somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ সমান্তরাল

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



১
মেয়েটাকে মেরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেল।রহমতের কথায় চমকে উঠল নাবিল।নাবিলের বয়স কম।নিজেকে যতটা নিষ্ঠুর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় ততটা নিষ্ঠুর সে হয়ে উঠতে পারেনি।রহমতের শিষ্য নাবিলের জন্য এটা লজ্জার বিষয়।যদিও শিশুকাল থেকেই সে চারপাশের মানুষের ঘৃণা এবং নিষ্ঠুরতার মধ্যেই বড় হয়েছে।রহমতের সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে বুঝতে পেরেছে নিষ্ঠুরতার মধ্যে অন্যরকম এক আনন্দ আছে।প্রথম যেদিন জব্বাররে নিজ হাতে জবাই দিয়েছিল সেদিন এক অপার্থিব আনন্দ পেয়েছিল নাবিল।মৃত্যুর সময় মানুষের অসহায়ত্ব নাবিল সবচেয়ে বেশী উপভোগ করে।কিন্তু মানুষ হত্যা করার পর রহমত যেমন নির্লিপ্ত থাকতে পারে,নাবিল তেমনটা পারে না।তার প্রতিভার কথা সমগ্র দুনিয়াকে জানাতে ইচ্ছে করে।খুন করার প্রতিভা!

দরজা জানালা বন্ধ একটি রুমে বসে আছে আয়না।তার সামনে কলা এবং পাউরুটি রাখা আছে।তাকে ধরে আনা হয়েছে হত্যা করার জন্য।কিন্তু নাবিল নামের ছেলেটি তার খুব খাতির যত্ন করছে।কেন করছে তা আয়না জানে।নাবিল তার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। আয়নার প্রেমে পরেনি এমন পুরুষ খুব কম আছে।সে খুনি কিংবা মহাপুরুষ যাই হোক না কেন!আজ তিন দিন হয়েছে নাবিল আয়নাকে ধরে এনেছে।প্রথম দিন নাবিল হাসি মুখে এসে আয়ানাকে বলল, একটু পর তোমাকে হত্যা করা হবে।তোমার শেষ ইচ্ছা কি বল।আয়না খুব আনন্দিত ভঙ্গীতে বলল, আমার শেষ ইচ্ছা তোমাকে চুমু খাওয়া।মৃত্যুর পূর্বে নিজের হত্যাকারীকে চুমু খাওয়ার অনুভূতি কেমন হয় সেটা জেনে মরতে চাই।নিমিষেই মুখের হাসি মিলিয়ে গেল নাবিলের।নাবিল ভয় পেয়েছে।সে হতভম্ব গলায় বলল,আপনি সুস্থ স্বাভাবিক না, আপনি পাগল।এ কথা বলে সে দ্রুত চলে গেল।

আয়না মেয়েটিকে খুব দ্রুত হত্যা করতে হবে।মেয়েটিকে হত্যা করলে মোটা অংকের টাকা পাবে নাবিল।কিন্তু আয়নার কথা মনে হলেই নাবিলের কেমন যেন একটা অনুভূতি হয়।এ এমন এক অনুভূতি যেখানে শান্তিও লাগে আবার অস্থিরও লাগে।এই ধরনের অনুভূতি নাবিলের আগে কখনই হয় নাই।মেয়েদের প্রতি কামনা বাসনা নাবিলের আছে।সেই কামনা বাসনা মিটানোর জন্য বিশেষ জায়গায় সে মাঝে মধ্যেই যায়।কিন্তু আয়নাকে তার স্পর্শ করতে যেমন ইচ্ছে করে,তেমনি আবার ভয়ও লাগে।এ এক আজব অনুভূতি!এটাকেই মনে হয় সোজা বাংলায় প্রেম বলা হয়।

