somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোয়ান্টিটি নয়, কোয়ালিটি চাই

০৭ ই মার্চ, ২০১৫ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটু ভাবুন তো__

→কোন আরবি শিক্ষিত মাওলানা গেরুয়া রঙের পোশাক পড়ে, নেড়া মাথা হয়ে, টুপি ছাড়া মসজিদে প্রবেশ করছে...

আবার,

→ ভগবান বুদ্ধ মাথায় টুপি এবং মুখভর্তি দাড়ি নিয়ে যোগাসনে বসে আছেন...

কিংবা,

→ভগবান রাম সাদা লম্বা আলখাল্লা পড়ে, গলায় ক্রুশ ঝুলিয়ে রাবন বধে যাচ্ছে...

অথবা,

→কোন এক পাদ্রী শিবের বেশে অর্ধ লেংটু হয়ে, মোমবাতি হাতে জিসাসের কাছে প্রার্থনা করছে...

উপরের ঘটনাগুলো কাল্পনিক... তারপরেও স্ব স্ব ধর্মের মানুষ ক্ষেপে উঠবে... আমি কিন্তু কিছুই করিনি... কল্পনায় শুধু তাদের পোশাক অদলবদল করেছি মাত্র... ঘটনার প্রতিটি ব্যক্তি তাদের ধর্মের ধারক ও বাহক... শুধুমাত্র পোশাক পরিবর্তনে তাদের ব্যক্তিত্বে আঘাত লেগেছেই, সাথে সাথে তাদের ধর্মীয় দীক্ষারও অবমাননা হয়েছে... পোশাক যে একটি মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রকাশে কি রকম প্রভাব ফেলে তার বুঝানোর জন্যই আমি উপরের ঘটনা গুলোর অবতারনা করলাম...

শিক্ষক হচ্ছেন পরম পূজনীয় জ্ঞানের দূত... প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একজন শিক্ষক দেবতা স্বরুপ... শিক্ষক শুধুমাত্র পাঠ্যক্রমে সহায়তা করেন তা নয়, তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব গঠনেও নির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন... একজন শিক্ষককে তখনিই সম্মান করা যায় যখন তাকে সম্মানিত মনে হয়... একজন মানুষকে যখন শিক্ষক হিসেবে ভেবে নেওয়া হয়, সাথে সাথে তার একটি শালীন এবং মার্জিত অবয়বও চোখের সামনে ভেসে উঠে... কোন শিক্ষক যখন টকটকে লাল স্কীন ফিট প্যান্ট এবং কালো শার্ট পড়ে হনহন করে ডিপার্টমেন্ট চষে বেড়ায় তখন তাকে শিক্ষক বলতে একটু রুচিতে বাঁধে... দেখে মনে হয় কোন একটি বখাটে হাতে সিগারেট নিয়ে গার্লস স্কুলের সামনে এপাশ ওপাশ করছে...
পোশাক নিয়ে কথা বলে আমি কারো ব্যক্তিগত কিংবা সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না... যদি সাংবিধানিক কিংবা ব্যক্তিগত অধিকারের দোহাই দিয়ে ভগবান রাম তার পোশাক পরিবর্তন করে তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে একটু ভেবে দেখুন...
tongue emoticon
অর্থাৎ প্রতিটি বিষয়ের কিছু অলিখিত নিয়ম থাকে যেগুলো ব্যক্তিগত ইচ্ছে কিংবা আইনের ফ্রেমে বাঁধা যায় না...

আমরা ক্লাসে যাই কেন?? কঠিন বিষয় গুলো সহজ করে জানার জন্য... সেকশনের লাইন টু লাইন বাংলা ট্রান্সলেট করার জন্য আমাদের শিক্ষকের প্রয়োজন হয় না... নীলক্ষেত থেকে আইনের একটা বাংলা লিখা বই কিনেও আমরা তা জানতে পারি...

→ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেক জ্ঞানী এবং ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছি... যাদের সান্নিধ্যে নিজেকে ভাগ্যমান মনে হয়েছে... একেকজন যেন জ্ঞানের মহারথী... একজন শিক্ষকের কথা বলব, যিনি আমার বিভাগের না... সাংগঠনিক কাজে স্যারের সাথে আমি অনেক সময় কাটিয়েছি...স্যার যখন কথা বলতেন তখন অপলক তাকিয়ে থাকতাম... স্যারের চোখের ফ্লুয়িড যেন জ্ঞানের সমুদ্র... মাঝখানে গুঞ্জন উঠে স্যার চলে যাবেন... আমি তখন নামাজে বসে প্রার্থনা করেছিলাম স্যার যেন না যাই... এমনিভাবে স্যার নিজের জ্ঞান এবং ব্যক্তিত্বের পবিত্র শিকলে আমাদের বেঁধে রেখেছিলেন...

আরেকজন শিক্ষক, যিনি আমাদের পি.ডি.আর. এক্ট পড়াতেন... স্যার একজন রম্য লেখক এবং উঁচুদরের রসিক মানুষ... উনি এতো প্রাঞ্জলভাবে পড়াতেন যে ক্লাস শুরু এবং শেষের সময়ের পার্থক্য খুব কম মনে হত... মনে হত মাত্রই তো ক্লাস শুরু হল, এরমধ্যেই শেষ হয়ে গেল!! এক ক্লাসে ২০ টার উপর সেকশন পড়িয়েছেন এমনও রেকর্ড আছে... বিশ্বাস করুন, আমরা বিন্দুমাত্র বিরক্ত হইনি... সেমিস্টার শেষ হওয়ার পর নোটিস বোর্ডে তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি নেক্সট সেমিস্টারে স্যারের কোন সাবজেক্ট আছে কিনা...

এরাই শিক্ষক, এরাই যুগ যুগ ধরে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে দেবতার আসনে আদিষ্ট থাকেন...

এখন প্রশ্ন রইলো বখাটে শিক্ষকরা শিক্ষকতা পেশায় আসেন কিভাবে?? টিচার সিলেকশন বোর্ড যখন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেয় তখন তারা নিজের গুড় মেনার সো অফ করে এবং বস্তা ভর্তি সার্টিফিকেট নিয়ে ইম্প্রেসড করে... কোয়ান্টিটি সবসময় মেরিট জাস্টিফাই করে না... কোয়ালিটিরও প্রয়োজন আছে...

→সুতরাং, কোয়ান্টিটি নয়, কোয়ালিটি টিচার চাই...
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ২:২৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×