somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুড়িগঙ্গার তলা থেকে উঠে আসা কন্টেইনারের ভেতর একচল্লিশটি জুতা ছিল

১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সোয়ারীঘাটের নিচে বুড়িগঙ্গার তলা থেকে যেদিন কন্টেইনার তোলা হয়, ইসলামবাগের লোকেরা সেদিন ভোর থেকে ঘাটের ঢালে দাঁড়িয়ে গন্ধের জন্য অপেক্ষা করে। তারা জানে যে নদী থেকে যা কিছু ওঠে তার একটা গন্ধ থাকে; তারা এর আগে বহুবার দেখেছে যে ডুবুরিরা নেমে যায় এবং ফিরে আসে, তারপর কালো পলিথিনে মোড়ানো কিছু উঠে আসে, তখন ঘাটের লোকেরা নাকের সামনে গামছা চেপে ধরে সরে দাঁড়ায়। ফলে সেদিন সকালে যখন ক্রেনের তার টানটান হয়ে ওঠে, পানির ভেতর থেকে প্রথমে লালচে মরচে ধরা কোণা এবং তারপর ধীরে ধীরে গোটা লোহার বাক্স উঠে আসে, তখন মহল্লার লোকেরা গামছা হাতে প্রস্তুত হয়ে থাকে। কিন্তু কোনো গন্ধ পাওয়া যায় না। কন্টেইনার ঘাটের সিমেন্ট বাঁধানো চাতালের ওপর নামিয়ে রাখার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা সেটাকে ঘিরে লোকজন এবং পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা দাঁড়িয়ে থাকে এবং তখনও কোনো গন্ধ পাওয়া যায় না, তখন মহল্লার লোকেরা প্রথম অস্বস্তি অনুভব করে, কারণ তারা বুঝতে পারে এই জিনিস তারা যা ভেবেছিল তা নয়।

বেলা পৌনে বারোটার দিকে গ্যাস কাটার দিয়ে দরজার কব্জা কাটা হয়। দরজা খোলার পর দেখা যায় ভেতরে পানি নাই। বাইশ ফুট লম্বা লোহার বাক্সের ভেতর শুকনো, এবং মেঝেতে ধুলা জমে আছে, যে ধুলা নদীর তলায় জমা হয় না। ফায়ার সার্ভিসের একজন লোক টর্চ হাতে ভেতরে ঢোকে এবং তার জুতার নিচে ধুলার ওপর ছাপ পড়ে, এবং বাইরে দাঁড়ানো লোকেরা সেই ছাপ দেখতে পায়। ভেতরে কোনো লাশ নাই।

ভেতরে যা আছে তা তিন ভাগে সাজানো। বাঁ দিকের দেয়াল ঘেঁষে সারি করে রাখা জুতা। মাঝখানে প্লাস্টিকের গামলার ভেতর মোবাইল ফোন। আর ডান দিকের কোণায় রাবার ব্যান্ড দিয়ে বাঁধা পরিচয়পত্রের তোড়া। জুতাগুলো জোড়ায় জোড়ায় সাজানো ছিল না; একটার পাশে আরেকটা, সোজা করে, নাক এক দিকে ফেরানো, যেভাবে জুতার দোকানে থাকে। পরে হিসাব করে দেখা যায় জুতা একচল্লিশটি। ফলে অন্তত একটি জুতার জোড়া ছিল না, এবং এই একচল্লিশ সংখ্যা নিয়ে ইসলামবাগের লোকেরা এরপর বহু বছর কথা বলে। মোবাইল ফোন উনিশটি, পরিচয়পত্র তেইশটি। এই তিনটি সংখ্যা কোনোভাবেই একটার সঙ্গে আরেকটা মেলে না, এবং যেহেতু মেলে না, সেহেতু মহল্লার লোকেরা বারবার গুনতে থাকে, এবং যতবার গোনা হয় ততবার সংখ্যা একই থাকে, তবু তারা আবার গোনে।

