[আইয়াপ্পা পানিকর (১৯৩০--২০০৬ খ্রী.)-এর জন্ম কেরালায়। মালয়ালাম সাহিত্যে আধুনিকতার সূত্রপাত এঁরই কবিতার মধ্য দিয়ে। মালয়ালাম ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই কবিতা রচনা করেছেন। খ্যাত ছিলেন ক্রিটিক এবং পণ্ডিত হিসেবেও। কবিতার জন্য কেরালা সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান ১৯৭৫ সালে। ক্রিটিসিজমেও একই পুরস্কার পান ১৯৮৪ সালে। ওই বছরই পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কারও। পদ্মশ্রী পান ২০০৪ এ। এগুলো ছাড়াও কবিতার জন্য আরও অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা তিনি পেয়েছেন। ২০০৫ সালে ভারতের সাহিত্য অকাদেমি থেকে বাংলায় তাঁর কাব্যসংগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে উৎপলকুমার বসুর অনুবাদে। সেটা যারা পড়েছেন তারাও এই অনুবাদগুলো পড়ে দেখতে পারেন।]
এটা কি আমাদের জন্য লজ্জাজনক নয়?
প্রতিদিন
রাতে
রান্নাঘরে
সামান্য খাবার
রাখতে হবে অবশ্যই।
ধরো,
চোরকে আসতে হলো
যদি সে ক্ষুধার্ত থাকে
খাবার খুঁজে না পায়
সে
হয়তো রেগে যাবে
এবং পার হয়ে যাবে
আর ফিরে যাবে
একটা কিছু চুরি না করেই।
এটা কি আমাদের জন্য লজ্জাজনক নয়?
শাদা মেঘ
শাদা মেঘ থেকে হয়তো কখনোই বৃষ্টি হয় না!
তারা কেবল অলসভাবে ভেসে যায় আকাশপথে!
কালো মেঘ বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেয় মাটি
বজ্র শিহরিত করে ধরিত্রীকে
বিদ্যুচ্চমক আলোকিত করে আকাশকে
সাগর কালো মেঘকে প্রীতি সম্ভাষণ জানায় তার ভাঁজ করা বাহু দিয়ে।
যখন ওইসব তুলোর শাদা বল
আলতোভাবে ভেসে যায় নীলাকাশ দিয়ে
আমরা দেখি, তা কতই না সুন্দর!
তুমি থেমে যাও আর তাকিয়ে থাকো অপলক
ওই শাদার সৌন্দর্য কোথায় খুঁজে পাবে আর?
এপিটাফ
এখানে শায়িত আছে মি. পানিকরের দেহ
যিনি তার আতঙ্কের দিনগুলোর শেষে
কিছুকালের জন্য কবুল করেছেন শুয়ে থাকা।
জানা যায়নি তার আত্মার ভাগ্যে কী ঘটেছে
যদি আদতেই ওরকম কিছু থেকে থাকে।
যখন বেঁচে ছিলেন একদম আলাদারকম ছিলেন না তিনি আমাদের থেকে;
তার মাংসপেশী সত্যি বলতে কি মাঝেমধ্যে বিদ্রোহ করেছে
আর উল্টেপাল্টে দিয়েছে তার সূক্ষ্ম সংবেদনশক্তিকে।
স্থানকে তিনি কখনোই তার পছন্দের উপযোগী করতে পারেননি;
তার সময়জ্ঞান আপনারা জানেন খুব একটা জোরালো ছিল না।
তার পকেট-বইতে অবশ্যই ছিল হরেক মতবাদ;
যা কিছুই তিনি স্পর্শ করতে পারতেন
সেসব তাকে বলত আলাদা কাহিনি।
সমস্ত জীবন তিনি ধৈর্য ধরে শিখছিলেন,
কোন্ ভাবে বেঁচে থাকাটা ঠিক হবে না মোটেও।
তিনি সম্ভবত জানতেন
আরেকবার সুযোগ দেয়া হলে
আগের বারের চেয়ে এক্ষেত্রে অনেক ভালো করবেন অবশ্যই।
এবং যে-তুমি যাচ্ছ পাশ দিয়ে
বেশি সময়ের জন্য দাঁড়িয়ো না এখানে
বরং চুপচাপ চলে যাও কাছাকাছি কোনো কবরস্থানের দিকে
যেটি হয়তো অপেক্ষা করে আছে তোমার জন্য।
আরশোলা
যখন আরশোলা বিড়ালকে খেলো,
ইঁদুর বিষণ্ন হয়ে বসে থাকল:
আমাকে এখন কে খাবে, হায়!
