somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বর্ষায় সাগর কন্যা কুয়াকাটা

০২ রা জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :







এই এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে গিয়েছিলাম কুয়াকাটা। দেশে বিদেশে অল্প বিস্তর ঘোরাঘুরি করা হলেও কুয়াকাটা যাওয়া হয়নি কখনো। এবার তাই ঝড় বাদলের দিনেই যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। ঠিক হলো লঞ্চে যাবো। সঙ্গে আরেক বন্ধু দম্পতি। অফিসের এক সহকর্মীর সহায়তায় বিলাস বহুল লঞ্চ কীর্তনখোলা-২ এর ভিআইপি কেবিন বুক করা হলো অন্য কোন কেবিন না পাওয়ার কারনে। যাত্রার দিন বন্ধু দম্পতি জানালো ঝড় বাদলের কথা চিন্তা করে তারা যাত্রা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অগত্যা কি আর করা- আমি আর আমার বউ বাক্স পেটরা গুছিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে কীর্তনখোলায় চড়ে বসলাম।

এটা আমার প্রথম লঞ্চ ভ্রমন, তাই ব্যাপক উত্তেজিত ছিলাম আর ভিআইপি কেবিন মোটামুটি এলাহি কারবার- এটাচড্‌ বাথ, সোফা, ড্রেসিং টেবিল, কারুকার্য করা ডাবল খাট, এলসিডি টিভি, ফ্রিজ, স্প্লিট এসি কি নেই। পুরোপুরি বাসা যেন। রাতে আলিশান ডাইনিংয়ে মাছ, মাংস, সব্জী, ভর্তা আর ডাল দিয়ে ফাটাফাটি ডিনার সেরে বিছানায় আরাম করে শুয়ে সিনেমা দেখতে দেখতে ঘুম, অতঃপর নির্ঝঞ্ছাটে ভোরে বরিশাল আগমন। বরিশালে লঞ্চ ঘাটে নেমেই নাস্তা সেরে লোকাল বাসে কুয়াকাটার পথে যাত্রা। পাঁচ ঘন্টায় চারটি ফেরি আর চরম বিরক্তি উৎপাদন করে অবশেষে বেলা একটায় বাস পৌছলো কুয়াকাটায়। হোটেল বুক করেছিলাম সি-বীচের একদম কাছেই, হোটেল সি ভিউ। তেমন আহামরি হোটেল না কিন্তু বিশাল একটা এয়ার কন্ডিশন্ড রুম দেয়া হলো আমাদের মাত্র ষোলশ টাকা প্রতি রাত ভাড়ায়, সামনে বিরাট বারান্দা, সরাসরি সাগরের দিকে মুখ করা। বারান্দায় বসেই সাগর থেকে ধেয়ে আসা প্রবল বাতাসের দাপাদাপি টের পাওয়া যায়।

