ফজলে এলাহি ভাই লিখেছেন যে অনেকের লেখার ইচ্ছা থাকলেও হাজারো সংকোচের কারনে এগুতে পারেনা। 1995 সালে যখন আমি লেখা শুরু করি তখন আমার আত্ববিশ্বাস এত কম ছিল যে ভালো পত্রিকায় লেখা দেবার সাহস ছিলনা। তাই একেবার তৃতীয় সারির পত্রিকা দিয়ে শুরু করি। প্রেস ক্লাবের উল্টোদিকের দেয়ালে দেখবেন অনেক পত্রিকা টাঙ্গানো থাকে যেগুলোর নাম জীবনে শোনেননি বা কিনতে পাওয়া যায়না। সেগুলো দিয়ে আমি শুরু করি এবং তাদের যেহেতু সবসময় লেখক সংকট থাকে (টাকা দেয়না বলে) সেহেতু 2 টা পত্রিকা সানন্দে আমার লেখা ছাপে। 5টা ভালো পত্রিকায় লেখা পাঠাই কিন্ত শুধু ইত্তেফাকে আমার লেখা ছাপা হয়। ফলে প্রচন্ড হতাশ হই ও এর পর 1 বছর লিখিনি। 1997 সালে আবার চেষ্টা করি। এবার ইচ্ছা ছিল ভাল পত্রিকায় লেখার এবং ইত্তেফাক ও ঢাকা কুরিয়ারে চেষ্টা করি। প্রায় 6 মাস সংগ্রাম করতে হয়। প্রতি সপ্তাহে লেখা দিয়ে যেতাম। কখনো ছাপা হত কখনো হতনা। 1998 সালের এপ্রিল থেকে সংবাদপত্র জগতে বেশ প্রতিষ্ঠা আসে। ইত্তেফাক তাদের আনর্্তজাতিক পাতায় আমার লেখা প্রায় প্রতি শনিবারে ছাপানো শুরু করে ও ঢাকা কুরিয়ারে ইংরেজিতে টিভি সমালোচনা প্রতি সপ্তাহে ছাপা হতে থাকে। 1998 সালের মেয়ে মাসে ইত্তেফাকের মহিলা পাতায় ভার্জিনিয়া উলফের বিখ্যাত উপন্যাস 'আ রুম অব ওয়ানস ওউন' এর বাংলা অনুবাদ 'মেয়েদের নিজের একটি ঘর' ধারাবাহিকভাবে প্রায় 3 মাস প্রতি মঙ্গলবার ছাপা হয়।
যারা এলাহি ভাই এর মত পত্রিকায় লিখতে চান কিন্তু মনে হাজারো সংকোচ তাদের প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ সংকোচ ঝেড়ে ফেলুন এবং চেষ্টা করুন। যে কোন ক্ষেত্রেই সফল হওয়া কঠিন। পত্রিকার লেখালেখিতে নিয়মিত হবার জন্য আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। আমার অনেক বন্ধু যখন টিউশনির পেছনে ছুটেছে টাকা আয়ের জন্য তখন আমি টাইম নিউজ উইকের মত বিদেশি পত্রিকা নিজের পয়সায় কিনে পড়েছি। কিছু পেতে হলে কিছু ত্যগ করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



