somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“শিক্ষা খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা” সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শিক্ষার হার যে হারে বাড়ছে, তার চেয়ে দ্রুত গতিতে বেড়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফাউন্ড । হয়তো সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্টানে বাচ্চাদের পড়াশুনার খরচ খুব সীমিত । শুধু যে খরচ সীমিত তা কিন্তু নয় । খরচ যেমন সীমিত তেমনি আসন সংখ্যা ও তুলনা মূলক ভাবে খুব সীমিত । যার কারনে ভর্তির সময় আসলে সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলিতে লেগে যায় ভর্তি যুদ্ধ । আর এই ভর্তি যুদ্ধে অল্প কিছু মেধাবী ছাত্রছাত্রী সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম খরছে ভালো মানের পড়াশুনার সুযোগ পায় । কিন্তু অধিকাংশ ভর্তি যুদ্ধা মেধাবী, অল্প মেধাবী ও মেধাহীন ছাত্রছাত্রীরা সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্টানে অল্প খরচে ভাল মানের শিক্ষার সুযোগ না পেয়ে ভর্তি হতে হয় এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারী (বাণিজ্যিক) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে । আর এখান থেকেই শুরু হয় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকের ভুগান্তি যাত্রা ।

একটি এমপিও ভুক্ত প্রাইমারী স্কুলে চার পাঁচ বছরের শিশুকে শিশু শ্রেণীতে ভর্তি করতে ভর্তি ফি দিতে হয় কমপক্ষে পাঁচ শত (৫০০) টাকা বা তার ও বেশী । আর প্রতি মাসে মাসিক বেতন দিতে হয় কম পক্ষে এক শত ত্রিশ (১৩০) টাকা বা তার ও বেশী ।

একটি এমপিও ভুক্ত প্রাইমারী স্কুলে ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণীতে ভর্তি করতে ভর্তি ফি দিতে হয় কমপক্ষে এক হাজার চৌদ্দ শত (৭৫০) টাকা বা তার ও বেশী । আর প্রতি মাসে মাসিক বেতন দিতে হয় কমপক্ষে এক শত পঞ্চাশ (১৫০) টাকা বা তার ও বেশী ।

একটি বেসরকারী (বাণিজ্যিক) স্কুলে ১ম শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণীতে ভর্তি করতে ভর্তি ফি দিতে হয় কমপক্ষে এক হাজার চৌদ্দ শত (১৪০০) টাকা বা তার ও বেশী । আর প্রতি মাসে মাসিক বেতন দিতে হয় কমপক্ষে দুই শত পঞ্চাশ (২৫০) টাকা বা তার ও বেশী ।

একটি এমপিও ভুক্ত হাই স্কুলে একজন ছাত্রকে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি করতে ভর্তি ফি দিতে হয় কমপক্ষে দুই হাজার (২০০০) টাকা বা তার ও বেশি । আর প্রতি মাসে মাসিক বেতন দিতে হয় কমপক্ষে দুই শত (২০০) টাকা বা তার ও বেশী ।

একটি বেসরকারী (বাণিজ্যিক) স্কুলে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি করতে ভর্তি ফি দিতে হয় কম পক্ষে তিন হাজার পাঁচ শত (৩৫০০) টাকা বা তার ও বেশি । আর প্রতি মাসে মাসিক বেতন দিতে হয় কমপক্ষে তিন শত পঞ্চাশ (৩৫০) টাকা বা তার ও বেশী ।

এটা যে শুধু স্কুলে তা কিন্তু নয় , আলিয়া মাদ্রাসা গুলিতেও এই একই দশা ।
তবে সর্বচ্চ ভর্তি ফি এবং মাসিক বেতন কতো টাকা দিতে হয় তা আমার জানা নেই । হয়তো তা আমার ধারনার বাহিরে তাই আমার জানা হয়নি । আর এই না জানাতে সম্ভবত আমার জন্য উপকার-ই হয়েছে। কারন আমি শারীরিক ভাবে খুব দুর্বল প্রকৃতি লোক । এই সংখ্যাটা জানলে সম্ভবত আমি কবেই হার্ট এটাক করে মারাই যেতাম । তবে আর আমি এই লেখাটি লিখতে পারতাম না । আর আপনারা পড়তেও পারতেন না। বলা যায়-“না জানাটাই আমার জন্য শুভাগ্য-ই”।

চলতি বৎসরের শুরুর দিকে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল দেশের অনেক গুলি শহরের অসংখ্য স্কুলের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ। চট্টগ্রামের বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ। সিলেটের ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ এবং স্কলার্স হোম স্কুল এন্ড কলেজ।

আগামি বৎসরের শুরুর দিকে যেন আবার গত বছরের মতো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্কুল কলেজের ভর্তি ফি ও মাসিক বেতন বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্থায় না নামতে হয়, সে দিকে সরকারকে নজর রাখা উচিত। আরো বেশী নজর রাখা উচিত সে সকল স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর, যারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুঁজি করে শিক্ষাকে ব্যবসায় পরিণত করেছেন। এবং ঐ সব শিক্ষা ব্যবসায় পরিণত হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলিকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা উচিত। এবং সর্বচ্চ ভাবে সরকারের কাছে “শিক্ষা খরচ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নিয়ন্ত্রণে রাখা” সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:৩৯
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×