somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার প্রথম ও শেষ মুসলমানির ঘটনা :)

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার প্রথম ও শেষ মুসলমানির ঘটনা আমার স্পষ্ট মনে আছে। এখনও চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে। :( :(

আমার মুসলমানি হয়েছিলো একটু বুইড়া কালে। মানে আমি তখন ক্লাস ফোরে। অনেক দেরিতে মুসলমানি করানোর ফলে সবাই আমাকে নিয়ে বেশ টেনশন করছিলো। সবচেয়ে বেশি টেনশন করছিলাম আমি।

বাবাকে বললাম, মুসলমানি কি? তিনি উত্তর দিলেন, সুন্নতে খতনা। আমার শরীরের একটা বিশেয় জায়গার চামড়া কেটে ফেলা হবে। মানে কেটে ফেলে দেয়া হবে।
আমি ভয়ে ভয়ে বাবাকে বললাম, ' কোন জায়গার চামড়া? '
বাবা উত্তর দিলেন।
আকাশ পাতাল থেকে ঝাঁঝাঁ বাতাস আমার মাথা আউলা ঝাউলা করে দিলো। আমার গলা কলিজা কিডনি শুকিয়ে গেল। হাত পা কাঁপতে লাগলো। আমি বাবাকে বললাম, এইটা করার কি কারণ? বাবা বললেন, এইটা করা হলে অনেক রোগ বালাই হয় না। এইটা নাকি নবী রসুলরাও করেছেন।

আমি অজ্ঞান হওয়ার পুর্বে ঘরে গেলাম। আকাশ পাতাল ভাবতে লাগলাম। আমার জীবন নিয়ে অতটুকু বয়সেই আমি তখন সন্দিহান!দিন চলে এলো। আমাকে প্রস্তুত করানো হচ্ছে। আমার সাথে আরেকটা ছেলেরও মুসলমানি হবে, সে রেডি। লুঙ্গি পড়ে পুরা অস্থির অবস্থা। আমার দিকে তাকিয়ে সে এমন হাসি দিলো, আমি ভয়ে ঢোক গিললাম। সে আমার কাছে এসে আমাকে বললো, পারবি?
আমি বললাম, কি?

বাশের কঞ্চি দিয়ে চিইপ্পা ধরে ঘ্যাচাঘ্যাচ কাটবে। দাতে দাত চাইপা খিচ মাইরা বইসা থাকবি। ঠিক আছে?
আল্লাগো বলে আর্তনাত করে উঠলাম।
দুইজন লোক আমাকে আগে বসালো। আমি নাকি সবচেয়ে ভীতু, পরে করলে সমস্যা। আগেরজনের করা নিজে দেখলে ভয় পেতে পারি।
আমি বসলাম। আমার সামনে একজন বাউল মার্কার চেহারার লোক বসে আছেন। তার দাত হলুদ, মাথায় লম্বা চুল। ইনিই হাজেম। আমি ভয়ে কাপতেসি। নিচে তাকিয়ে দেখি বাশের কঞ্চি টাইপ কিছু নেই। বাশের কঞ্চি গেলো কই।
বাবা, লুঙ্গি উচা করো।
জ্বি?
উচা করো বাবা, কিচ্ছু হবে না।
আমি আশেপাশে তাকালাম। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। যেন লুঙ্গি উচা করলেই বিশাল কোনও ধনরত্ন বের হয়ে আসবে, যা না দেখলে তাদের জীবন বৃথা। সেই দলে কয়েকজন মহিলাও ছিলেন। আমি লুঙ্গি তুলে ধরলাম।
সবাই কানাঘুষা শুরু করে দিলো। মহিলাদের মুখে হতাশা। আমি নিজেও হতাশ। হাজেম হা করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। কে যেন বলে উঠলো, পোলায় করছে কি?

