somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফুটবলে এজেন্টরা এতো টাকা পায় কীভাবে?

০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গ্রিকরা মরা মানুষকে কবর দেয়ার আগে তার মুখের ভেতর একটা ছোট রুপার মুদ্রা গুঁজে দিত। নাম ওবোল। কারণ পরপারে যেতে হলে নদী পেরোতে হবে, আর নদীর মাঝি খারন বিনা পয়সায় কাউকে নৌকায় তোলেন না। খারন গ্রিক পুরাণের সেই বুড়ো মাঝি, যিনি মৃতদের আত্মা এপার থেকে ওপারে পৌঁছে দেন। ভার্জিলের ঈনিড-এ লেখা আছে, যাদের কড়ি জোটেনি, তারা একশো বছর ধরে পাড়ে বসে থাকে।

কড়িটা কিন্তু মরা লোক নিজে জোগাড় করেনি। জোগাড় করেছে তার বাড়ির লোক। যে পার হচ্ছে, সে দরদাম করেনি। যে টাকা দিয়েছে, সে নৌকায় ওঠেনি। আর মাঝির নৌকা ছাড়া নদী পেরোনোর দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।

ফুটবলের ট্রান্সফার মার্কেটে এজেন্টের কমিশন ঠিক এই কাঠামোতেই চলে।

গত ডিসেম্বরে ফিফা তাদের ফুটবল এজেন্টস রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারে ক্লাবগুলো এজেন্টদের দিয়েছে ১৩৭ কোটি ডলার। আগের বছরের চেয়ে নব্বই শতাংশ বেশি, এবং এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এর মধ্যে একা ইংলিশ ক্লাবগুলোই দিয়েছে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ইংল্যান্ডের এফএ আবার প্রতি বছর ক্লাবভিত্তিক হিসাব আলাদা করে ছাপায়। সেই হিসাবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের বিশটা ক্লাব এজেন্টদের দিয়েছে ৪৬ কোটি পাউন্ড। শুধু চেলসি দিয়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ। লিগ ওয়ান আর লিগ টু মিলিয়ে আটচল্লিশটা ক্লাব সারা বছরে দিয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ। মানে দালালি বাবদ চেলসি একাই দিয়েছে ইংল্যান্ডের তৃতীয় ও চতুর্থ বিভাগের সব ক্লাবের প্রায় চার গুণ।

এই টাকা কোত্থেকে আসে, তা নিয়ে সাধারণ ধারণাটা ভুল। ধারণা হলো, খেলোয়াড় তার বেতন থেকে এজেন্টকে দশ পার্সেন্ট দেয়। বাস্তবে খেলোয়াড় প্রায় কিছুই দেয় না। বিল যায় ক্লাবের কাছে।

খেলোয়াড় এজেন্ট রাখে নিজের স্বার্থ দেখার জন্য। বেতন বাড়ানোর জন্য, চুক্তির শর্ত ভালো করার জন্য, ক্লাব যেন তাকে ঠকাতে না পারে সেজন্য। অথচ সেই এজেন্টের পুরো পারিশ্রমিক শোধ করে ক্লাব। যার বিরুদ্ধে দরদাম, তার পকেট থেকেই দরদামকারীর মজুরি।

কারণটা রোমাঞ্চকর কিছু না। ট্যাক্স।

ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ আয়কর পঁয়তাল্লিশ শতাংশ। খেলোয়াড় নিজের বেতন থেকে এজেন্টকে ত্রিশ লাখ পাউন্ড দিতে চাইলে তাকে আগে প্রায় পঞ্চান্ন লাখ পাউন্ড আয় করতে হবে। কিন্তু ক্লাব যদি ওই ত্রিশ লাখ দেয়, ক্লাবের কাছে ওটা ব্যবসার খরচ। কর ছাড় পায়, ভ্যাটও ফেরত নিতে পারে। একই টাকায় প্রায় দ্বিগুণ এজেন্ট কেনা যায়।

এই সুবিধা নেয়ার জন্য যে কাগুজে ব্যবস্থা দাঁড়িয়েছে, তার নাম ডুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন। এক এজেন্ট একই ট্রান্সফারে একসঙ্গে খেলোয়াড় আর ক্লাব দুই পক্ষের হয়ে কাজ করছে বলে কাগজে লেখা হয়। তারপর ফি ভাগ হয়। প্রায় দুই দশক ধরে ইংল্যান্ডে ডিফল্ট ভাগ ছিল পঞ্চাশ-পঞ্চাশ। অর্ধেক ক্লাব সার্ভিস, অর্ধেক প্লেয়ার সার্ভিস। ব্রিটিশ রাজস্ব বিভাগ এইচএমআরসি বহুদিন এটা মেনে নিত।

