রিহ্যাব। পূর্ণনাম রিয়েল এস্টেট এ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। ১৯৯১ সালে মাত্র ১১টি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মিলে তৈরি করা হয় রিহ্যাব নামের এই সংগঠনটি। উদ্দেশ্য অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে নান্দনিক ও পরিকল্পিত নগরায়নে রুপান্তর করার পাশাপাশি জনগণের আবাসনের চাহিদা পুরণ করা। সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে এর সদস্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ১২শ। অর্থনীতিতে ফলপ্রসূ অবদান থাকলেও বর্তমানে চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এই আবাসন শিল্প।
পৃথিবীর সব দেশেই নাগরিকদের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা অন্যতম হচ্ছে বাসস্থান। প্রায় প্রত্যেক মানুষেরই আকাঙ্খা থাকে একটি সুন্দর বাড়ি তৈরি করার। বাংলাদেশে বর্তমান নগরজীবনে সবারই স্বপ্ন একটি সুন্দর ফ্লাট এর। এক সময় ফ্ল্যাট বা আপ্যার্টমেন্ট সহজলভ্য ছিলনা। কিন্তু রিহ্যাব সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় কয়েক লাখ নাগরিক এখন সেই স্বপ্নের বাসস্থানের মালিক। এটা সম্ভব হয়েছে রিহ্যাব সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে।
শহরের জমি না বাড়লেও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে মানুষ। ফলে ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে নাগরিকদের মাথা গুঁজার ঠাঁই সরবরাহ করা। সরকারের পক্ষে এককভাবে এ মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না। আর এ লক্ষ্যে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে রিহ্যাব। রিহ্যাব শুধু আবাসনের চাহিদাই পুরণ করছে না। একই সাথে পরিকল্পিত নগরায়নসহ সুন্দর ডিজাইন আর নকশার আদলে সারাদেশে তৈরি করছে নান্দনিক ভবন আর স্থাপত্য। এক সময় ব্যক্তিগতভাবে অনেকটা এলোমেলোভাবে গড়ে ওঠতো আবাসিক ভবন। কিন্তু রিহ্যাব প্রতিষ্ঠার পর সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। রাজউকের তত্ত্বাবধানে রিহ্যাব সদস্যরা অল্প জায়গার ভেতর তৈরি করছেন দারুন সব মন জুড়ানো এপ্যার্টমেন্ট কনডোমিনিয়াম প্রজেক্ট। ফলে পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগরায়নেও বড় ভূমিকা রয়েছে রিহ্যাব সদস্যদের।
আবাসিক সমস্যা সমাধান এবং নান্দনিক নগরায়নে রিহ্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে চরম মন্দার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে আবাসন শিল্প। বিগত কয়েক বছরে নীতিনির্ধারকদের বেশ কিছু সিদ্ধান্তে নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন পার করছে আবাসন খাতের সাথে সংশ্লিষ্টরা। দেশে বিশাল অংকের বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশীদার আবাসন খাত। আবার আবাসন খাত প্রসারিত হওয়ায় দেশে গড়ে ওঠেছে রড, সিমেন্ট, ইট, রং এবং সিরামিকস সহ এ সংক্রান্ত দুইশরও বেশি বিভিন্ন লিংকেজ শিল্প প্রতিষ্ঠান। আবাসন খাতের সঙ্গে নির্মাণ শিল্পের এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আবাসন খাত ভাল তো এ সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানও ভাল। লিংকেজ প্রতিষ্ঠানসহ আবাসন খাতের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে আছে প্রায় ২৫ লাখ এবং পরোক্ষভাবে দুই কোটি মানুষের ভাগ্য। শুধু ফ্ল্যাট নির্মাণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানই নয় প্রবাসী বিনিয়োগ ও রেমিটেন্স বৃদ্ধিতেও অবদান রয়েছে এই খাতের।
একই সাথে নানা ধরনের জন সচেতনতামূলক কাজে অংশগ্রহণ ছাড়াও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রিহ্যাব। সভা, সেমিনার, কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে জনগণকে পরিবেশবান্ধব আবাসন নির্মাণে আগ্রহ তৈরি করেছে সংগঠনটি। এছাড়া বন্যা, ঘূর্নিঝড়, শীতসহ যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িছেয়ে রিহ্যাব।
দেশ বিদেশে হাউজিং ফেয়ারের মাধ্যমে ক্রেতাদের আবাসনের চাহিদা যাচাই-বাছাই করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে রিহ্যাব। দেশে আবাসন সমস্যার পাশাপাশি নানাবিধ সমাজসেবামূলক কাজও করছে প্রতিষ্ঠানটি। আলোচনা,সভা সেমিনারের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব আবাসন নির্মাণের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে রিহ্যাব। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশো উৎসাহ প্রদানে জন্য বিগত কয়েক বছর ধরে রিহ্যাব আয়োজন করছে রিহ্যাব বর্ষসেরা সাংবাদিক পুরস্কার। আবাসন শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্য নিয়ে সম্প্রতি রিহ্যাব চালু করেছে রিহ্যাব ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট। রিহ্যাব আবাসন সমস্যার সমাধান ও নান্দনিক নগরায়ন বিকাশে প্রতিশ্রতিবদ্ধ।
রশিদ বাবু
জনসংযোগ কর্মকর্তা
রিহ্যাব
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৩:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




