গত কাল থেকে কিছু পত্র পত্রিকা আর আওয়ামী পন্থী লোকজন বলে আসছে যে এটা জামাতের হাত থেকে দখল মুক্ত করা হয়েছে। আসলেই কি এটা জামাত বেআইনি ভাবে দখল করেছিল ???
বিবিসি বাংলার এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন কিন্তু তেমনটি বলে না।
১৯৪৭ সালে, অর্থাৎ যে বছর ভারত-পাকিস্তান ভাগ, ওই বছর তার বিয়ে হয় এবং স্বামীর সঙ্গে কলকাতায় চলে যান।
১৯৬০ সালে সুচিত্রা সেনের বাবাও তার বাড়িটি জেলা প্রশাসনের কাছে ভাড়া দিয়ে পরিবার নিয়ে কলকাতায় চলে যান।
এরপর দীর্ঘদিন বাড়িটি সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
১৯৮৩ সালে ইমাম গাযযালী ইন্সটিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে বাড়িটি ইজারা নেয় এবং এখানে একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল চালু করে।
এক পর্যায়ে প্রশাসন বাড়িটির ইজারা বাতিল করলেও ইমাম গাজ্জালি ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়।
সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সম্পাদক রাম দুলাল ভৌমিক বলছেন, উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে পাবনার জেলা প্রশাসক এই ইজারা বাতিল করেন। কিন্তু তারা হাইকোর্টে রিট করে।
ইমাম গাযযালী ইন্সটিটিউটের সেক্রেটারির দায়িত্বে আছেন পাবনা জেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবিদ হাসান।
মি. হাসান অবশ্য বলছেন, তারা যখন বাড়িটি লিজ নেন, তখন তারা জানতেন না যে এটি সুচিত্রা সেনের বাড়ি। সুতরাং এখন সরকার যদি বাড়িটিকে ফিরিয়ে দিতে বলে এবং এখানে সুচিত্রা সেনের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান করতে চায়, সেক্ষেত্রে তারা সহযোগিতা করবেন।
তিনি বলে, “সরকার যদি এই মহান শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কোনো প্রতিষ্ঠান করতে চায় আমরা সহযোগিতা করব। আমরাও পাবনার মানুষ। তবে আমাদের একটা আপিল যে, আমাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটা পরিচালনার জন্য সরকার যদি এর আশেপাশে একটা ব্যবস্থা করে দেয়, আমরা বাড়িটা ছেড়ে দিতে রাজি আছি।”
সুচিত্র সেনের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি পুনরুদ্ধার করে এখানে যাতে তার নামে একটি সংগ্রহশালা করা হয়, সেই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, চলচ্চিত্র উৎসব ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
কোলকাতায় হাসপাতালে সুচিত্রা সেনের পরিস্থিতি নিয়ে খবর প্রকাশের সাথে সাথে সেই দাবি আবারো উঠে আসছে।
বিবিসি বাংলা
আর এখন আইনি লড়াইয়ে সরকারপক্ষ জয়ী হয়েছে। তা বাংলাদেশে সরকার জয়ী হবে এটাই তো স্বাভাবিক। বিশেষ করে যদি জামাতের নাম গন্ধও কোথাও থাকে, তবে তো কথাই নেই ! যাই হোক, আপনার অন্তর বা বিবেক কি বলে সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। আইনি প্রক্রিয়াতে পূর্ববর্তী সময়ে সরকার যে লিজ দিয়েছিল, সেটা বাতিল হয়ে গেল। বিবিসি বাংলার ভাষায় -
"পাবনার জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দিন বিবিসিকে বলেছেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইমাম গাজ্জালি ইনস্টিটিউট উচ্চ আদালতে গিয়েছিল।
আদালত ইজারা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে প্রতিষ্ঠানটির রিট আবেদন খারিজ করে দেয়।
একইসাথে আদালত বাড়িটিকে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী এখন জেলা প্রশাসন বাড়িটিকে এখন তাদের দায়িত্বে নিয়েছে।
বাড়িটি নিয়ে এখন কী করা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত সরকার নেবে বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।"
অর্থাৎ জামাত সমর্থিত এই প্রতিষ্ঠান দেশের আইনি বিধিবিধান মেনেই এই লিজ নিয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই যথাযত উপায়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। আর আদালতের রায় মেনেই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জায়গাটি ছেড়ে দিতে হয়। এখানে জামাতকে দখলদার বানিয়ে দেয়াটা বোধয় খুব একটা যুক্তিসঙ্গত নয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