২০২১ সালে তারা মত পাল্টায়। ২০২৪ সালের মে মাসে নতুন গাইডলাইন বেরোয়, যেখানে পরিষ্কার লেখা, পঞ্চাশ-পঞ্চাশ ভাগ আর ডিফল্ট ধরা হবে না। তাদের অবস্থান এখন উল্টো। এজেন্ট মূলত খেলোয়াড়ের লোক, খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ট্রান্সফারের অনেক আগে থেকেই ছিল, কাজেই ফির বড় অংশই খেলোয়াড়ের সেবা। ক্লাব যদি প্রমাণ দিতে না পারে যে এজেন্ট তার হয়েও সত্যিকারের কাজ করেছে, তাহলে পুরো ফি-ই খেলোয়াড়ের প্রাপ্য সুবিধা ধরা হবে, এবং তার ওপর খেলোয়াড়কে আয়কর দিতে হবে। এই এক ধারা থেকেই এক বছরে বাড়তি সাড়ে ছয় কোটি পাউন্ডের বেশি আদায় করেছে তারা। ফুটবল সংক্রান্ত তদন্ত খোলা আছে চারশোর কাছাকাছি।

রাজস্ব বিভাগ কমিশনের অঙ্ক নিয়ে কোনো অভিযোগ করছে না। তারা জানতে চাইছে চালানের কোন ঘরে নামটা বসবে।

এবার আসল প্রশ্ন। এত টাকা এল কোত্থেকে? হঠাৎ একদল লোক ফুটবলে ঢুকে পড়ে বছরে ১৩৭ কোটি ডলার বের করে নিয়ে যাচ্ছে, ব্যাপারটা এমন না। টাকা আগেও ছিল। আগে যেত অন্য ঘরে।

১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ইউরোপে নিয়ম ছিল, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পুরোনো ক্লাব খেলোয়াড়ের রেজিস্ট্রেশন ধরে রাখতে পারত। নতুন ক্লাবকে টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনতে হতো। বেলজিয়ামের মাঝারি মানের ফুটবলার জঁ-মার্ক বসমান এই নিয়মের বিরুদ্ধে মামলা করেন, কারণ চুক্তি শেষ হওয়ার পরও তার ক্লাব তাকে ফ্রান্সে যেতে দিচ্ছিল না। ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় আদালত রায় দেয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে চুক্তি শেষ হওয়া খেলোয়াড়ের জন্য কোনো ট্রান্সফার ফি চাওয়া যাবে না।

রায়টা পড়ানো হয় খেলোয়াড়ের স্বাধীনতার গল্প হিসেবে। হিসাবের দিক থেকে যা ঘটেছিল তা আরও নির্দিষ্ট। মেয়াদশেষে যে টাকা এতদিন বেচার ক্লাব পেত, সেই টাকার দাবিদার উঠে গেল। টাকা উবে যায়নি। তার গন্তব্য বদলেছে। কেনার ক্লাব ওই খেলোয়াড়ের জন্য মোটামুটি একই বাজেট নিয়েই বসে ছিল।

মালিকহীন টাকার পেছনে নতুন দাবিদার জোটে দ্রুত। ওই টাকার একটা অংশ ঢুকল খেলোয়াড়ের সাইনিং বোনাসে। বাকিটা ঢুকল এজেন্টের কমিশনে। ফ্রি ট্রান্সফারে আজ কমিশন সবচেয়ে চড়া হয় এই কারণেই। ট্রান্সফার ফি নেই মানে ভাগ করার মতো একটা গোটা তহবিল খালি পড়ে আছে।

এজেন্ট তাই ফুটবলে নতুন কোনো খরচ যোগ করেনি। আগে যে খরচটা প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের ঘরে যেত, এজেন্ট সেটার উত্তরাধিকার পেয়েছে। ক্লাব প্রশ্ন তোলে না, কারণ ক্লাব নিজের কিছু হারায়নি।

এরপরের কারণটা আরও কম আলোচিত, এবং সম্ভবত সবচেয়ে জোরালো।

ক্লাবের খাতায় খেলোয়াড় একটা সম্পদ। ট্রান্সফার ফি সরাসরি খরচ হিসেবে বসে না। ওটা ইনট্যানজিবল অ্যাসেট হিসেবে ব্যালান্স শিটে ওঠে, তারপর চুক্তির মেয়াদ ধরে ভাগ ভাগ করে খরচ দেখানো হয়। ষাট মিলিয়নের খেলোয়াড় পাঁচ বছরের চুক্তিতে এলে বছরে বারো মিলিয়ন করে খরচে বসে। ক্লাব এক বছরে পুরো কমিশন খরচ হিসেবে লেখে না। বাড়ি কিনে একদিনে পুরো দামকে খরচ না দেখিয়ে সম্পদ হিসেবে রাখার মতোই, কমিশনও খেলোয়াড়ের সম্পদের সঙ্গে ধীরে ধীরে হিসাব হয়।

আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং নিয়ম অনুযায়ী এজেন্টকে দেয়া ক্লাব সার্ভিস ফিও ঠিক একইভাবে ওই সম্পদের দামের সঙ্গে জুড়ে যায়। সম্পদ কেনার সরাসরি আনুষঙ্গিক খরচ বলে। তারপর ওটাও একই মেয়াদ ধরে ভাগ হয়। দশ মিলিয়ন কমিশন পাঁচ বছরের চুক্তিতে বছরে দুই মিলিয়ন।

খাতার ভাষায় তাই ট্রান্সফার ফি আর এজেন্ট কমিশন আলাদা কিছু না। দুটোই খেলোয়াড় কিনতে লাগা খরচ, দুটোই সময়ের সঙ্গে গলে যায়। বোর্ড মিটিংয়ে যে কাগজ যায়, সেখানে কমিশনের পুরো অঙ্কটা এক জায়গায় দেখাই যায় না। প্রিমিয়ার লিগের গোটা মৌসুমের ৪৬ কোটি পাউন্ড এফএ ছাপায় বলেই আমরা দেখতে পাই। ক্লাবের নিজের বার্ষিক প্রতিবেদনে ওই সংখ্যা আলাদা লাইনে থাকে না।

ট্রান্সফারের আলোচনার টেবিলে বসা প্রায় সবার স্বার্থ ট্রান্সফারের বিরুদ্ধে। বেচার ক্লাব হয় খেলোয়াড় রাখতে চায়, নয়তো আরও দাম চায়। কেনার ক্লাব কম দিতে চায়। খেলোয়াড় বেতন বাড়াতে চায় এবং না পেলে থেকে যেতে পারে। কোচ দল ভাঙতে চান না।

একজনই আছেন, যিনি চুক্তি না হলে এক পয়সাও পান না। এজেন্ট।

গ্রিক পুরাণে হার্মিস বণিকের দেবতা, চোরেরও দেবতা, সীমানার দেবতা, আর বার্তাবাহক। হোমারীয় স্তোত্র অনুযায়ী জন্মের প্রথম দিনেই তিনি অ্যাপোলোর গরু চুরি করেন। ধরা পড়ার পর কচ্ছপের খোল দিয়ে বানানো নতুন এক বাদ্যযন্ত্র, লায়ার, বাজিয়ে শোনান। অ্যাপোলো এতটাই মুগ্ধ হন যে গরুর বদলে যন্ত্রটাই নিয়ে নেন। হার্মিস দেনা বানালেন, তারপর নিজের বানানো একটা বস্তু দিয়ে দেনা শোধ করে গরুও রেখে দিলেন।

এজেন্টের কাজটাও এমন। তিনিই একমাত্র লোক যিনি নড়াচড়া চান, আর নড়াচড়া থেকেই তার আয়। কেনাবেচা ঘটানোর এই কাজের একটা দাম আছে। শেয়ারবাজারে ওই দাম লুকিয়ে থাকে দর আর দামের ফাঁকে, কেউ টেরও পায় না। ফুটবলে ওটা আলাদা চালান হয়ে আসে, তাই চোখে লাগে।

আর ক্লাবগুলো এই বাজারে একবারের খদ্দের না। যে এজেন্টের হাতে একশো খেলোয়াড়, তার সঙ্গে আজ বিশ লাখ নিয়ে ঝগড়া করলে আগামী গ্রীষ্মে যে স্ট্রাইকারের জন্য পুরো মৌসুম অপেক্ষা করেছেন, তার ফোনটা যাবে অন্য কারও কাছে।

পল পগবার ঘটনা

কাঠামোটা কেমন দেখতে, তা একবারই পুরোপুরি জনসমক্ষে এসেছিল।

২০১৬ সালে জুভেন্টাস থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পল পগবার ট্রান্সফার হয় ১০ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে। এরপর ফুটবল লিকস নামের নথি ফাঁসের ঘটনায় ভেতরের কাগজপত্র বেরিয়ে আসে। পর্তুগিজ হ্যাকার রুই পিন্টো ইউরোপের ক্লাব ও এজেন্সিগুলোর কয়েক কোটি নথি ফাঁস করেছিলেন, যা নিয়ে ইউরোপের সাংবাদিকদের এক জোট বছরের পর বছর কাজ করেছে।

