somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামাজিক প্রতারনার তিন কাহিনী

১১ ই মে, ২০১১ রাত ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান সমাজে বিশ্বাস আর নৈতিকতার মান নিয়ে সম্ভবতঃ খুব সহজেই প্রশ্ন তোলা যায়। কারন আমাদের অবস্থান এ দু’টো থেকে ক্রমান্বয়ে নিম্নগামী। সততাকে ধারন করা মানুষের সংখ্যা আজ তাই নগন্য। সত্য তিনটি ঘটনা তুলে ধরলামঃ

ঘটনা একঃ সকালে বের হয়েছি ঢাকা যাব বলে। রিকশাওয়ালা ভাই নিজেই ছয় টাকা চেয়েছে বাস কাউন্টারে যাবে বলে। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে বললাম দশ টাকার ভাংতি দেন। বলল আমার কাছে নেই, সামনের মোড় থেকে করে আনি। মাথা ঝাঁকিয়ে সম্মতি দিলাম, তার সততা পরীক্ষা করতে। ঘড়ি দেখলাম ৬-৩০ মিঃ। আধঘন্টা পর ঠিক সাতটায় বাস ছেড়ে দিল ঢাকার উদ্দেশ্যে। ভাইজানের খবর নেই। আমার কাছে সে হেরে গেল মাত্র চার টাকার জন্য। ‘সততা’-রা বাস কাউন্টারের সামনের ড্রেন দিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেল।

ঘটনা দুইঃ আম্মা বৃদ্ধা হলেও জ্ঞান-বুদ্ধিতে এখনও টনটনে আছেন। বাড়ীর পিছনে কয়েকটি ডাব গাছ আছে। একজন মাঝারী বয়স্ক ডাবওয়ালা প্রায়ই অনুরোধ করে সেগুলো বিক্রির জন্যে, দু’টো টাকা লাভ করবে বলে। একদিন উনি সম্মতি দিলেন। ডাব কাটা শেষ। এমন সময় ডাব-ভাইজান বললেন, চাচী আমার কাছেতো টাকা বেশী নেই। গরীব মানুষ, বিক্রি করে আপনার ২১০ টাকা দিয়ে যাব। মানে পরের মূলধনে ব্যবসা আর কি! তবুও উনি সানন্দে রাজী হলেন এবং একসময় উনার মনে হলো- সে যে কেন এল না.........তবে অবশ্যই তা অন্য অর্থে।

ঘটনা তিনঃ গতকাল দুপুরে চৌরাস্তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। মৌসুমী নতুন লিচু ওঠা দেখে ছোট ছেলেটার কথা মনে পড়লো। ও আবার খুব লিচু পছন্দ করে। লিচুওয়ালাদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম ১৪০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে এক’শ লিচুর দাম ওঠা-নামা করছে। ওদের মাঝে তরুন একজন প্রলুদ্ধ করল আমাকে এই বলে- তার লাল রঙওলা লিচুগুলিই বাজারের সেরা লিচু। দাম ঠিক হলো এক’শ লিচু দুইশত টাকা। বলল গুনে গুনে আগেই আঁটি বাঁধা আছে। বিশ্বাস করলাম এবং একটি পঞ্চাশের আঁটি নিয়ে চললাম। চুপিচুপি আপনাকে বলি, বাড়ী এসে গুনে দেখি ৪১ টা। মানে এটাই চলছে একটু ভুল করলেই এবং আপনিও সাবধান। লজ্জায় কাউকে বললাম না। খুব খারাপ লাগলো কোথায় চলেছি আমরা। মরীচের গুড়ায় ইটের গুড়া! আমাদের এই অধঃপতন আমাদের রক্ত-বীজে ঢুকে গেছে প্রায় সবক্ষেত্রে। উপরের ঘটনাগুলি উদাহরণ মাত্র। জাতি হিসেবে আমাদের নৈতিকতার তলানিতে ঠেকতে আর কতদিন লাগবে?
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×