somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

''ধর্ম ও বিজ্ঞান''

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

''ধর্ম ও বিজ্ঞান''

অনেকদিনের ইচ্ছা এই বিতর্কিত টপিক নিয়ে একটা তথ্যবহুল লিখা লিখবো।
কিন্তু পরিস্তিতি প্রতিকুল বা পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকার কারনে লিখতে পারছি না।
আজ যদিও লিখবো, কিন্তু সেটা তথ্যবহুল না, যুক্তির উপর ভিত্তি করে।
ধর্ম দিয়েই শুরু করি। ধর্মটা হচ্ছে belief বা বিশ্বাস।
ধরুন, আপনি নাস্তিক, আপনি ধর্মে অবিশ্বাস করেন।
এখন আমি আপনাকে বলবো, 'বাহ আপনি তো ভালো ধার্মিক মানুষ'!!!
একটা সেকেন্ড থামুন, যেহেতু আপনি একটা বিষয়ের উপর বিশ্বাস এনেছেন, তাই সেটাই আপনার ধর্ম।
হতে পারে আপনার বিশ্বাসটা অন্য সব ধর্ম থেকে আলাদা, কিন্তু আপনি যে স্বীয় ধর্মে বিশ্বাসী
যুক্তিতে এটা মানতে হবে।
আমাদের মানে, ইসলাম ধর্মনুসারীদের বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ তা'লা হচ্ছেন এই বিশাল ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা।
তেমনি নাস্তিকদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ''শুন্য" হচ্ছে এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা!
(বিজ্ঞানের বর্তমান ট্রেন্ড হচ্ছে শুন্য থেকে সবকিছুর সৃষ্টি। সেখান থেকেই বললাম কথাটা)
আমাদের ইসলাম ধর্মে যেমন কলেমা/মুলমন্ত্র আছে। তেমনি নাস্তিকদের ধর্মেও কলেমা/মুলমন্ত্র আছে!
ইসলাম ধর্মে যেমন, ''আল্লাহ তা'লা এক এবং সর্বশক্তিমান। হযরত মুহাম্মদ সাঃ হচ্ছেন শেষ নবী ও রাসুল''
তেমনি আপনার নাস্তিক ধর্মে, ''ইশ্বর বলে কিছুই নেই, বিজ্ঞান আমাদের আলোর পথ দেখায়।''
আমাদের যেমন হযরত মুহাম্মদ সাঃ আছেন, যিনি আমাদের পথ প্রদর্শক, এবং শেষ নবী ও রাসুল।
তারপর আমাদের অনেক ধর্মীয় গুরু আছেন, যারা ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে থাকেন।
নাস্তিকদেরও তেমন নবী আছে, যারা তাদের 'নাস্তিক' ধর্মের শিক্ষা দিয়ে থাকে।
আমি কারো নাম মেনশন করছি না। তবে এরা সাধারনত বিভিন্ন ব্লগে তাদের ধর্মের বানী প্রচার করে থাকে!
তো ধর্মটা আসলে এরকমই।
বলা যায়, 'পৃথিবীর সব মানুষই ধর্মে বিশ্বাসী এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধার্মিক।'


এবার আসি বিজ্ঞানে....
শুরুতেই কিছু কি ওয়ার্ড দেই; (রহস্য, গোয়েন্দা, খুনি, পাঠক, রহস্য সমাধান)
কখনো গোয়েন্দা বই পড়েছেন? পড়লে সহজেই বুঝতে পারবেন।
এখানে রহস্যটা হলো প্রকৃতি/ব্রহ্মাণ্ড......গোয়েন্দা হচ্ছে বিজ্ঞানীগোষ্ঠী.....পাঠক হচ্ছি সাধারন জনগন......
শেষ পৃষ্ঠার আগ পর্যন্ত নিজের কল্পিত খুনিটা হচ্ছে বিশ্বাস.....আর সমাধানটা উহ্য থাক, কারন সমাধান হচ্ছে সব দ্বন্ডের সমাপ্তি।
সমাধানটা হচ্ছে সত্য উন্মোচন।
ধর্মকে যেমন বলেছিলাম, বিশ্বাস। তেমনি বিজ্ঞানকে বলবো, Rule/নিয়ম।
বিজ্ঞানের প্রতিটা বিষয় নিয়মের জালে বন্দী। যদি প্রকৃতিতে নিয়ম বলে কিছু না থাকতো, তাহলে কখনই বিজ্ঞানের
উৎপত্তি হতো না।
গোয়েন্দা যখন কোন রহস্যের সমাধান করে,
তখন একটা নিয়মের মাধ্যমে রহস্যের সমাধান করে। একটা করে ক্লু/নিয়ম ধরে সমাধানের দিকে এগিয়ে যায়।
এখন যদি ক্লুই না থাকে, তাহলে কোন গোয়েন্দা কি রহস্য সমাধানের প্রথম পদক্ষেপটাও নিতে পারবে? নাহ, পারবে না।
তো প্রকৃতিতে যদি নিয়মই না থাকতো, তাহলে বিজ্ঞানীরা কখনই রহস্য সমাধানের পথ পেতো না।
Ex: বল প্রয়োগে সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় কেনো?
7x7=49 হয় কেনো? বলুন কেনো?
'কেনো আবার....এসব তো....ইয়া....মানে ইয়া....মানে এখনো হয়নি আরকি'
জানি স্পষ্ট উত্তর নেই। হ্যা তর্ক বাজেরা উত্তর দিবেন, এসব তো বিজ্ঞানীরাই আবিষ্কার করেছেন।।
হা হা, হ্যা ভাই আবিষ্কার করেছেন.....তৈরি করেনি! বিজ্ঞানীরা রহস্যের সমাধান করেছেন, রহস্যটা লিখেনি!
আমার মনে হয় কিছুটা বুঝাতে পেরেছি।
'0' তে রহস্য থাকে না। শুন্যের সাথে যোগ, বিয়োগে মানের কোন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু শুন্য দিয়ে কাউকে গুন করতে গেলে,
তখন ফলাফলটা শুন্য হয়ে যায়। আর কাউকে ভাগ করতে বা শুন্য দিয়ে কারো রহস্য সমাধান করতে গেলে মানটা ''ইনফিনিটি''
হয়ে যায়। এমন কিছু হয়ে যায়, যা বিভ্রান্ত করে দেয় সবাইকে। আকৃষ্ট করে সবাইকে।
কথা আর প্যাচাবো না, সহজ কথা হলো, নিয়ম নেই তো বিজ্ঞানের অস্তিত্ব নেই।
তো এই নিয়ম তো কেউ একজন সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই এর পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন। তাই নয় কি?

আমার কথাঃ যাইহোক কিছু না জেনেই অনেক কথা বলে ফেললাম। লেখাটির প্রত্যেকটি কথা আমার নিজস্ব চিন্তাধারার প্রতিফলন।
এতে কারো প্রভাব নেই। আমি আমার দৃষ্টি ভঙ্গিটা প্রকাশ করেছি, আর কারো উপর চাপিয়ে দেয়ারও চেষ্ঠা করছি না।
আমার কথা সিরিয়াস্লি নেয়া না নেয়া সম্পুর্ন আপনার ব্যপার।
যারা পুরোটা ভালোভাবে পড়েছেন, তারা হয়তো বুঝতে পারবেন, আমি কোন উপসংহারে যাইনি।
কারন আমি কারো সাথে তর্কে যাচ্ছি না। আর কতটুকুই বা জানি যে তর্ক করবো?
তাই মৌন থাকাই শ্রেয়।
ধন্যবাদ পুরোটা পড়ার জন্য। :)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:২০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×