আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) -- (2য় পর্ব)
কুরআনের জ্ঞানে তিনি এত বেশি পারদর্শী ছিলেন যে তিনি বলতেন, "যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই সেই সত্তার কসম! কুরআনের এমন কোন একটি আয়াত নেই যা সম্পর্কে আমি জানি না যে তা কোথায় ও কি সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। কিতাব সম্পর্কে আমার থেকে অধিক পারদর্শী কোন ব্যক্তির কথা জানতে পেলে এবং তাঁর কাছে পেঁৗছা সম্ভব হলে আমি অবশ্যই তাঁর কাছে উপস্থিত হতাম।"
নিজের সম্পর্কে ইবনে মাসউদ (রাঃ) যে কথাটি বলেছেন তাতে কোন আত্মম্ভরিতা বা অতিরঞ্জন নেই। একবার উমর (রাঃ) কোন এক সফরে রাত্রিবেলা এক অপরিচিত কাফিলার সাাৎ লাভ করেন। রাতের ঘোর অন্ধকারে কাফিলার কোন লোকজনকে চেনা যাচ্ছিল না। ঘটনাক্রমে সেই কাফিলায় ইবন মাসউদ (রাঃ) ও ছিলেন; কিন্তু উমর (রাঃ) তা জানতেন না। উমর (রাঃ) কাফিলাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "কাফিলা কোথা থেকে এসেছে?" অন্য কাফিলা থেকে ইবন মাসউদ (রাঃ) জবাব দিলেন ু "আমিক উপত্যকা থেকে।"
(ফায আমিক গভীর উপত্যকাু কুরআনে উলি্লখিত কতিপয় শব্দাবলী)
ু "কোথায় যাচ্ছে?"
ু "ইলাল বাইতিল আতিক" (অর্থাৎ কাবা শরীফে)। জবাব শুনে উমর (রাঃ) বললেন, "নিশ্চয় তাদের মধ্যে কোন আলিম ব্যক্তি আছেন।' তিনি তখন বললেন, কুরআনের শ্রেষ্ঠতম আয়াত কোনটি?"
ু উত্তরে ইবনে মাসউদ আয়াতুল কুরসী পাঠ করলেন।
ু "সর্বাধিক ন্যায় নীতির ভাব প্রকাশক আয়াত কোনটি?"
ু "আল্লাহ ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, পরোপকার এবং নিকটতম আত্মীয় স্বজনদের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন?"
আবার প্রশ্ন করা হল :
ু "সর্বাধিক ব্যাপক অর্থবোধক আয়াত কোনটি?"
ু "যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ সৎকাজ করবে, সে তার ফল লাভ করবে, তেমনিভাবে যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ অসৎ কাজ করবে তার বিনিময়ও সে লাভ করবে।"
ু "সর্বাধিক আশার সঞ্চারকারী আয়াত কোনটি?"
ু "আমার বান্দারা যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছো, আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই তিনি সকল গুনাহ মা করে থাকেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মাশীল, দয়াময়।"
ু "আচ্ছা আপনাদের মাঝে কি ইবন মাসউদ আছেন?"
ু "হঁ্যা।"
ইবনে মাসউদ কেবল একজন ভাল ক্বারী, আলিম, আবিদ ও পরহেযগারই ছিলেন না, সেই সাথে তিনি ছিলেন কর্মঠ ও বিচণ ব্যক্তি এবং কঠিন মুহূর্তে অগ্রগামী অকুতোভয় মুজাহিদ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