আয়নার জন্য নাবিল এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট রেখে গেছে।সেখান থেকে একটি সিগারেট নিয়ে মনের সুখে কয়েকটা টান দিল আয়না।নাবিল আয়নাকে বলেছে, মেয়েছেলের নেশা করা ঠিক না।নেশা হচ্ছে পুরুষের জন্য।আয়না নাবিলের চোখে চোখ রেখে বলেছে, যে মেয়ে যে কোন মুহূর্তে খুন হতে পারে তাকে নিয়ে নাবিলের এত কিসের চিন্তা।নাবিলকে কেমন যেন ভূতে পাওয়া মানুষের মত মনে হচ্ছিল।কিছুক্ষন পরেই ফিরে এল নাবিল।লাল চোখ দেখেই বোঝা যায় গাঁজা টেনে এসেছে।স্বাভাবিক অবস্থায় আয়নার সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নাবিলের নেই।আয়নার সামনে ঝিম মেরে বসে আছে নাবিল।আমায় খুন করছ না কেন?আয়নার প্রশ্নে চমকে উঠে নাবিল।আপনাকে খুন করা আমার পক্ষে সম্ভব না।নিচের দিকে চোখ নামিয়ে উত্তর দেয় নাবিল।তাহলে আমাকে ধরে রেখেছ কেন?আপনি এখন মুক্ত।ইচ্ছা করলে চলে যেতে পারেন।তুমি কি আমার প্রেমে পরেছ?নাবিলের দিকে সরসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় আয়না।হঠাৎ করে আয়নাকে সজোরে থাপ্পর মারে নাবিল।তার সমস্থ শরীর ক্রোধে কাঁপতে থাকে।আয়নার ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হচ্ছে।সে একদলা রক্তমাখা থুতু নীচে ফেলে নাবিলের দিকে তাকিয়ে হেসে দিল।তারপর ঠাণ্ডা গলায় নাবিলকে তার মুখোমুখি বসতে বলল।সুবোধ বালকের মত আয়নার মুখোমুখি বসল নাবিল।আয়না বলল তুমি আমার প্রেমে পড়েছ।খুন করা তোমার জন্য স্বাভাবিক হলেও প্রেমানুভুতি তোমার জন্য নতুন।তাই তুমি অস্থির বোধ করছ।তুমি চাইলে তোমাকে আমি সাহায্য করতে পারি।আপনি আমাকে কিভাবে সাহায্য করবেন?ক্লান্ত স্বরে জানতে চাইল নাবিল।আমি তোমাকে বিয়ে করব!সহজভাবে উত্তর দিল আয়না।


২
বস্থার ভিতরে গলা কাঁটা একটা লাশ পাওয়া গেছে।পুলিশ সনাক্ত করে বলেছে লাশটি শীর্ষ সন্ত্রাসী নাবিলের।সে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিল।সিরিয়াল কিলার নাবিলের মৃত্যুতে কিছু মানুষ আনন্দ মিছিল এবং এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছে।সাংবাদিকরা নাবিল বিষয়ক এক্সক্লুসিভ খবরের জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে।পুলিশ বলেছে এই হত্যাকাণ্ড বিরোধী পক্ষের কাজ হতে পারে।তদন্ত করার পরই পুলিশ সঠিক উত্তর দিতে পারবে!

আজ অনেকদিন পর রহমতের মেজাজ খারাপ।রহমত নির্লিপ্ত থাকতে পারছে না।সব কিছুর প্রতি তার প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে।তার নাকের ডগার উপর নাবিলকে হত্যা করা হয়েছে।অথচ সে জানে না কখন কিভাবে এই ঘটনা ঘটল।আয়না নামক মেয়েটিকে নিয়ে প্রথম থেকে রহমতের মনে সংশয় ছিল।নাবিলকে সাবধান হতে বলেছিল।কিন্তু আফসোস!চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী।

মাওলানা হাফিজ ঝিম মেরে বসে আছে।নামাযের সময় চলে যাচ্ছে,অথচ নামায পড়তে ইচ্ছে করছে না।নামায পড়াটা এই মুহূর্তে তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।তিনি আয়নাকে নিয়ে চিন্তিত।আয়নাকে খুন করার জন্য শীর্ষ সন্ত্রাসী নাবিলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।কিন্তু এখন নাবিল নিজেই খুন হয়ে বসে আছে।একটা মেয়েছেলেরে সামলাতে পারেনা, এ কেমন সন্ত্রাসী!বেশ কয়েক বছর আগে মাওলানা হাফিজের ছেলে খুন হয়।ছেলেটার স্বভাব চরিত্র অবশ্য ভালো ছিল না।তিনটা ধর্ষণের মামলা তার মাথার উপর ঝুলতেছিল।পুরুষ মানুষের একটু বদ অভ্যাস থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।টাকা পয়সা এবং ক্ষমতা দিয়ে সেটা সামাল দিতে পারতেন তিনি।কিন্তু তার পূর্বেই ছেলেটা তার খুন হয়।মাওলানা হাফিজ জানতে পারে এই খুনের পিছনে আয়না নামক একজন রহস্যময়ী মেয়ের হাত আছে!

বিয়ারের ক্যানে চুমুক দিয়ে সিগারেটে কষিয়ে একটা টান দিলাম।খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত এখন আমাকে নিতে হবে।আয়নাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব আমাকে দেয়া হয়েছে।আমি সে কাজে অনেকটাই অগ্রসর হয়েছিলাম।আর একটু কাজ বাকি আছে।কিন্তু আয়নাকে খুঁজে পেলেই মাওলানা হাফিজের ছেলেকে হত্যার দায়ে তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।একজন ধর্ষকের হত্যাকারীর বিচারের প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।তাছাড়া আয়নার রহস্যময় জগতের রহস্য আমি ভেদ করতে চাচ্ছি না।কবিগুরুর ভাষায় বলতে হয়,

চিরকাল এইসব রহস্য আছে নীরব
রুদ্ধ ওষ্ঠাধর
জন্মান্তের
নবপ্রাতে সে হয়তো আপনাতে
পেয়েছে উত্তর।।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪২
২৫টি মন্তব্য ২৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×