আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ) -- (3য় পর্ব)
রাসূল (সঃ) এর সাহাবীরা একদিন মক্কায় একত্রিত হলেন। তাঁরা তখন সংখ্যায় অল্প ও দুর্বল। তাঁরা বলাবলি করলেন, "প্রকাশ্যে কুরআন তিলাওয়াত করে কুরাঈশদেরকে শোনানো হয়নি। তাদেরকে কুরআন শোনাতে পারে এমন কে আছে?" ইবনে মাসউদ বললেন, "আমাকে অনুমতি দিন। আল্লাহ আমাকে হেফাজত করবেন।" একথা বলে তিনি মসজিদের দিকে রওয়ানা হলেন এবং মধ্যাহ্নের কিছু আগে মাকামে ইবরাহীমে এসে পৌঁছুলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে তিলাওয়াত শুরু করলেন :
"বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আর রাহমান, আ'ল্লামাল কুরআন, খালাকাল ইনসান। আল্লামাহুল বায়ান।"
তিনি তিলাওয়াত করে যেতে লাগলেন। কুরাঈশরা শুনে ণিকের জন্য চিন্তামগ্ন হল তারপর প্রশ্ন করলো, "ইবনে উম্মু আবদ কি বলে? তার সর্বনাশ হোক! মুহাম্মদ যা বলে তাই তো সে পাঠ করছে।" তারা সবাই তাঁর দিকে ধেয়ে গেল এবং তাঁর মুখে নির্দয়ভাবে প্রহার করতে লাগল। অতঃপর রক্তস্নাত দেহে সঙ্গীদের নিকট তিনি ফিরে এলেন। তাঁরা বললেন, "আমরা এরই আশঙ্কা করেছিলাম। উত্তরে বললেন, 'অবিশ্বাসীরা এখন আমার কাছে অতি তুচ্ছ, যা আগে কখনও ছিল না। আপনারা চাইলে আগামীকালও এমনটি করতে পারি।" তাঁরা বললেন, "না, যথেষ্ট হয়েছে। তাদের অপছন্দনীয় কথা তুমি তাদের শুনিয়ে দিয়েছ।"
হযরত উসমানের (রাঃ) খিলাফতকাল পর্যন্ত তিনি বেঁচে ছিলেন। তিনি যখন অন্তিম রোগ শয্যায় তখন উসমান (রাঃ) একদিন তাঁকে দেখতে এলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন :
ু "আপনার অসুখ কি?"
ু "আমার পাপ।"
ু "আপনার চাওয়ার কিছু আছে কি?"
ু "আমার চাওয়া হচ্ছে রবের করুণা।"
ু "বহু বছর যাবৎ আপনি ভাতা নিচ্ছেন না। তা কি আবার দেয়ার নির্দেশ দেব?"
ু "আমার সে প্রয়োজন নেই।"
ু "আপনার মৃতু্যর পর আপনার কন্যাদের প্রয়োজনে আসবে।"
ু আপনি কি আমার কন্যাদের দারিদ্র্যের ব্যাপারে আশঙ্কা করছেন? আমি তো তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছি, তারা যেন প্রত্যেক রাতে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করে। কারণ আমি রাসূল (সঃ)কে বলতে শুনেছি :
"যে ব্যক্তি প্রত্যেক রাতে সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করে, কখনও সে দারিদ্র্যকিষ্ট হবে না।"
সেই রাতেই ইবনে মাসউদ আদর্্র জিহ্বায় যিকর ও তিলাওয়াতে মুখর অবস্থায় রবের সানি্নধ্যে পরপারে পাড়ি জমান। (সমাপ্ত)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ১১:১২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




