আপনি কি আপনার নাম নিয়ে লজ্জিত ? হুম, প্রশ্নটা কেমন হয়ে গেল না ?
না না সত্যি করে বলেন তো, আপনার কি কখনও এমন মনে হয় না যে আপনার নাম টা ঠিক জুতসই হয় নি ?
আচ্ছা দু একটা ঘটনা বলি, আমার পাশের বাসায় একটা বড় আপা ছিলেন যার নাম হাসি। আমরা ডাকতাম 'হাসি আপা' বলে। আমার মনে হত নামটা তাকে খুব মানিয়েছে। তার হাসিটা খুব মিষ্টি। তা একদিন ওদের বাসায় গেলে হাসি আপা বলল-
- শোন, আমাকে আর হাসি আপা বলবি না।
আমি অবাক হয়ে বললাম, - তাইলে কি বলব !
- বলবি 'মনি আপা'
- হাহ ! কেন, কেন, কেন! হাসি নামটা তো সুন্দর।
- নাহ, বেশি তর্ক করিস না। আমাকে মনি আপা বলে ডাকবি।
দেখলাম, আপা বেশ সিরিয়াস। নিজের নামের ব্যাপারে যে কারো অস্বস্তি থাকতে পারে তা আমি সে প্রথম দেখলাম। এর পর থেকে ওদের বাসায় গেলে খুব মনে রাখতে হত। পাছে মুখ ফস্কে বলে ফেলি ! আর তার পুরনো নাম হাসি আপা বললেই উনি খুব রাগ করতেন। ধীরে ধীরে সবাই তাকে ‘মনি’ নামেই ডাকতে লাগল।
ঘটনা ২
আমার নিজের বড় ভাইয়ার ডাক নাম ‘রতন’। কিন্তু সে যখন মাদ্রাসায় পড়া শুরু করল আর নামাজ-কালাম পরতে লাগল তখন কিছু পরিবর্তন আসল। বাসার বাইরে বা কলেজে তাকে কেউ ডাক নামে চিনত না। সে তার full name বা ভাল নামে পরিচিত হয়ে উঠল। এবং আমরা বুঝতে পারতাম যে সে ওই নামেই বেশি অভ্যস্ত।
আমার কথাঃ
আমার ডাক নাম ‘স্বপন’। আর নামটা হিন্দু নাম হিসেবেই বেশি পরিচিত। এই নাম নিয়ে বিভ্রান্তি আমারও ছোটকাল থেকেই ছিল। অনেক অনেক বার আমাকে এই প্রশ্নের মুখে পরতে হয়েছে- “আচ্ছা, তুমি কি হিন্দু?” ছোট বেলায় অনেক সময় মজা করে উত্তর দিতাম- ‘হ্যা’ !! কিন্তু বড় হওয়ার পর এই নাম বিভ্রান্তি আমাকে পীড়া দিতে থাকে। আমি আমার নাম দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছি। এটা কি ঠিক ?? কই আমার কোন হিন্দু বন্ধুর নাম তো হাসান, কামাল, জাকির, মইন না। আমার খ্রিষ্টান বন্ধুর নাম তো বিভ্রান্তি তৈরি করে না। তবে আমরা মুসলমানরা কেন এমন বিভ্রান্তিকর নাম রাখি !!!
এখান থেকেই মনে প্রশ্ন জাগে, আসলে মানুষের নাম রাখার ব্যাপারটা কি ? নাম রাখাটা কেনই বা গুরুত্বপূর্ণ ? আমাদের কিরকম নাম রাখা উচিৎ ? ইতাদি ইত্যাদি।
নাম রাখার ব্যাপারে কিছু মাত্রার নিয়ন্ত্রন অনেক দেশেই আছে। এর কিছু কারন ধর্মীয় আবার কিছু কারন ঐতিহ্যগত। __________________
অল্প কিছুদিন আগেই সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কারণে ৫০টি নাম নিষিদ্ধ করে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় লিন্ডা, আমির ও স্যান্ডি এ ধরনের নামও অন্তর্ভুক্ত। সংবাদ সংস্থা ইউপিআই এ খবর দিয়েছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় বলছে, যে নামগুলোর তালিকা তারা প্রকাশ করেছে যেগুলো তাদের কাছে ইসলামিক ও আরবীয় মনে হয়নি।কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, ওই নামগুলো সৌদি আরবে আর রাখা যাবে না।
ফলে এখন থেকে দেশটিতে বসবাসরত কেউ তাদের সন্তানের এসব নাম রাখতে পারবে না এবং ওইসব নামে কাউকে ডাকাও যাবে না।
এখন থেকে কেউ তার সন্তানের নাম- লিন্ডা, অ্যালিস,রাম, বেঞ্জামিন,সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত যেমন- সুমু (রাজাদের মর্যাদাসূচক আখ্যাবিশেষ),মালিক (রাজা)এবং মালিকা (রাণী) রাখতে পারবে না।
ওই তালিকার আরো কিছু নিষিদ্ধ নাম হলো- মালাইকা (ফেরেশতা),আব্দুল আতি, আব্দুন নাসের, আব্দুল মুসলেহ, নারিস, ইয়ারা, লোল্যান্ড, তিলাজ,বারাহ,আব্দুন নবী, আব্দুর রাসূল, মামলাকা (রাজত্ব), তবারক, নারদিন, মালাইন, অ্যালাইন, ইনার, মালিকতিনা, জিব্রাইল, আব্দুল মইন, আবরার, ঈমান, বায়ান, বাসেল, উইরিলাম, নবীয়াহ, আমির, অ্যারাম, নারিজ, রিতাল, ল্যারিন, কিবরিয়া, লরেন ইত্যাদি।
আমার পুরো নাম মোঃ রেজাউল ইসলাম। আমার পাসপোর্টেও এভাবে লেখা। (MD REZAUL ISLAM). আর এই নাম নিয়ে আমিও পরলাম সমস্যায়। আমাকে যে ID Card দেয়া হোল তাতে ইংরেজিতে লেখা MD REZAUL ISLAM
আর আরবিতে লেখা محمد رجا ا اسلام
আর আমার ইউনিভার্সিটিতে লিখল محمد رضا اسلام
আর এই নামের গড়মিলের কারনে আজও আমি suffer করি। Western Union এবং এখানকার একটা ব্যাংক আমার নামের বিপরীতে কোন একাউন্ট খুলতে রাজি হয়নি।
আমার শ্রদ্ধেয় সহকর্মী এবং কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ হারুনুর রশিদ আশকারী। তিনি ডঃ আশকারী নামেই বেশি পরিচিত। কিন্তু সৌদি আরবে চাকুরি এসে হল বিপত্তি। কারন আরবি ভাষায় আশকারী শব্দের অর্থ আর্মি বা মিলিটারি। এখন কারও নাম মিলিটারি ক্যামনে হয় !! কাজেই তাকে বেশ ঝামেলাতেই পরতে হয় !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




