গ্রাম দেশে একজাতের সাবেক মাদ্রাসা ছাত্ররা শীতকালে ওয়াজ মাহফিল করে থাকে। ‘মা’ বিষয়ক ওয়াজ-নসীহত তার মধ্যে অন্যতম এবং সর্বাধিক জনপ্রিয়। এসব ওয়াজের আবার সিডিও বের হয় মাঝে মধ্যে। সিডি গুলোর নামও বেশ চকটদার যেমন “মায়ের দু:খ”, “মায়ের কান্না” ইত্যাদি।
এসব বয়ানে প্রায়ই মোল্লা সাহেবরা একটা গল্প ফেদে বসেন। যার ব্যাকগ্রাউন্ড মোটামুটি এরকম- ছেলে বিয়ের আগে ভালোই ছিলো, বিয়ের পরে বৌ-শাশুড়ির কুটিল চক্রান্তে ছেলে এখন মা-বাবার খোজ খবর নেয়না। মা এখন অতি দু:খ-কষ্টে চোখের পানি ফেলে। শেষমেষ বৌ-শাশুড়িরর জারিজুরি ধরা পড়ে এবং শাশুড়িকে শায়েস্তা করে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে আসে এবং মায়ের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
এখানে ছেলের শাশুড়িকে দেখানো হয়ে ভিলেন হিসেবে। এসব অর্ধশিক্ষিত লোকজনদের বয়ান শুনলে মনে হয় যেন শাশুড়ি নামক অত্যন্ত নীচ চরিত্রের একজন চিজ থেকে সর্বদা একশো হাত দুরে থাকাই উত্তম। শাশুড়ীদের কাজ যেন খালি ঘোট পাকানো আর সংসারে অশান্তি লাগানো।
কেন? শাশুড়িও কি একজন মা নন? শাশুড়ি কে কেন সম্পুর্ন অবান্চিত একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখানো হয়? তাও আবার শুধুমাত্র ছেলের শাশুড়িকেই নিশানা করে আমাদের ওয়াজঅলারা ছুরি চালান। মেয়ের শাশুড়ির কথা বলা হয়না কেনো?
এসব আসর-জমানো বয়ান শুনে কে কি শিখে বা বুঝে তা আমার জানা নাই। তবে আমার মতামত হলো এসব কাল্পনিক বয়ানের অপকারিতা হিন্দি সিরিয়ালের চাইতে কম নয়।
কোন রুপ বাস্তবতার নিরিখে বিচার না করেই শুধুমাত্র তাদের “হুজুর” নামের কারণে দিনের পর দিন আমাদের সরল প্রাণ গ্রাম্য মানুষরা এসব শুনে যাচ্ছে।
এসব বয়ান ওয়ালাদের প্রতি আমার আহবান, আপনারা চাইলে বহু গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারেন সমাজ গঠনে। তাই এসব কাল্পনিক, বেহুদা গল্প না বলে বাস্তবতার দাবি মেটায় এমন ওয়াজ করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