ডুবুরি আবদুল মালেক, যে বছরে তিনবার এই ঘাটে নামে এবং যার বাঁ চোখে ছানি, সে পরে চায়ের দোকানে বসে বলে যে সে নিজে গুনেছে এবং জুতা উনচল্লিশটি। অন্যদিকে পোস্তার এক লোক, যে সেদিন কেন ঘাটে ছিল তা কেউ জানে না, সে বলে জুতা তেতাল্লিশটি। থানার লোকেরা কাগজে যা লেখে তাতে একচল্লিশ, এবং কাগজে যেহেতু একচল্লিশ, সেহেতু একচল্লিশই থাকে। কিন্তু আবদুল মালেক মরার আগ পর্যন্ত বলে যায় যে সে উনচল্লিশটাই গুনেছিল, এবং যেহেতু সে কানা চোখেও পানির নিচে দেখতে পায় বলে মহল্লায় তার সুনাম ছিল, সেহেতু লোকেরা তার কথা একেবারে ফেলেও দেয় না।

কন্টেইনার যে জাহাজ থেকে পড়েছে, নাকি কেউ ফেলে দিয়েছে, নাকি নদীর তলায় আগে থেকেই ছিল, এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর কোনোদিন পাওয়া যায় না। থানা থেকে লোক আসে, ছবি তোলা হয়, ইসলামপুরের এক ঘাট শ্রমিক এবং বরফকলের ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নেওয়া হয় এবং সন্ধ্যার আগেই ছেড়ে দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর সাংবাদিকেরা আসা বন্ধ করে দেয়। কন্টেইনারটা ঘাটের চাতালের ওপর পড়ে থাকে এবং তার গায়ে লেখা নম্বরের প্রথম দুটি অক্ষর মরচের নিচে ঢাকা পড়ে যায়।

পরিচয়পত্রগুলো নিয়ে যা ঘটে তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তেইশটি কার্ডের ভেতর তেরোটি জাতীয় পরিচয়পত্র, চারটি গার্মেন্টসের কারখানার কার্ড, দুটি রিকশা চালকের লাইসেন্স, একটি কলেজের ছাত্রের কার্ড, একটি লঞ্চের সারেং হিসেবে ইস্যু করা কাগজ, একটি হাসপাতালের আউটডোর কার্ড, এবং একটি এমন কার্ড যা কীসের কার্ড তা মহল্লার কেউ শনাক্ত করতে পারে না। বরফকলের দেয়ালে সাদা চক দিয়ে যখন নামগুলো লেখা হয়, তখন সেই তালিকা এরকম দাঁড়ায়: ইউনুস মিয়া, আবদুল বারেক, সুরুজ আলী, মোহাম্মদ শাহজাহান, হারুন অর রশিদ, নূরুল হক, জাহাঙ্গীর হোসেন, রতন চন্দ্র দাস, বিলকিস আক্তার, শুক্কুর আলী, মোসলেম উদ্দিন, এবং আরো বারোটি নাম যা এখন আর কেউ মনে করতে পারে না।

তালিকার পাশে সন তারিখও লেখা হয়। এবং এই তারিখগুলো লেখার পর ইসলামবাগের লোকেরা চুপ করে যায়। লঞ্চের সারেংয়ের কাগজ উনিশশ ছিয়ানব্বই সালের; সেই লোক, নূরুল হক, নিখোঁজ হয় তার পরের শীতে। বিলকিস আক্তারের গার্মেন্টস কার্ড নিউ স্টার নামের এক কারখানার, যে কারখানা দুই হাজার বারো সালের পর আর নাই। রতন চন্দ্র দাসের ভোটার আইডি দুই হাজার নয় সালে করা। ছাত্রের কলেজ কার্ডের মেয়াদ দুই হাজার একুশ সালে শেষ। মোসলেম উদ্দিনের কার্ড দুই হাজার আঠারো সালের।