কাগজে দেখা যায়, পগবার এজেন্ট মিনো রাইওলা ওই এক ট্রান্সফার থেকে পেয়েছেন প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। জুভেন্টাস দিয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ, কারণ চার বছর আগে পগবাকে তুরিনে নেয়ার সময় রাইওলা ভবিষ্যৎ বিক্রির ওপর নিজের ভাগ চুক্তিতে লিখিয়ে রেখেছিলেন। ইউনাইটেড দিয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ, খাতায় লেখা ক্লাব সার্ভিস।

আর ২৫ লাখ ৮০ হাজার ইউরো ইউনাইটেড দিয়েছে প্লেয়ার সার্ভিস বাবদ, পগবার হয়ে।

অর্থাৎ খেলোয়াড় নিজের এজেন্টকে যে টাকাটা দিতে বাধ্য ছিল, সেটাও দিয়েছে যে ক্লাবের সঙ্গে সে দরদাম করছিল সেই ক্লাব। রাইওলা তিন পক্ষের হয়েই কাজ করেছেন। ফিফা তদন্ত করেছিল, ইউনাইটেড ছাড়া পায়। জুভেন্টাস ইতালীয় স্টক এক্সচেঞ্জে জানিয়েছিল, সব খরচ বাদ দিয়ে চুক্তি থেকে তাদের নিট প্রাপ্তি প্রায় ৭ কোটি ২৬ লাখ ইউরো।

২০২৩ সালে ফিফা নতুন এজেন্ট বিধিমালা চালু করে। কমিশনের সিলিং, একসঙ্গে একাধিক পক্ষের হয়ে কাজ করার নিষেধাজ্ঞা, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ক্লায়েন্ট পেইজ রুল। যে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে, তাকেই পয়সা দিতে হবে। খেলোয়াড়ের এজেন্টের বিল যাবে খেলোয়াড়ের কাছে।

এজেন্সিগুলো সঙ্গে সঙ্গে মামলায় যায়। ডর্টমুন্ড আর মাইনৎসের আদালত, লন্ডনে এফএ-র সালিশি, একের পর এক রায় ফিফার বিপক্ষে যায়। ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফিফা সার্কুলার জারি করে গোটা দুনিয়ায় মূল ধারাগুলোর প্রয়োগ স্থগিত রাখে।

গত মাসে, ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই, ইউরোপীয় বিচার আদালত মাইনৎসের রেফারেন্সে চূড়ান্ত রায় দিয়েছে। আদালত বলেছে, লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, কমিশনের সিলিং, একাধিক পক্ষের প্রতিনিধিত্বের নিষেধাজ্ঞা আর ক্লায়েন্ট পেইজ রুল প্রতিযোগিতা আইনের অধীনে ন্যায্যতা পেতে পারে। সব ধারা টেকেনি, তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত কিছু বিধান জিডিপিআর-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল হয়েছে। কিন্তু ধারাগুলো চেঞ্জ করার অধিকার ফিফা ফিরে পেয়েছে।

মামলা এখন মাইনৎসে ফিরে গেছে। স্থগিতাদেশ এখনো বহাল।

ওবোলের গল্পের একটা অংশ সাধারণত বাদ পড়ে যায়। খারনের নৌকা এক দিকেই যায়। ভাড়া নেয়া হয় ওঠার সময়, আর যে টাকা দিয়েছে সে কোনোদিন জানতে পারে না পারাপারটা ঠিকঠাক হলো কি না।

২০২৪ সালের এপ্রিলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একটা তুলনা দিয়েছিলেন। ওই বছর প্রিমিয়ার লিগ এজেন্টদের দিয়েছিল ৪০ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। আর যেসব ইউরোপীয় ক্লাব ওই খেলোয়াড়দের ছোটবেলা থেকে গড়ে তুলেছিল, তারা সলিডারিটি ও ট্রেনিং কম্পেনসেশন বাবদ প্রিমিয়ার লিগ থেকে পেয়েছিল ৩ কোটি ইউরো।

আমরা এজেন্টের কমিশন দেখে অবাক হই। কিন্তু যারা খেলোয়াড় তৈরি করে, তাদের ভাগ এত কম কেন?
গ্রিকরা মরা মানুষকে কবর দেয়ার আগে তার মুখের ভেতর একটা ছোট রুপার মুদ্রা গুঁজে দিত। নাম ওবোল। কারণ পরপারে যেতে হলে নদী পেরোতে হবে, আর নদীর মাঝি খারন বিনা পয়সায় কাউকে নৌকায় তোলেন না। খারন গ্রিক পুরাণের সেই বুড়ো মাঝি, যিনি মৃতদের আত্মা এপার থেকে ওপারে পৌঁছে দেন। ভার্জিলের ঈনিড-এ লেখা আছে, যাদের কড়ি জোটেনি, তারা একশো বছর ধরে পাড়ে বসে থাকে।

