somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামান্য মানুষ হিসেবে আমাদের বুকটাই শুধু ফাটতে পারে। চোখে পানি ফেলতে পারি, কিছু করার ক্ষমতা নেই।

২২ শে জুলাই, ২০১৪ রাত ৩:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী তাঁর হরিজন পত্রিকায় ১৯৪৬ সালের ১৪ জুলাই একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন, যার শিরোনাম ‘ইহুদি ও প্যালেস্টাইন’। তাঁর পক্ষে দিব্যদৃষ্টিতে দেখা সম্ভব ছিল না ঠিক, ৬৮ বছর পরে ১৪ জুলাই বা জুলাই মাসের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহব্যাপী ফিলিস্তিনে কী ঘটবে। কিন্তু তাঁর মতো মহামানব ভবিষ্যতের কিছুই অনুমান করতে পারেন না, তাও নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের পরিকল্পনামতো ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে কী ঘটতে যাচ্ছে, মানবজাতির জন্য তার পরিণাম কী হবে, তা উপলব্ধির ক্ষমতা না থাকলে তিনি মোহনদাস বাবু হয়ে থাকতেন, মহাত্মা গান্ধী হতেন না।
ওই সময় বিখ্যাত মার্কিন সাংবাদিক লুই ফিসার মহাত্মা গান্ধীর সাক্ষাৎকার নেন। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ ছাড়াও আরও কিছু আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়ে আলোচনাও হয় তাঁর সঙ্গে। ইহুদিদের নিয়ে আরবদের বিরুদ্ধে, আরবদের শায়েস্তা করতে, আমেরিকা ও ব্রিটেন যে দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্র করছে, তা নিয়ে কথা হয়। তিনি বলেছিলেন, আমেরিকা ও ব্রিটেনের বুদ্ধিমতো ইহুদিরা যে আরব ভূখণ্ড দখল করে নিজেদের ‘বাসভূমি’ বানানোর পাঁয়তারা করছে, তা হবে তাদের জন্য ভয়াবহ ভুল—erred grievously; একটি নগ্ন সন্ত্রাসবাদী কাজ—naked terrorism.
গান্ধীজি লিখেছিলেন: ‘এখন পর্যন্ত আমি আরব-ইহুদি বিবাদ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করিনি। তার সংগত কারণ রয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে ওই প্রসঙ্গে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি ওই প্রসঙ্গে কিছু বলিনি তার কারণ, ওই প্রসঙ্গে আমার জ্ঞান খুব সীমিত। লুই ফিসারের সঙ্গে প্রসঙ্গক্রমে কিছু কথা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, নির্মমভাবে তাদের একটি ভুল পথে পরিকল্পনা করা হচ্ছে—I do believe that the Jews have been cruelly wronged by the world. তারা ইউরোপে নির্মমভাবে নিপীড়িত হয়েছে, কিন্তু তাদের প্যালেস্টাইনে পাঠানোর প্রশ্ন আসতেই পারে না। পৃথিবীতে তারা অবদান রেখেছে, পৃথিবীর সবখানেই হবে তাদের বাড়ি, প্যালেস্টাইনে আমার দরকার কী? আমেরিকা ও ব্রিটেন এই ফন্দি আঁটছে। নগ্ন সন্ত্রাসবাদের আশ্রয় নিচ্ছে (তাদের দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার)। বিশ্বনাগরিক (citizenship of the world) হয়ে থাকাই তাদের জন্য বেশি সম্মানজনক ও বাস্তবসম্মত। সব দেশেই তারা সম্মানিত অতিথি হয়ে থাকবে (honoured guests of any country). তাদের মিতব্যয়িতা, তাদের মেধা ও তাদের পরিশ্রমের জন্য যেকোনো দেশে তারা সম্মানিত নাগরিক হয়ে থাকতে পারে। তাদের সবাই সমাদর করেই রাখবে।’
ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দুই বছর আগে গান্ধীজি বলেছিলেন: ‘তাদের মেধা আছে, কেন তারা আমেরিকার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকবে। তাদের জাতিসত্তার জন্য অবাঞ্ছিত জায়গায় (unwelcomed land) যাওয়ার দরকার কী? সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের মাধ্যমে প্যালেস্টাইনি ভূখণ্ড তারা কেন দখল করবে? Why should they resort to terrorism to make good thir forcible landing in Palestine? যেহেতু তারা ইউরোপে নির্যাতিত হয়েছে, এখন অহিংসার মাধ্যমে পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।’ বঙ্গীয় প্রবচন—চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনি। অহিংসার দেবতা গান্ধীজির উপদেশ ইহুদিবাদী বা জায়নিস্ট নেতারা শুনবেন, তা যে বিশ্বাস করবে সে এখনো মাতৃগর্ভে।
উনিশ শতকের শেষ দিক থেকে আরব ভূখণ্ডে ইহুদিদের চোখ পড়ে এবং তারা সেখানে এসে জড়ো হতে থাকে। হিটলার ক্ষমতায় আসার পর নাৎসিদের নিপীড়ন শুরু হলে জার্মানি থেকে ইহুদিরা পালিয়ে এদিকে আসে। আরবরা প্রতিবাদ করে, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনের মদদে তাদের এই অঞ্চলে আবাসন বাড়তেই থাকে। ১৯২০, ’২১, ’২৯ এবং ’৩৬ সালে ইহুদিদের সঙ্গে আরবদের সংঘর্ষ হয়। ১৯৪৭-এ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে প্যালেস্টাইন দ্বিখণ্ডিত করে ইহুদিদের জন্য রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয় পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদীদের নীলনকশামতো। ১৯৪৮-এ ব্রিটেন সেখান থেকে চলে যায়। ওই বছরের ১৪ মে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণা করে। মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, সৌদি আরব এভাবে জবরদখলের মাধ্যমে তাদের জমিতে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। বহুবার যুদ্ধ হয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে আরবদের। আমেরিকা-ব্রিটেনের সহায়তায় ইসরায়েলের কোনো ক্ষতি হয়নি, পরাজিত হয়েছে আরবরা। পরাজিত হয়েছে সত্য ও মানবতা, বিজয়ী হয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও বর্বরতা। কারণ, মানবতার চেয়ে মারণাস্ত্রের মূল্য বেশি।
আজ পৃথিবীর বড় বড় দেশ পরিচালিত হচ্ছে নিম্ন ও মাঝারি মানের নেতৃত্ব দ্বারা। গত শতাব্দীর পঞ্চাশ, ষাট, এমনকি সত্তরের দশক পর্যন্তও তৃতীয় বিশ্বে বিশ্বমানের উঁচু ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতা ছিলেন অনেকেই। তাঁরা পশ্চিমা স্বৈরাচারের প্রতিবাদ করতে পারতেন। ভয় পেতেন না। বাকিটুকু পরতেঃ View this link
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×