অর্থাৎ কন্টেইনারের ভেতর যাদের জিনিস পাওয়া যায় তারা কেউ একসঙ্গে হারায় নাই। তাদের হারানোর ভেতর পঁচিশ বছরের ফারাক। ইসলামবাগের লোকেরা এই ব্যাপারটা বোঝার চেষ্টা করে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে বরফকলের দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে তারা তারিখগুলো আগে পরে সাজায়। তারা প্রথমে ভাবে হয়তো পুরোনো তারিখ থেকে নতুন তারিখের দিকে সাজালে একটা মানে বের হবে। তারপর তারা উল্টো করে সাজায়। তারপর তারা তারিখ বাদ দিয়ে বয়স ধরে সাজায়। কিছুই বের হয় না। নলগোলা স্কুলের এক মাস্টার, যিনি পাটিগণিত পড়াতেন, তিনি তালিকা খাতায় তুলে নিয়ে যান এবং আট দিন পর ফিরে এসে বলেন যে তিনি কোনো নিয়ম পান নাই। এর পাঁচ মাস পর তিনি নারায়ণগঞ্জ বদলি হয়ে চলে যান এবং খাতা কোথায় যায় তা কেউ জানে না। এদিকে বর্ষা আসে এবং বরফকলের দেয়ালের চক ধুয়ে যায়। মহল্লার লোকেরা তখন আর নতুন করে লেখে না, কারণ ততদিনে তাদের অন্য কাজ পড়ে গেছে।

ততদিনে জুতাগুলো চাতালের ওপর ত্রিপল বিছিয়ে সাজানো হয়েছে এবং লোক আসতে শুরু করেছে।

কীভাবে খবর ছড়ায় তা বলা মুশকিল, কিন্তু ঘটনার নয় দিনের মাথায় নেত্রকোনা থেকে এক পরিবার আসে, তারপর ভোলা থেকে, তারপর কিশোরগঞ্জ থেকে, তারপর এমন সব জায়গা থেকে লোক আসতে থাকে যেসব জায়গার নাম ইসলামবাগের লোকেরা আগে শোনে নাই। তারা রাতের গাড়িতে রওনা দেয় এবং ভোরবেলা সদরঘাটে নেমে হেঁটে সোয়ারীঘাটে আসে এবং ত্রিপলের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে। পুলিশ প্রথম দিকে বাধা দেয়, তারপর বাধা দেওয়া ছেড়ে দেয়, তারপর একজন কনস্টেবল খাতা হাতে বসে নাম ঠিকানা লেখা শুরু করে এবং তিন সপ্তাহে সেই খাতার একশ ছিয়াশি পৃষ্ঠা ভরে যায়। মানুষ জুতা হাতে নেয়। উল্টে দেখে। ভেতরে আঙুল ঢুকিয়ে দেখে। সেলাই দেখে, তালি দেখে, ফিতার গিঁট দেখে। বেশির ভাগ মানুষ কিছুক্ষণ পর জুতা নামিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ায় এবং তখন তাদের মুখ দেখে বোঝা যায় না তারা স্বস্তি পেল না দুঃখ পেল।

রাহেলা বেগম, যার ছেলে ইউনুস মিয়া সাত বছর আগে এক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দোকানে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে আর ফেরে নাই, সে ত্রিপলের সামনে বসার সঙ্গে সঙ্গে জুতা চিনে ফেলে। বাঁ দিক থেকে সাত নম্বর, বাদামি চামড়ার, গোড়ালির কাছে ছিঁড়ে গিয়েছিল বলে নীল সুতা দিয়ে সেলাই করা। সেলাই রাহেলা বেগম নিজে করেছিল, কারণ ইউনুস মিয়া নতুন জুতা কিনতে রাজি হয় নাই। নীল সুতা ছিল রাহেলা বেগমের মেয়ের স্কুলের বেতনের খাতা বাঁধার সুতা। সাত বছর পানির নিচে থেকেও সুতার রং নীলই থাকে, এবং রাহেলা বেগম সেটা দেখে।

সে জুতা হাতে নেয়। অনেকক্ষণ ধরে রাখে। তারপর কনস্টেবল যখন খাতা এগিয়ে ধরে জিজ্ঞেস করে, "চিনছেন?" তখন রাহেলা বেগম জুতা ত্রিপলের ওপর ঠিক আগের জায়গায় নামিয়ে রেখে বলে, "না। এইটা আমার পোলার না।"

