
লজ্জাবতী মেয়েকে লজ্জা দিতে কার না ভালো লাগে? কিন্তু মেয়েদের মত গাছও যে লজ্জা পেতে পারে- এমন কথা শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। সামান্য স্পর্শ পেলে নববধূূর মতো নেতিয়ে পড়ে এ গাছটি। ছোট গুল্মজাতীয় গাছটির নাম লজ্জাবতী। এর পাতা স্পর্শ করলেই আশ্চর্যজনকভাবে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে সতেজ হয়ে ওঠে। অত্যন্ত দ্রুত অনুভূতিসম্পন্ন এ গাছ। ছোটবেলায় বাড়ির পাশে ফসলের ক্ষেতে গিয়ে ওদের যে কত লজ্জা দিয়েছি। লজ্জাবতীরা বিরক্ত হয়ে অনেক সময় কাটা ফুটিয়ে দিত।
“লাজুক লতা লজ্জাবতী
তাহার লাজের সীমা নাই
একটু ছুলেই থিরথিরিয়ে
লাজে মরে যায়
লজ্জাবতী ডেকে বলে
ছুয়ো না তুমি আমায়
ঐ ছোয়াতে হৃদয় কাঁপে
কোথায় তারে পাই”!
আমাদের অনেকের পরিচিত এই গাছটিকে কেউ “লজ্জাবতী” আবার কেউ বলেন লাজুক লতা। এটি একটি বর্ষজীবি গুল্ম আগাছা বা ওষুধী গাছ। অনেকটা তেতুল পাতার মত। পাতা সরু ও লম্বাটে, সংখ্যায় ২ থেকে ২০ জোড়া। এর ফুলগুলি বেগুনী ও গোলাপী রঙের। এর পাতায় এ্যাকোলয়ড়ে ও এড্রেনালিন এর সব উপকরণ থাকে।

লজ্জাবতী (লাতিন: ''Mimosa''

বহু প্রাচীনকাল থেকেই লজ্জাবতী গাছ অনেক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর রয়েছে অনেক ভেষজ গুণ।
-কাঁচা গাছ বেটে শরীরে লাগালে লাবণ্য ফিরে আসে।
-গাছ শুকিয়ে গুঁড়া করে ১০ গ্রাম গুঁড়া দু’কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে ১৫ দিন সেবন করলে চর্মরোগ সেরে যায়।
-গাছের শিকড় বেটে দুধ ও পানির সঙ্গে মিশিয়ে সেবন করলে অর্শ্বরোগে ভালো ফল পাওয়া যায়।
আমাদের গ্রামগঞ্জে বাড়ির আনাচে-কানাচে একসময় প্রচুর দেখা যেত এ গাছ। বর্তমানে বাসস্থানের প্রয়োজনে ও বন ধ্বংসের কারণে অসংখ্য প্রজাতির গাছপালার সঙ্গে এ লজ্জাবতী গাছটিও হারিয়ে যেতে বসেছে।
-এছাড়া কুষ্ঠ, বসন্ত, একশিরা, ভগন্দর ও পাণ্ডু রোগ নিরাময়েও লজ্জাবতীর রয়েছে বিরাট অবদান।

-বেশিরভাগ মানুষের কাছে এ গাছ কাঁটাওয়ালা আগাছা হিসেবে পরিচিত হলেও থাই লজ্জাবতী গাছকে কাজে লাগিয়ে এখন জৈব সারও তৈরি করা হচ্ছে। এ সার ফসলের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এতে রয়েছে নাইট্রোজেন ২.০৩ থেকে ২.০৬, ফসফরাস ০.১৭৫ থেকে ০.২৩, পটাশিয়াম ১.২৩৭ থেকে ১.৭৪১ ভাগ। লজ্জাবতী গাছের শিকড়ে জন্মানো লালচে রঙের গুটি বাতাস থেকে নাইট্রোজেন সঞ্চয় করে আম বাগানের মাটিতে সরবরাহ করা হয়। এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। থাইল্যান্ডে ভুট্টার জমিতে আগাছা নিয়ন্ত্রণে এভাবেই লজ্জাবতী গাছ লাগানো হয় এবং মাটির উর্বরতা ঠিক রাখা হয়।
তথ্যসুত্র ও ছবিঃ- গুগল, উইকিপিডিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