প্রথম দিনটা বরাদ্দ রাখলাম বীচে ঘুরাঘুরি করার জন্য আর আশপাশটা রেকি করার জন্য। অফ সিজন, তাই পর্যটকদের তেমন আনাগোনা নেই, আশে পাশের এই নির্জনতা বরং ভালোই লাগলো। আবহাওয়া কিছুটা মেঘলা, ঝড় হবে হবে ভাব, সাগরে তাই বেশ বড় বড় ঢেউ আর হাওয়ার প্রচন্ড দাপাদাপি। সন্ধে পর্যন্ত বীচের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত হেটে বেরালাম আর অনেক ডাব খেলাম। অসাধারন স্বাদ আর দাম ও ঢাকার অর্ধেক। রাতে ব্যাপক খাইদাইয়ের পর এক মটর সাইকেলওয়ালার সাথে পরদিন সব দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখানোর কন্ট্রাক্ট করে হোটেলে ফিরে ঘুম। বলা বাহুল্য কুয়াকাটায় মটর সাইকেল ঘুরাঘুরির প্রধান বাহন, কিছু রিকশা ভ্যান ও আছে। ভোরে নাস্তা সেরে প্রথমে গেলাম ঝাউবন আর গঙ্গামতির চর, সেখানে বেশ কিছুক্ষন কাটালাম, চমৎকার জায়গা আর প্রতি ব্রেকেই আনলিমিটেড ডাব চলতে লাগলো। বীচের ওপর দিয়ে মোটর সাইকেল ছুটছে আর হাওয়ার মাতামাতি, অসাধারন লাগছিলো। গঙ্গামতির চর থেকে নৌকায় মটর সাইকেল এবং আরোহী খাড়ি পার হয়ে অন্য পাড়ে নেমে লাল কাকড়ার চরে (মতান্তরে কাউয়ার চর)। কাকড়ার দেখা অবশ্য পাওয়া গেলনা কাছ থেকে। ব্যাপক চালাক এই রেড ডেভিল গুলি। লাল কাকড়ার চর থেকে বিচের ওপর দিয়ে আর প্রায় আধাঘন্টা ঘুরে মিস্ত্রিপাড়ায় বৌদ্ধ মন্দির দেখতে গেলাম। গাইড গিয়ে পুরোহিতকে ডেকে আনলো খুলে দেবার জন্য। ভিতরে ঢুকে ৩০ ফুট উচু বৌদ্ধ মুর্তি দেখলাম, কিছু টাকা নজরানা দিলাম। ছবিটবি তুলে আবার যাত্রা আরেকটি বৌদ্ধ মন্দিরের দিকে সেটি কুয়াকাটার মুল অংশের দিকে। সেখানে দেখলাম কুয়াকাটার সেই কুয়া যার নামে এই এলাকার নামকরন। সেখানেও আরেকটি বৌদ্ধ মুর্তি আছে তবে অনেক ছোট। তাঁরপর দেখলাম বালুর নিচ থেকে উঠে আসা পুরোন আমলের কাঠের নৌকা যা সেনাবাহিনীর সহায়তায় ট্রেইল বসিয়ে তীরে এনে রাখা হয়েছে। এটিকে সংরক্ষনের আর কোন ব্যাবস্থা দেখলাম না।

ইতিমধ্যে দুপুর হয়ে এসেছে। দুপুরের পর যাবার প্ল্যান লেবুর চর বা লেম্বুর চর। গাইড কাম মটর সাইকেলওয়ালাকে বলে দিলাম লেম্বুর চরে ফোন করে ভাত আর ডাল রান্না করে রাখার নির্দেশ দিতে। আমরা কিছুক্ষন রেষ্ট নিয়ে তারপর ওখানে গিয়ে তাজা মাছ সিলেক্ট করে দেব রান্না করার জন্য। লেম্বুর চর আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। সবুজ বন আর সাগরের চমৎকার মিলবন্ধন। বনের ভিতর ধবধবে সাদা বালুর ওপর পলিথিন দেয়া ছাপড়া যেখানে তাজা মাছ ভেজে দেয়া হচ্ছে। আমরা একটি মাঝারি সাইজের ইলিশ, একটি বড় গলদা চিংড়ি আর দুটো মাঝারি রুপচান্দা মাছ বেছে দিলাম ৭০০ টাকায় রান্না করে দেয়া সহ। ভালো ডিল মনে হলো আর না হলেই বা কি, ঘুরতে এসে একটু এদিক ওদিক হলোই বা। রান্না হতে হতে মিনিট চল্লিশ লাগবে। আমি লেগে গেলাম ক্যামেরা নিয়ে। রান্না হলে বালু থেকে বাচার জন্য বনের একটু ভিতরের অংশে টেবিল আর চেয়ার বিছিয়ে খাবার দেয়া হলো। তাজা মাছ, গরম ভাত আর ডাল দিয়ে জম্পেশ খাওয়া হলো। খেয়ে দেয়ে আবার ঘুরাঘুরি। এবার লেম্বুর চর পার হয়ে আরও কিলোমিটার খানেক গেলাম। ফাতরার চর দেখা যাচ্ছে খাড়ির ওই পাড়ে। সাগর অশান্ত থাকার কারনে আমরা অবশ্য ওপারে গেলাম না। বিকেলে মুল সৈকতে ফিরে এসে পানিতে দাপাদাপি। ঘন্টাখানেক জলকেলী করে হোটেলে ফিরে ফ্রেশ টেশ হয়ে সন্ধায় আবার পেটপুজা করে সাকুরা পরিবহনের বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা। সাথে করে দুই ডজন ডাব আর অজস্র সুখ স্মৃতি নিয়ে আসলাম। ছবি দেখুন-



















































































সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৫:৩২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×