কনস্টেবল আবার জিজ্ঞেস করে। রাহেলা বেগম আবার বলে যে এটা তার ছেলের না। তারপর সে উঠে দাঁড়ায় এবং ঘাটের ঢাল বেয়ে উঠে বাসে চড়ে চলে যায়। পরদিন সকালে সে আবার আসে। ত্রিপলের সামনে বসে, সাত নম্বর জুতা হাতে নেয়, নামিয়ে রাখে, এবং বলে যে এটা তার ছেলের না। এভাবে সে টানা এগারো দিন আসে। মহল্লার লোকেরা প্রথমে বিরক্ত হয়, তারপর তাকে চিনে ফেলে, তারপর আক্কাস আলী, যার চায়ের দোকান বরফকলের গায়ে, সে রাহেলা বেগমকে বসার জন্য টুল বের করে দেয় এবং পয়সা নেয় না।

দশম দিনে আক্কাস আলী তাকে জিজ্ঞেস করে, "খালা, আপনে রোজ আইসা কী দেখেন?"

রাহেলা বেগম বলে, "দেহি জুতাডা আছে কি না।"

"থাকলে কী?"

"থাকলে বুঝি অহনও কেউ নেয় নাই।"

আক্কাস আলী এই কথার মানে বোঝে না, কিন্তু সে আর জিজ্ঞেস করে না। পরে, অনেক পরে, মহল্লার লোকেরা নিজেদের ভেতর এই নিয়ে কথা বলে এবং তাদের ভেতর যারা বুদ্ধিমান তারা বলে যে রাহেলা বেগম জুতা চিনতে পারে নাই এমন না। তারা বলে যে যেদিন সে বলবে এটা তার ছেলের, সেদিন থেকে ইউনুস মিয়া নিখোঁজ থাকবে না, সেদিন থেকে সে মরা হয়ে যাবে, এবং রাহেলা বেগম নিজের হাতে সেই কাজ করতে চায় নাই। কিন্তু মহল্লার অন্য লোকেরা এই ব্যাখ্যা মানে না। তারা বলে যে রাহেলা বেগমের চোখ খারাপ এবং নীল সুতা দিয়ে সেলাই করা জুতা ঢাকা শহরে কম নাই।

ছবি বেগমের ব্যাপারটা ঘটে এর তেরো দিন পর, এবং সেটা আলাদা ধরনের ব্যাপার। ছবি বেগমের স্বামী শুক্কুর আলী নিখোঁজ হয় চার বছর আগে এবং শুক্কুর আলীর নাম বরফকলের দেয়ালের তালিকায় ছিল, কারণ তার পরিচয়পত্র কন্টেইনারের ভেতর পাওয়া গিয়েছিল। ছবি বেগম ত্রিপলের সামনে এসে বসে এবং একটা কালো রঙের প্লাস্টিকের স্যান্ডেল তুলে নিয়ে বলে যে এটা তার স্বামীর।

স্যান্ডেলটা শুক্কুর আলীর ছিল না। ইসলামবাগের লোকেরা তা জানে, কারণ শুক্কুর আলী চটি পরত না, সে সারা বছর কেডস পরত, এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানেও, এবং এই নিয়ে মহল্লায় হাসাহাসি হতো। কিন্তু সেদিন ত্রিপলের সামনে যারা দাঁড়িয়ে ছিল তারা কেউ কিছু বলে না। কনস্টেবল খাতায় লেখে। ছবি বেগম টিপসই দেয়। তারপর সে স্যান্ডেল কাপড়ের ব্যাগে ভরে বাড়ি নিয়ে যায়।

ছবি বেগমের তিনটি ছেলেমেয়ে এবং তার শ্বশুরের ভিটার একটা অংশ নিয়ে দেবরের সঙ্গে মামলা চলছিল, এবং সেই মামলায় স্বামীর মৃত্যুর কোনো প্রমাণ থাকা দরকার ছিল। এই কথা মহল্লার লোকেরা জানত এবং সেই জন্যই তারা সেদিন চুপ করে ছিল। পরে অবশ্য কেউ কেউ বলে যে চুপ করে থাকা ঠিক হয় নাই। আবার কেউ কেউ বলে যে ঠিকই হয়েছে। এই দুই দলের কেউ ছবি বেগমের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে না, এবং ছবি বেগমও কারো সঙ্গে চোখ নামিয়ে কথা বলে না।

