somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাষা আন্দোলনে নারী

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২১ ফেব্রুয়ারীর সাথে একযোগে উচ্চারিত হয় সালাম, বরকত, জব্বার প্রভূতি শহীদদের নাম। যারা ১৯৫২ সালের এই দিনে রক্ত ঝরিয়ে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল নতুন করে। ভাষা আন্দোলনের এই দিন শহীদ দিবস থেকে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রূপ নিয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারী এখন শুধু বাংলাদেশের নয় ২১ ফেব্রূয়ারী এখন সারা বিশ্বের।

বিশ্বের সব বড় কাজ নাকি নারী ও পুরুষে মিলেমিশে করেছে-........অর্ধেখ তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর.......ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন জাতীয় আন্দোলন। এই আন্দোলনের শুরু হয়েছিল পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে। তবে এর শেকড় ছিল চল্লিশের দশকেই। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা দাবির প্রথম বিষ্ফোরণ ঘটে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের এক জনসভায়। দ্বিতীয় এবং অনেক বেশি শক্তিশালী বিষ্ফোরণ ঘটে ১৯৫২-র ফেব্রুয়ারীতে। ক্রমেই এই আন্দোলনের দাবী শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে এ আন্দোলন বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদের মধ্য দিয়ে এ আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও দেশের আপামর জনগণ, নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা দলমত নির্বিশেষে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। মেয়েদেরও ছিল সক্রিয় সহযোগিতা।

পঞ্চাশের দশকে রক্ষণশীল সমাজের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ছাত্রদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও একুশের ভাষা আন্দোলনের সংগ্রাম এ গভীর ভাবে জড়িয়ে ছিলেন, তারা বিক্ষোভ মিছিল এবং ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সমাবেশে যোগ দেন। আহত ছাত্রদের বিকিঃসার সাহায্যার্থে প্রতিকুল পরিবেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলে আনেন। ছাত্রদের পুলিশি নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে তাদের নিজেদের কাছে লুকিয়ে রাখতেন। আবার বন্দি ছাত্রদের জন্য খাবার সংগ্রহ করতেন। পোষ্টার লেখা, এমন কি শহীদ মিনার গড়ার জন্য প্রায় সারারাত ধরে ইট বহন করেছিল তঃকালীন মেয়েরা। তেমন কিছু নারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা নিচে তুলে ধরা হলো-

