
বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ তরুণ-তরুণী পর্ণোসাইটের প্রতি আসক্ত। অথচ এ ব্যাপারে অধিকাংশ অভিভাবক অসচেতন। এমনকি অনেক অভিভাবক ইন্টারনেট সম্পর্কে কোন ধারণা-ই রাখেন না। আবার অনেক অভিভাবক এমন রয়েছেন, যারা প্রতিমাসে সন্তানের ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করতে পেরে গর্ববোধ করেন। অথচ সন্তানের পড়ালেখা ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে যতটা খোজ খবর রাখেন, সন্তানের নীতি-নৈতিকতা নিয়ে ততটা পেরেশানি বোধ করেন না। ইন্টারনেটের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা আর্টিকেল লিখেছিল। এখন অবশ্য সাংবাদিকরাও হাল ছেড়ে দিয়েছেন। নামকাওয়াস্তে “পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২” নামে একটি আইন তৈরী করা হয়েছিল। কিন্তু তার বাস্তব প্রয়োগ এখনো পর্যন্ত পরিলক্ষিত হয়নি। তবে সাম্প্রতিকালে ৫৬০টি পর্নসাইট ব্লক করা সরকারের বড় একটি পদক্ষেপ। কিন্তু অসংখ্য পর্ণোসাইট এখনো অবাধে প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে যুব সমাজ যেমন চারিত্রিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে তেমনি আইনী শিথিলতার সুযোগে সিনেমা পরিচালকেরা ইচ্ছামত “এডাল্ট” চলচিত্র নির্মাণ করছে। এক টিকেটে দুই ছবির নামে প্রেক্ষাগৃহ কর্তৃপক্ষ অবাধে “নীলছবি” প্রদর্শন করছে। ২/৩ ঘন্টা এমন সিনেমা দেখে উত্তেজিত হয়ে পর্নো দেখতে আগ্রহী হয়ে পড়ছে।
একজন ছাত্র খুব সহজেই ইন্টারনেট ব্রাউজ করে পর্নোসাইট ভিজিট করতে পারছে। ইচ্ছেমত পর্নো ভিডিও ডাউনলোড করছে। বিশেষ করে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা এসব অনৈতিকতায় বিরামহীন নেশায় মগ্ন হয়ে পড়ছে। মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যাবহারের ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে অসামাজিক ও সহিংস আচরণ, এমনকি মানসিক রোগের আশংকাও রয়েছে। এ বর্ণিল ফাঁদে পা দিচ্ছে হাজারো কোমলমতি শিশু-কিশোর। বিগত বছরের পহেলা অক্টোবর ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামে একটি বেসরকারী সংস্থা তাদের জরিপে বলেছে- রাজধানীর শতকরা ৭৭ জন স্কুলগামী শিশু পর্নো আসক্ত।
এই মহামারী চারিত্রিক বিপর্যয় গোটা যুবসমাজকে অন্তঃসারশুন্যতা, চরিত্রহীনতা ও মানসিক বেকারগ্রস্ততা আচ্ছন্ন করে ফেলবে। অতেএব এখনি কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামী প্রজন্ম ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হবে। এ জন্য সরকারীভাবে সকল পর্নোসাইট বন্ধ এবং এ ব্যপারে কঠোর নীতিমালা তৈরী করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৩:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