স্যান্ডেল ছবি বেগম খাটের নিচে রাখে। মাসখানেক পর তার ছোট ছেলে নাদিম একদিন সেটা পরে বাইরে বের হয়ে গেলে ছবি বেগম তাকে মারে এবং স্যান্ডেল কেড়ে নিয়ে আবার খাটের নিচে রাখে। কিন্তু সেটা কোনোদিন শুক্কুর আলীর হয়ে ওঠে না। ছবি বেগম নিজেও সেটা জানে। রাতে যখন ঘরের বাতি নিভিয়ে সে শুয়ে থাকে, তখন খাটের নিচে একটা প্লাস্টিকের চটি পড়ে থাকে যেটা কারো না, এবং সেই কারো-না জিনিসের ওপর ভর দিয়ে তিনটা মানুষের ভবিষ্যৎ দাঁড়িয়ে থাকে।

মোসলেম উদ্দিন, যে সোয়ারীঘাটের বরফকলে বরফ ভাঙার কাজ করে এবং যার মাথার চুলে সারা বছর বরফের গুঁড়া লেগে থাকে, সে কন্টেইনার খোলার দিন সকাল থেকেই ঘাটে ছিল। সে সবার সঙ্গে দাঁড়িয়ে গন্ধের জন্য প্রস্তুত হয়েছিল এবং গন্ধ না পেয়ে অস্বস্তি বোধ করেছিল। বিকেলে যখন পুলিশ পরিচয়পত্রগুলো চাতালের ওপর রেখে একটা একটা করে নাম পড়ে শোনায়, তখন সাত নম্বর কার্ডে সে নিজের নাম শোনে।

প্রথমে সে হাসে। সে ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে বলে, "ওইডা আমার। দেন।"

কনস্টেবল কার্ড তুলে ধরে মিলিয়ে দেখে। ছবি মেলে। নাম মেলে। বাবার নাম মেলে। ঠিকানা মেলে, ইসলামবাগ, বরফকলের গলি। কনস্টেবল মোসলেম উদ্দিনের মুখের দিকে তাকায়, তারপর কার্ডের দিকে তাকায়, তারপর আবার মুখের দিকে তাকায়। তারপর সে কার্ড নামিয়ে রেখে বলে, "এইটা আলামত। এইটা দেওন যাইব না।"

মোসলেম উদ্দিন তখনও হাসছিল। সে বলে, "আলামত কীসের? আমি তো খাড়াইয়া আছি।"

এই কথায় ঘাটের লোকেরা হেসে ওঠে এবং সেদিন বিকেলে ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়। কিন্তু আসলে শেষ হয় না, কারণ পরদিন সকালে বরফকলের ম্যানেজার মোসলেম উদ্দিনকে ডেকে বলে যে থানা থেকে খোঁজ নিতে এসেছিল, এবং কাগজে তার নাম উঠে গেছে, এবং কাগজে নাম উঠে গেলে সেটা আর নামানো যায় না।

এরপর যা হয় তা ধীরে ধীরে হয়, এবং এত ধীরে হয় যে কোন দিন থেকে শুরু তা কেউ বলতে পারে না। মোসলেম উদ্দিন রোজ সকালে বরফ ভাঙে, রোজ দুপুরে আক্কাস আলীর দোকানে ভাত খায়, রোজ সন্ধ্যায় ঘরে ফেরে। কিন্তু কার্ড হারানোর পর তার হাতে কোনো কাগজ থাকে না। বরফকলের বেতন যেহেতু হাতে হাতে দেওয়া হতো, সেহেতু প্রথম কয়েক মাস কোনো অসুবিধা হয় না। তারপর কারখানা নতুন নিয়ম করে যে বেতন ব্যাংকে যাবে, এবং ব্যাংক কার্ড ছাড়া হিসাব খোলে না, এবং মোসলেম উদ্দিন নির্বাচন অফিসে যায় এবং সেখানে তাকে বলা হয় যে তার কার্ড হারানো বলে দেখানো যাবে না, কারণ কার্ড হারায় নাই, থানায় আছে। সে থানায় যায়। থানার লোক বলে, "আপনে মামলার বাদী না, আপনে আলামতের মালিক না। আপনের কার্ড অহন রাষ্ট্রের।"