কড়িটা কিন্তু মরা লোক নিজে জোগাড় করেনি। জোগাড় করেছে তার বাড়ির লোক। যে পার হচ্ছে, সে দরদাম করেনি। যে টাকা দিয়েছে, সে নৌকায় ওঠেনি। আর মাঝির নৌকা ছাড়া নদী পেরোনোর দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।

ফুটবলের ট্রান্সফার মার্কেটে এজেন্টের কমিশন ঠিক এই কাঠামোতেই চলে।

গত ডিসেম্বরে ফিফা তাদের ফুটবল এজেন্টস রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারে ক্লাবগুলো এজেন্টদের দিয়েছে ১৩৭ কোটি ডলার। আগের বছরের চেয়ে নব্বই শতাংশ বেশি, এবং এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। এর মধ্যে একা ইংলিশ ক্লাবগুলোই দিয়েছে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। ইংল্যান্ডের এফএ আবার প্রতি বছর ক্লাবভিত্তিক হিসাব আলাদা করে ছাপায়। সেই হিসাবে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের বিশটা ক্লাব এজেন্টদের দিয়েছে ৪৬ কোটি পাউন্ড। শুধু চেলসি দিয়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ। লিগ ওয়ান আর লিগ টু মিলিয়ে আটচল্লিশটা ক্লাব সারা বছরে দিয়েছে ১ কোটি ৬৬ লাখ। মানে দালালি বাবদ চেলসি একাই দিয়েছে ইংল্যান্ডের তৃতীয় ও চতুর্থ বিভাগের সব ক্লাবের প্রায় চার গুণ।

এই টাকা কোত্থেকে আসে, তা নিয়ে সাধারণ ধারণাটা ভুল। ধারণা হলো, খেলোয়াড় তার বেতন থেকে এজেন্টকে দশ পার্সেন্ট দেয়। বাস্তবে খেলোয়াড় প্রায় কিছুই দেয় না। বিল যায় ক্লাবের কাছে।

খেলোয়াড় এজেন্ট রাখে নিজের স্বার্থ দেখার জন্য। বেতন বাড়ানোর জন্য, চুক্তির শর্ত ভালো করার জন্য, ক্লাব যেন তাকে ঠকাতে না পারে সেজন্য। অথচ সেই এজেন্টের পুরো পারিশ্রমিক শোধ করে ক্লাব। যার বিরুদ্ধে দরদাম, তার পকেট থেকেই দরদামকারীর মজুরি।

কারণটা রোমাঞ্চকর কিছু না। ট্যাক্স।

ইংল্যান্ডে সর্বোচ্চ আয়কর পঁয়তাল্লিশ শতাংশ। খেলোয়াড় নিজের বেতন থেকে এজেন্টকে ত্রিশ লাখ পাউন্ড দিতে চাইলে তাকে আগে প্রায় পঞ্চান্ন লাখ পাউন্ড আয় করতে হবে। কিন্তু ক্লাব যদি ওই ত্রিশ লাখ দেয়, ক্লাবের কাছে ওটা ব্যবসার খরচ। কর ছাড় পায়, ভ্যাটও ফেরত নিতে পারে। একই টাকায় প্রায় দ্বিগুণ এজেন্ট কেনা যায়।

এই সুবিধা নেয়ার জন্য যে কাগুজে ব্যবস্থা দাঁড়িয়েছে, তার নাম ডুয়াল রিপ্রেজেন্টেশন। এক এজেন্ট একই ট্রান্সফারে একসঙ্গে খেলোয়াড় আর ক্লাব দুই পক্ষের হয়ে কাজ করছে বলে কাগজে লেখা হয়। তারপর ফি ভাগ হয়। প্রায় দুই দশক ধরে ইংল্যান্ডে ডিফল্ট ভাগ ছিল পঞ্চাশ-পঞ্চাশ। অর্ধেক ক্লাব সার্ভিস, অর্ধেক প্লেয়ার সার্ভিস। ব্রিটিশ রাজস্ব বিভাগ এইচএমআরসি বহুদিন এটা মেনে নিত।