ভাষা আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণের সঠিক তথ্য নেই। শুধু বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু তথ্য জানা যায়। ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেও কবি বেগম সুফিয়া কামাল। অনেক কর্মীর সঙ্গে তার ছিল নিবিড় যোগাযোগ। '৫২- এর ভাষা আন্দোলনে ভাষাকন্যা নাদেরা বেগম পুলিশের ঘেরাও থেকে আত্মগোপন করেছিলেন। সে সময় সুফিয়া কামালের বাসায় ছিলেন বোনের মেয়ের পরিচয়ে। নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দিয়েছিলেন জাহানারা। মুনীর চৌধুরীর বোন নাদেরা বেগমকে হাটখোলার তারাবাগের বাসায় লুকিয়ে রেখেছিলেন সুফিয়া কামাল। কিছু দিন পর ঘটনাটা জানাজানি হয়ে গেলে পরে পুলিশ তাকে বন্দি করে। কারাগারে অন্য রাজবন্দিদের সঙ্গে তিনি কঠোর নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হন। তার বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য সে সময় তিনি কিংবদন্তিতে পরিণত হন।
ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ছিলেন মমতাজ বেগম। তিনি নারায়নগঞ্জ মডার্ন হাই স্কুলের প্রধন শিক্ষিকা। তিনি সে সময় যুবলীগ নেতা শামসুজ্জোহা, সফি হোসেন খান এবং ড. মুজিবুর রহমানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এক পর্যায়ে তিনি কারা বরণ করেন। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, কারাগার থেকে বন্ড সই করে মুক্তিলাভে অস্বীকৃতি জানানোয় মমতাজ বেগমের স্বামী তাকে তালাক দেন। এজন্য তার সাজানো সংসার ভেঙ্গে যায়। এছাড়া তার ছাত্রী ইলা বকশী ও বেনু ধরও কারাবন্দী হন। খুলনার স্কুল ছাত্রী হামিদা খাতুন নারীদের ঐকবদ্ধ আন্দেলনের প্রচেষ্টায় লাঞ্ছিত হন।
ভাষা আন্দোলনে আরও যেসব নারীদের প্রধান ভূমিকা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম সিলেটের যোবেদা খাতুন চৌধুরীর। তার সহযোগীতায় ছিলেন শাহেরা বানু, সৈয়দা লুৎফুন্নেসা, সৈয়দা নজিবুন্নেসা খাতুন, প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন প্রমুখ। সিলেটের ছাত্রী সালেহাকে স্কুলে কালো পতাকা উত্তোলনের জন্য তিন বছর বহিস্কার করা হয়। বলাবাহুল্য তার জীবনে আর পড়াশোনা হয়নি।
ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং ভাষা সৈনিক গাজীউল হক একটি লেখায় ২১ ফেব্রুয়ারী সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ঐতিহাসিক ছাত্রসভায় উপস্থিত মেয়েদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি সাফিয়া খাতুন, সুফিয়া ইব্রাহিম, রওশন আরা বাচ্চু,শামসুন নাহার সহ আরো অনেকের কথা উল্লেখ করেছেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ৫২ জন মেয়ের কথা বলেছেন। স্কুলপড়ুয়া এক ছাত্রী ছিল জাহান আরা লাইজু, গাজীউল হক তার কথা স্মরণ করে বলেছেন, লাইজু সাইকেল চালাতে জানত এবং চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োজনীয় বার্তা পৌছে দিত।
সে সময় সাপ্তাহিক 'বেগম' পত্রিকা বয়সে নবীন এবং একমাত্র মহিলা পত্রিকা হওয়া সত্তেও এ বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। দুঃখের কথা এই, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারীতে ঢাকাবিশ্ব বিদ্যালয়ে বাংলা একাডেমি আলোচনা সভা, সেমিনার সহ নানান অনুষ্ঠান আয়োজিত হলেও ভাষা আন্দোলনে নারী সৈনিকদের অবদানের কথা তুলে ধরা হয়না। তাদের স্বীকৃতির কথা উপেক্ষিতই থেকে যায়। তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদ, ভাষা সৈনিকদের সঙ্গে ভাষা কন্যাদের্র সমান মর্যাদায় স্মরণ করা হোক- শেষ বেলায় এই আমার কামনা।

তথ্য সংগ্রহ:- 'একুশের ইতিহাস আমাদের ইতিহাস'- আহমদ রফিক।
বি: দ্র: অনেক চেষ্টা করেও এই পোষ্টের জন্য কোন ছবি খুজে পেলাম না। আপনাদের মঞ্চাইলে দিয়েন। খূমি হইবাম।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৬
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

গজব পরিস্থিতি দেশের: বিদ্যুৎ নেই বিল ডাবল

লিখেছেন অর্ক, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭



হাহাকার পড়ে গেছে দেশে। গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার নিয়েছে, নিচ্ছে। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অপরদিকে ভূতুড়ে বিল। অদ্ভুত ব্যাপার। বিদ্যুৎ নেই, নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবেই বিল কম হওয়ার কথা। সেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভাড়াটে কান্নাকারী

লিখেছেন রাজসোহান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



লোকে ভাবে আমরা কান্না বিক্রি করি। আমরা কান্না বিক্রি করি না। আমরা শব্দ বিক্রি করি।

শোকসভায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নীরবতা। বক্তা বক্তৃতা শেষ করে বসে পড়লেন, পরের বক্তা এখনো মাইকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×