মোসলেম উদ্দিন ফিরে এসে আক্কাস আলীর দোকানে বসে চা খায় এবং বলে, "আমার কার্ড অহন রাষ্ট্রের।" মহল্লার লোকেরা হাসে। মোসলেম উদ্দিনও হাসে।

কিন্তু এর পরের বছরের ভেতর ইসলামবাগের লোকেরা কথা বলার সময় মোসলেম উদ্দিনকে বাদ দিতে শুরু করে। মসজিদ কমিটির চাঁদার তালিকায় তার নাম লেখা হয় না, কারণ চাঁদার তালিকা সদস্যদের কার্ড দেখে করা হয়। মহল্লার পানির লাইন বসানোর সময় বাড়ির তালিকায় তার ঘরের নম্বর ওঠে না। বাচ্চার স্কুলে ভর্তির ফরমে বাবার এনআইডি নম্বরের ঘর ফাঁকা থেকে যায় এবং হেডমাস্টার বলেন যে ফাঁকা ঘর নিয়ে ফরম জমা নেওয়া তার হাতে নাই। এসব একটা একটা করে ঘটে এবং একটা একটা করে ঘটে বলে কেউ কিছু মনে করে না।

তারপর একদিন মুদি দোকানদার আজিজ বাকি দিতে অস্বীকার করে। মোসলেম উদ্দিন বলে, "আমি তো ছয় বছর ধইরা বাকি খাই।"

আজিজ বলে, "খাইছেন। কিন্তু যার হদিস নাই তারে বাকি দিমু ক্যামনে?"

মোসলেম উদ্দিন এই কথার কোনো জবাব দেয় না। সে দোকান থেকে বের হয়ে আসে এবং সেদিন সন্ধ্যায় সে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে, "আমারে দেখতাছ?"

তার স্ত্রী বলে, "পাগলামি কইরো না। ভাত দিমু?"

সে ভাত খায়। ভাত কমে। এইটুকু নিশ্চিত ছিল, এবং মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী পরে বহুবার এই কথা বলে যে ভাত কমত, এবং সে যতবার এই কথা বলে ততবার মহল্লার লোকেরা মাথা নাড়ে, কারণ ভাত কমা প্রমাণযোগ্য জিনিস।

মোসলেম উদ্দিনের বড় ভাই নূর মোহাম্মদ, যে কেরানীগঞ্জে ট্রাকের হেলপারি করত এবং যার সঙ্গে ভিটার ভাগ নিয়ে অনেক আগে থেকেই টানাপোড়েন ছিল, সে এই সময় একদিন ইসলামবাগে এসে হাজির হয় এবং তিন দিন থেকে যায়। তৃতীয় দিন সে মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রীকে বলে, "ছোড ভাইর কাগজপত্র তো কিছু নাই। ভিটার দলিলে তো ওয়ারিশ লাগব। অহন আমি যদি না থাকি, তোমরা করবা কী?"

মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী কিছু বলে না। রাতে সে স্বামীকে বলে। মোসলেম উদ্দিন অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলে, "ভাইয়ে ঠিকই কইছে।"

এই এক জায়গায় ইসলামবাগের লোকেরা পরে ভাগ হয়ে যায়। কেউ কেউ বলে যে নূর মোহাম্মদ সুযোগ নিয়েছে। কেউ কেউ বলে যে নূর মোহাম্মদ ছাড়া ওই ভিটা রক্ষা করার কেউ ছিল না, এবং কাগজবিহীন মানুষের ঘরবাড়ি রাখার কোনো উপায় দুনিয়ায় নাই। মহল্লায় এই তর্ক আজও পুরোপুরি মেটে নাই। মোসলেম উদ্দিন নিজে কোনোদিন এই নিয়ে কিছু বলে নাই। সে বরফ ভাঙে, চা খায়, আর মাঝেমধ্যে ঘাটের চাতালে গিয়ে কন্টেইনারের গায়ে হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকে, কারণ লোহাটা গরমকালে গরম হয় এবং শীতকালে ঠান্ডা হয়, এবং এই ব্যাপারটা তার ভালো লাগে।