ভাগ্যও কি আরশোলার মতো?
নিজের ষষ্ঠ পায়ে লাফিয়ে,
আরশোলা এসে বলল:
ইঁদুর, তোমার কান্নার দরকার নেই;
আমি তোমাকেও খাব, প্রিয়।
কিন্তু যদি, তার আগে,
তুমি এক টুকরো বিড়ালের মাংস খেয়ে নিতে পার
তোমাকে আমার খেতে আরও সুস্বাদু লাগবে;
আর আমি সেটা খুব পছন্দ করব।
ইঁদুর যখন বিড়ালের লেজ খেলো,
ইঁদুরের লেজ তখন আরশোলার মুখে।
যে যুক্তিবাদী বিষাদভরে আরশোলার লেজ দেখছে,
সে কি একজন মানুষ?
সেই মানুষটা কি একজন যুক্তিবাদী?
চুরি
আমি না হয় কিছু জিনিস চুরিই করেছি
তার জন্যে আমাকে তোমরা চোর বলবে কেন?
কিন্তু তুমি আমাদের জামাকাপড় চুরি করেছ!
যদি আমি চুরি করে থাকি তোমাদের জামাকাপড়, তোমাদের জামাকাপড়,
সেটা কেবল তোমাদের লজ্জাবোধকে রক্ষা করতে,
সেটা কেবল তোমাদের লজ্জাবোধকে রক্ষা করতে।
তুমি আমাদের মুরগীও চুরি করেছ!
যদি আমি চুরি করে থাকি 'আমাদের মুরগী', যেমন তুমি বললে,
সেটা কেবল মুরগীটাকে ফ্রাই করে খাব বলে,
সেটা কেবল মুরগীটাকে ফ্রাই করে খাব বলে।
আর গরু যে চুরি করেছ আমাদের তার কি হবে?
গরু যে চুরি করেছ আমাদের তার কি হবে?
তুমি বলছো, গরু?
বেশ, যদি আমি চুরি করে থাকি তোমাদের গরু, তোমাদের গরু,
সেটা করেছি, সেটা করেছি আমি গরুর দুধ খাব বলে।
আমার ডাক্তার, খেয়াল করো, ফ্রাইকরা মুরগী
বা গরুর দুধ খেতে বারণ করেন নি।
যখন কেউ চুরি করে ভালো কোনোকিছু, ভালো কোনোকিছু,
তোমরা অহেতুক কলরব জুড়ে দাও
আর তাকে খেতাব দাও চোর, একটা চোর!
এটা তোমাদের আইনের দোষ,
এটা তোমাদের আইনের দোষ।
তোমরা তাহলে তোমাদের আইন পাল্টাও, আমি বলছি,
নাহলে তোমাদের আইনই পাল্টে দেবে তোমাদের!
ছবির লিংক:
Click This Link
আলোচিত ব্লগ
গল্পঃ প্রত্যাবর্তন

চন্দ্রা পশ্চিমের বারান্দায় উদাস হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।আকাশে ছড়ানো ছেটানো মেঘ, সেই মেঘের মতই তার মনটা আজ বিক্ষিপ্ত ।
ইদানীং মা কি সব সন্দেহ করে তাকে।অকারণই মনে হয় তার কাছে। তারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।