আমাকে আবার ভিতরে পাঠানো হলো। লুঙ্গির নিচের জাঙিয়া খুলে আবার এসে বসলাম। হাজেম বিরক্ত। বিরক্ত মুখে তিনি একটা ইনজেকশন টোকাটুকি শুরু করলেন।
আমার সাথে যেই ছেলের মুসলমানির কথা ছিল, সে পাশেই বসে ছিল। তার মুখ হাসি হাসি। হি ওয়াজ হ্যাপি টু লুজ।
বাবা বলো...
কিহ?
বলো, এক, দুই, সাড়ে তিন.....
এএএক, দ্দদুই, সসারড়ে ত্তিন...
নুনু মাথা, পাঠায়ে দিলাম.....
ইয়ে মানে, পাঠায়ে দিলাম....
ময়মনসিং...

আমি ময়মনসিং বলতে পারলাম না। আকাশ পাতাল ভেদ করে গগণবিদারী চিৎকারে পুরো ঘর কেঁপে কেঁপে উঠলো। চিৎকার আমি দেই নাই। দিসে আমার পরের জন। এমন বীভৎস দৃশ্যের জন্য সে প্রস্তুত ছিল না। তিন চারজন কে ধাক্কায়ে ফেলে দিয়ে সে পালালো। তার পিছনে ছুটলো চার পাচ জন।

দুই ঘন্টা পর তাকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে আসা হলো। তার লুঙ্গির গিট্টু ধরে আরেকজন ঝুলছিল।
ওই ছেলেকে বসানো হলো। সে তখনই হাজেমের লম্বা চুল খামছে ধরলো। তার চোখে মুখে ভয়, সেই ভয়ের বর্ণনা দেয়া অসম্ভব। সে তখন চেচাচ্ছে, হাত দিলে তোরে আমি খুন করুম! হাজেম এক হাতে ইনজেকশন, আরেক হাতে ছেলের হাত ধরে আছে। হাত ধরে চুল ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ছাড়াতে পারছে না, ছেলে হাতের মধ্যে চুলের ভয়ানক প্যাচ লাগিয়েছে।
অনেক কষ্টে সেই প্যাচ ছাড়িয়ে, ছেলের লুঙ্গি তুলে ধরা হল। তার বেলায় ছড়ার ট্রিক কাজ করলো না। তাকে বলতে বলা হলো, এক দুই সাড়ে তিন। সে বললো, তোরে আমি মাইরা ফেলামু! :(

ছেলের কাজ শেষ করা হলো। তাকে ব্যান্ডেজ করে বসানো হলো ঘি চিনির ভাত খাওয়ানোর জন্য। মুমুর্ষ মন নিয়ে সে কতকত করে ভাত খেলো।
ভেবেছিলাম তার পর বেশিদিন আর কষ্ট করতে হবে না। কিন্তু আমি কি জানতাম আমার জন্য কি অপেক্ষা করছে! :o
রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারতাম না, মোচড়ামুচড়ি অফ। লুঙ্গির গিট্টু ধরে চলাফেরা করতে হতো, কারণ এটা আমি ইউজ করি না। রাস্তাঘাটে খুলে পড়ার ভয়, ভাবলেই কলিজা শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে যায়। যেহেতু বুইড়া হয়ে মুসলমানি হয়েছে, তাই ঘা শুকাতেও দেরি হয়েছে। মাঝে মাঝে কঠিন চুলকাতো, কিন্তু সামান্য আচড় দিলে জান আর সাথে থাকতো না। সে কি যন্ত্রণা রে বাপ! :(

কিন্তু কেন এত যন্ত্রণা সহ্য করা? কেন এই পেইন নেয়া? কাদের জন্য?
হ্যা, এক চিমটি চামড়া ফেলে দিয়ে আমরা পুরুষাঙ্গের ক্যান্সার হতে মুক্তি পাচ্ছি। পারিপার্শ্বিক নানা সমস্যা, নানা প্রবলেম আমরা ফেস করছি না এই এক চিমটি চামড়া না থাকায়। হ্যা মানি খুব কষ্ট করতে হয়েছে, কিন্তু কষ্ট না করলে কেষ্ট মিলবে না। মিলবে জায়গা মত ক্যান্সার। এছাড়াও অনেক এডভান্টেজ আছে, যেগুলো আমার হবু বউয়ের জন্য তোলা থাক।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১:১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×