের চেয়েও বেশি শক্তিশালী। ১৮ কোটি জনসংখ্যার ছোট সেই দেশের মানুষ গুলোও ছিল মেলা বিচিত্র। তারা অন্যের ক্ষতি করার জন্য নিজের নাক কাটতেও দ্বিধা করতো না। খুবই উদাসীন, হিংসা কাতর, হুজুগে, একগুঁয়ে এবং ঠাট্টাবাজ জাতি ছিল তারা। এমন সব মজার মজার কান্ড করতো তারা যা পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোন জাতি চিন্তাও করতে পারতো না যেমন; একজন সন্দেহভাজন ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে কোয়ারেন্টিন যে আলাদা করে রাখলে বাকিরা দোল বেঁধে দেখতে যেত। ওরা ভাইরাসের ব্যাপারেও ছিল উদাসীন এবং একগুঁয়ে। সরকার যা করতে না করে তাই বেশি করে, অসহায়ের জন্য বরাদ্দ অনুদান চুরি করে তাদের দলপতিরা। সারা পৃথিবীর বাঘা বাঘা বিজ্জানীরা যখন সেই ভাইরাসের প্রতিষেধক বানানোর জন্য গলদগর্ম অবস্থা তখন সেদেশে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভাইরাসের ঔষধ বিক্রি হতে শুরু হলো। সেদেশের সরকারও ছিল বেশ খোশ মেজাজি, জনগণের সাথে মজা করতো খুব। অফিস আদালত খোলা রেখে স্কুল বন্ধ করে দিত, সাধারণ যানবাহন বন্ধ করে দিত কিন্তু কাজে যেতে হবে মানুষকে। ডাক্তাররা ভাইরাসের অজুহাতে সাধারণ সর্দি-কাশির চিকিৎসা দিতেও নারাজি হয়ে গেল কিন্তু সরকার কিছু বললো না। হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ মারা যেত, সামান্য সর্দি-কাশিতে এতো মানুষের মৃত্যু পৃথিবীতে আর হয়েছে কিনা কারো জানা নেই। তখন সে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এমন এক চতুর কৌশল নিয়েছিল যে, যেদিন আমেরিকায় আক্রান্ত রোগী ৩ লক্ষ ছাড়িয়ে যায় সেদিনও বাংলাদেশে মাত্র ১০০ এর মত অথচ তাদের মত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে আক্রান্তের সংখ্যা হবার কথা আকাশচুম্বী। তাদের কৌশল ছিল সবার চেয়ে আলাদা, কেউ আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে তাদের পরীক্ষা করতো না, ঔষধ দিয়ে আলাদা থাকতে পরামর্শ দিত। একা থেকে মারা যাবার পরে গিয়ে পরীক্ষা করতো কাউকে কাউকে আবার অনেককে করতোও না। ফলাফল ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ কম এবং মৃতের সংখ্যাও কম।“

তাদের পাশের আরেকটা দেশ ছিল এদের চেয়ে আরেক কাঠি উপরে। তারাও প্রতিবেশীদের কৌশল অনুসরণের পাশাপাশি নিয়েছিল বেশ মজার কিছু কৌশল যেমন: ভাইরাসের সংক্রমণ না ঠেকিয়ে তারা "গো করোনা গো" স্লোগান শুরু করলো, ঔষদের পিছে না ছুটে গরুর মূত্র পান করতে পরামর্শ দিল, ডাক্তারদের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে দেশের জনগণকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ঘন্টি বাজাতে বললো, লাইট নিভিয়ে মোমবাতি জ্বালাতে বললো। ব্যাপারটা এমন দাড়ালো যেখানে পৃথিবীর পরশক্তি দেশ গুলো নাজেহাল সেখানে এরা ব্যাস ঘন্টি বাজিয়ে আরে মোমবাতি জ্বেলে করোনা মোকাবেলা করে ফেললো। সরকার নিজের মত মজা করে গেল জনগণের সাথে, আর সাধারণ জনগণ মজায় ধেই ধেই নেচে মারা গেল।

রূপকথার সেই দেশ, আমার গল্প শেষ।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ১২:১৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম কৃষকের

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

Click This Link

পঞ্চগড় এলাকায় ৪ টা লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায় ! ইত্তেফাকের মত প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রে আসা এ সংবাদ অসত্য বা অতিরঞ্জিত না হলে বিষয়টা একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২



শিশুর নিরাপত্তা কোনো প্রতিষ্ঠানের সুনামের চেয়ে বড়

গতকাল এক বাবার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে একটি মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল যৌন নিপীড়ন করেছেন। বাবার প্রতিক্রিয়া সঠিক ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×