২০২১ সালে তারা মত পাল্টায়। ২০২৪ সালের মে মাসে নতুন গাইডলাইন বেরোয়, যেখানে পরিষ্কার লেখা, পঞ্চাশ-পঞ্চাশ ভাগ আর ডিফল্ট ধরা হবে না। তাদের অবস্থান এখন উল্টো। এজেন্ট মূলত খেলোয়াড়ের লোক, খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ট্রান্সফারের অনেক আগে থেকেই ছিল, কাজেই ফির বড় অংশই খেলোয়াড়ের সেবা। ক্লাব যদি প্রমাণ দিতে না পারে যে এজেন্ট তার হয়েও সত্যিকারের কাজ করেছে, তাহলে পুরো ফি-ই খেলোয়াড়ের প্রাপ্য সুবিধা ধরা হবে, এবং তার ওপর খেলোয়াড়কে আয়কর দিতে হবে। এই এক ধারা থেকেই এক বছরে বাড়তি সাড়ে ছয় কোটি পাউন্ডের বেশি আদায় করেছে তারা। ফুটবল সংক্রান্ত তদন্ত খোলা আছে চারশোর কাছাকাছি।

রাজস্ব বিভাগ কমিশনের অঙ্ক নিয়ে কোনো অভিযোগ করছে না। তারা জানতে চাইছে চালানের কোন ঘরে নামটা বসবে।

এবার আসল প্রশ্ন। এত টাকা এল কোত্থেকে? হঠাৎ একদল লোক ফুটবলে ঢুকে পড়ে বছরে ১৩৭ কোটি ডলার বের করে নিয়ে যাচ্ছে, ব্যাপারটা এমন না। টাকা আগেও ছিল। আগে যেত অন্য ঘরে।

১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ইউরোপে নিয়ম ছিল, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পুরোনো ক্লাব খেলোয়াড়ের রেজিস্ট্রেশন ধরে রাখতে পারত। নতুন ক্লাবকে টাকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনতে হতো। বেলজিয়ামের মাঝারি মানের ফুটবলার জঁ-মার্ক বসমান এই নিয়মের বিরুদ্ধে মামলা করেন, কারণ চুক্তি শেষ হওয়ার পরও তার ক্লাব তাকে ফ্রান্সে যেতে দিচ্ছিল না। ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় আদালত রায় দেয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে চুক্তি শেষ হওয়া খেলোয়াড়ের জন্য কোনো ট্রান্সফার ফি চাওয়া যাবে না।

রায়টা পড়ানো হয় খেলোয়াড়ের স্বাধীনতার গল্প হিসেবে। হিসাবের দিক থেকে যা ঘটেছিল তা আরও নির্দিষ্ট। মেয়াদশেষে যে টাকা এতদিন বেচার ক্লাব পেত, সেই টাকার দাবিদার উঠে গেল। টাকা উবে যায়নি। তার গন্তব্য বদলেছে। কেনার ক্লাব ওই খেলোয়াড়ের জন্য মোটামুটি একই বাজেট নিয়েই বসে ছিল।

মালিকহীন টাকার পেছনে নতুন দাবিদার জোটে দ্রুত। ওই টাকার একটা অংশ ঢুকল খেলোয়াড়ের সাইনিং বোনাসে। বাকিটা ঢুকল এজেন্টের কমিশনে। ফ্রি ট্রান্সফারে আজ কমিশন সবচেয়ে চড়া হয় এই কারণেই। ট্রান্সফার ফি নেই মানে ভাগ করার মতো একটা গোটা তহবিল খালি পড়ে আছে।

এজেন্ট তাই ফুটবলে নতুন কোনো খরচ যোগ করেনি। আগে যে খরচটা প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের ঘরে যেত, এজেন্ট সেটার উত্তরাধিকার পেয়েছে। ক্লাব প্রশ্ন তোলে না, কারণ ক্লাব নিজের কিছু হারায়নি।

এরপরের কারণটা আরও কম আলোচিত, এবং সম্ভবত সবচেয়ে জোরালো।

ক্লাবের খাতায় খেলোয়াড় একটা সম্পদ। ট্রান্সফার ফি সরাসরি খরচ হিসেবে বসে না। ওটা ইনট্যানজিবল অ্যাসেট হিসেবে ব্যালান্স শিটে ওঠে, তারপর চুক্তির মেয়াদ ধরে ভাগ ভাগ করে খরচ দেখানো হয়। ষাট মিলিয়নের খেলোয়াড় পাঁচ বছরের চুক্তিতে এলে বছরে বারো মিলিয়ন করে খরচে বসে। ক্লাব এক বছরে পুরো কমিশন খরচ হিসেবে লেখে না। বাড়ি কিনে একদিনে পুরো দামকে খরচ না দেখিয়ে সম্পদ হিসেবে রাখার মতোই, কমিশনও খেলোয়াড়ের সম্পদের সঙ্গে ধীরে ধীরে হিসাব হয়।

আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং নিয়ম অনুযায়ী এজেন্টকে দেয়া ক্লাব সার্ভিস ফিও ঠিক একইভাবে ওই সম্পদের দামের সঙ্গে জুড়ে যায়। সম্পদ কেনার সরাসরি আনুষঙ্গিক খরচ বলে। তারপর ওটাও একই মেয়াদ ধরে ভাগ হয়। দশ মিলিয়ন কমিশন পাঁচ বছরের চুক্তিতে বছরে দুই মিলিয়ন।

খাতার ভাষায় তাই ট্রান্সফার ফি আর এজেন্ট কমিশন আলাদা কিছু না। দুটোই খেলোয়াড় কিনতে লাগা খরচ, দুটোই সময়ের সঙ্গে গলে যায়। বোর্ড মিটিংয়ে যে কাগজ যায়, সেখানে কমিশনের পুরো অঙ্কটা এক জায়গায় দেখাই যায় না। প্রিমিয়ার লিগের গোটা মৌসুমের ৪৬ কোটি পাউন্ড এফএ ছাপায় বলেই আমরা দেখতে পাই। ক্লাবের নিজের বার্ষিক প্রতিবেদনে ওই সংখ্যা আলাদা লাইনে থাকে না।

ট্রান্সফারের আলোচনার টেবিলে বসা প্রায় সবার স্বার্থ ট্রান্সফারের বিরুদ্ধে। বেচার ক্লাব হয় খেলোয়াড় রাখতে চায়, নয়তো আরও দাম চায়। কেনার ক্লাব কম দিতে চায়। খেলোয়াড় বেতন বাড়াতে চায় এবং না পেলে থেকে যেতে পারে। কোচ দল ভাঙতে চান না।

একজনই আছেন, যিনি চুক্তি না হলে এক পয়সাও পান না। এজেন্ট।

গ্রিক পুরাণে হার্মিস বণিকের দেবতা, চোরেরও দেবতা, সীমানার দেবতা, আর বার্তাবাহক। হোমারীয় স্তোত্র অনুযায়ী জন্মের প্রথম দিনেই তিনি অ্যাপোলোর গরু চুরি করেন। ধরা পড়ার পর কচ্ছপের খোল দিয়ে বানানো নতুন এক বাদ্যযন্ত্র, লায়ার, বাজিয়ে শোনান। অ্যাপোলো এতটাই মুগ্ধ হন যে গরুর বদলে যন্ত্রটাই নিয়ে নেন। হার্মিস দেনা বানালেন, তারপর নিজের বানানো একটা বস্তু দিয়ে দেনা শোধ করে গরুও রেখে দিলেন।

এজেন্টের কাজটাও এমন। তিনিই একমাত্র লোক যিনি নড়াচড়া চান, আর নড়াচড়া থেকেই তার আয়। কেনাবেচা ঘটানোর এই কাজের একটা দাম আছে। শেয়ারবাজারে ওই দাম লুকিয়ে থাকে দর আর দামের ফাঁকে, কেউ টেরও পায় না। ফুটবলে ওটা আলাদা চালান হয়ে আসে, তাই চোখে লাগে।

আর ক্লাবগুলো এই বাজারে একবারের খদ্দের না। যে এজেন্টের হাতে একশো খেলোয়াড়, তার সঙ্গে আজ বিশ লাখ নিয়ে ঝগড়া করলে আগামী গ্রীষ্মে যে স্ট্রাইকারের জন্য পুরো মৌসুম অপেক্ষা করেছেন, তার ফোনটা যাবে অন্য কারও কাছে।

পল পগবার ঘটনা

কাঠামোটা কেমন দেখতে, তা একবারই পুরোপুরি জনসমক্ষে এসেছিল।

২০১৬ সালে জুভেন্টাস থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পল পগবার ট্রান্সফার হয় ১০ কোটি ৫০ লাখ ইউরোতে। এরপর ফুটবল লিকস নামের নথি ফাঁসের ঘটনায় ভেতরের কাগজপত্র বেরিয়ে আসে। পর্তুগিজ হ্যাকার রুই পিন্টো ইউরোপের ক্লাব ও এজেন্সিগুলোর কয়েক কোটি নথি ফাঁস করেছিলেন, যা নিয়ে ইউরোপের সাংবাদিকদের এক জোট বছরের পর বছর কাজ করেছে।

কাগজে দেখা যায়, পগবার এজেন্ট মিনো রাইওলা ওই এক ট্রান্সফার থেকে পেয়েছেন প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। জুভেন্টাস দিয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ, কারণ চার বছর আগে পগবাকে তুরিনে নেয়ার সময় রাইওলা ভবিষ্যৎ বিক্রির ওপর নিজের ভাগ চুক্তিতে লিখিয়ে রেখেছিলেন। ইউনাইটেড দিয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ, খাতায় লেখা ক্লাব সার্ভিস।

আর ২৫ লাখ ৮০ হাজার ইউরো ইউনাইটেড দিয়েছে প্লেয়ার সার্ভিস বাবদ, পগবার হয়ে।

অর্থাৎ খেলোয়াড় নিজের এজেন্টকে যে টাকাটা দিতে বাধ্য ছিল, সেটাও দিয়েছে যে ক্লাবের সঙ্গে সে দরদাম করছিল সেই ক্লাব। রাইওলা তিন পক্ষের হয়েই কাজ করেছেন। ফিফা তদন্ত করেছিল, ইউনাইটেড ছাড়া পায়। জুভেন্টাস ইতালীয় স্টক এক্সচেঞ্জে জানিয়েছিল, সব খরচ বাদ দিয়ে চুক্তি থেকে তাদের নিট প্রাপ্তি প্রায় ৭ কোটি ২৬ লাখ ইউরো।

২০২৩ সালে ফিফা নতুন এজেন্ট বিধিমালা চালু করে। কমিশনের সিলিং, একসঙ্গে একাধিক পক্ষের হয়ে কাজ করার নিষেধাজ্ঞা, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ক্লায়েন্ট পেইজ রুল। যে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে, তাকেই পয়সা দিতে হবে। খেলোয়াড়ের এজেন্টের বিল যাবে খেলোয়াড়ের কাছে।

এজেন্সিগুলো সঙ্গে সঙ্গে মামলায় যায়। ডর্টমুন্ড আর মাইনৎসের আদালত, লন্ডনে এফএ-র সালিশি, একের পর এক রায় ফিফার বিপক্ষে যায়। ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফিফা সার্কুলার জারি করে গোটা দুনিয়ায় মূল ধারাগুলোর প্রয়োগ স্থগিত রাখে।

গত মাসে, ২০২৬ সালের ১৬ জুলাই, ইউরোপীয় বিচার আদালত মাইনৎসের রেফারেন্সে চূড়ান্ত রায় দিয়েছে। আদালত বলেছে, লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, কমিশনের সিলিং, একাধিক পক্ষের প্রতিনিধিত্বের নিষেধাজ্ঞা আর ক্লায়েন্ট পেইজ রুল প্রতিযোগিতা আইনের অধীনে ন্যায্যতা পেতে পারে। সব ধারা টেকেনি, তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত কিছু বিধান জিডিপিআর-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল হয়েছে। কিন্তু ধারাগুলো চেঞ্জ করার অধিকার ফিফা ফিরে পেয়েছে।

মামলা এখন মাইনৎসে ফিরে গেছে। স্থগিতাদেশ এখনো বহাল।

ওবোলের গল্পের একটা অংশ সাধারণত বাদ পড়ে যায়। খারনের নৌকা এক দিকেই যায়। ভাড়া নেয়া হয় ওঠার সময়, আর যে টাকা দিয়েছে সে কোনোদিন জানতে পারে না পারাপারটা ঠিকঠাক হলো কি না।

২০২৪ সালের এপ্রিলে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো একটা তুলনা দিয়েছিলেন। ওই বছর প্রিমিয়ার লিগ এজেন্টদের দিয়েছিল ৪০ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড। আর যেসব ইউরোপীয় ক্লাব ওই খেলোয়াড়দের ছোটবেলা থেকে গড়ে তুলেছিল, তারা সলিডারিটি ও ট্রেনিং কম্পেনসেশন বাবদ প্রিমিয়ার লিগ থেকে পেয়েছিল ৩ কোটি ইউরো।

আমরা এজেন্টের কমিশন দেখে অবাক হই। কিন্তু যারা খেলোয়াড় তৈরি করে, তাদের ভাগ এত কম কেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:২৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার প্রিয় ২৬টি পোস্ট; যেগুলো আপনারও ভালো লাগতে পারে

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:১৭

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth- তবে কি আমরা মহাবিশ্বের ভৃত্য?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

Humans are not from Earth: A Scientific Evaluation of the Evidence বইটির লেখক ডক্টর এলিস সিলভার (Dr. Ellis Silver)-এর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবন নিয়ে মূলধারার তথ্যমাধ্যমে এক ধরনের রহস্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ-পর্ব ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০১


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি ।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট
[link|https://www.somewhereinblog.net/blog/ali2016/30393976|প্রথম পর্বে থাকা গবেষনাটির পটভুমির লিংক – পর্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:০৩



আমরা ইতিহাসের ছিন্নপত্র...

২০১০, এক-এগারোর পর থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত- যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, যারা গুম, নির্যাতন, কারাবাস, মামলা, চাকরি হারানো, পরিবার ভেঙে যাওয়া- সবকিছুর মূল্য দিয়েছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×