মোবাইল ফোনগুলোর কথা আলাদা করে বলার তেমন কিছু নাই। উনিশটার ভেতর সতেরোটা ফুলে গিয়েছিল এবং ব্যাটারির খোল ফেটে ভেতরের জিনিস বেরিয়ে এসেছিল। থানা থেকে সেগুলো ইসলামপুরের এক মেরামতের দোকানে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য এবং সেই দোকানের মালিক আলাউদ্দিন দুই মাস চেষ্টা করে সাতটা চালু করার। একটাও চালু হয় না। শুধু একটা ছোট সাদা ফোন, যেটার কোনো ছবি তোলার ব্যবস্থা ছিল না, সেটা চার্জে দিলে পর্দায় কোম্পানির নাম ভেসে ওঠে এবং তারপর নিভে যায়। এবং যতবার চার্জে দেওয়া হয় ততবার একই ঘটনা ঘটে, নাম ওঠে এবং নিভে যায়। ইসলামপুরের ছেলেরা এক টাকা করে দিয়ে এই জিনিস দেখতে আসত। আলাউদ্দিন ছয় মাসে এই বাবদ কত টাকা কামায় তা সে কাউকে বলে নাই। তারপর একদিন থানা থেকে ফোনগুলো ফেরত নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারপর সেগুলোর আর কোনো খবর পাওয়া যায় না।

নাদিমের কথা এখানে বলা দরকার, কারণ নাদিম ছাড়া জুতার হিসাব সম্পূর্ণ হয় না। ছবি বেগমের ছোট ছেলে নাদিম, বয়স বারো, ঘটনার তিন মাসের মাথায় রাতের বেলা ত্রিপলের নিচ থেকে জুতা সরানো শুরু করে। সে একবারে একটা করে নেয়, কখনো দুইটা, এবং সেগুলো পোস্তায় নিয়ে পুরোনো জুতার এক ব্যাপারীর কাছে বেচে। জোড়া না থাকায় দাম কম পাওয়া যায়, ব্যাপারী একেকটার জন্য পাঁচ টাকা দেয়, এবং নাদিম সেই পাঁচ টাকা দিয়ে বরফ দেওয়া লাল রঙের শরবত খায়।

চার নম্বর রাতে সে একটা কালো চামড়ার জুতা তোলে যেটা তার পায়ের চেয়ে অনেক বড়, এবং সেটা সে বেচে না। সে সেটা পায়ে দেয়। ডান পায়ে সেই জুতা এবং বাঁ পায়ে কিছু না, এইভাবে সে সাত মাস ইসলামবাগের গলিতে হাঁটে। মহল্লার লোকেরা তাকে একদিন ধরে মারে এবং জুতা কেড়ে নিয়ে চাতালে ফেরত দিয়ে আসে। পরদিন জুতা আবার নাদিমের পায়ে দেখা যায়। তারা আবার মারে। তৃতীয়বার তারা আর মারে না, এবং এরপর থেকে ইসলামবাগে এক পায়ে জুতা পরা একটা ছেলে হাঁটতে থাকে এবং সেটা মহল্লার লোকেদের চোখে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

কনস্টেবলের খাতায় শেষ পর্যন্ত জুতার সংখ্যা একচল্লিশই লেখা থাকে, যদিও ত্রিপলের ওপর তখন আর একচল্লিশটা নাই।

হাজি ইদ্রিস আলী, যে মহল্লার মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি এবং যার ইসলামপুরে কাপড়ের আড়ত আছে, সে ঘটনার আট মাস পর মিলাদের প্রস্তাব দেয়। সে বলে যে নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা দরকার এবং ঘাটের চাতালে বড় করে আয়োজন করা যায় এবং সাংবাদিক ডাকা যায়। কমিটির লোকেরা রাজি হয় এবং তারিখ ঠিক হয়। কিন্তু তারিখের চার দিন আগে ইমাম সাহেব একটা প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন যে মিলাদ কার নামে পড়া হবে। যাদের নাম তালিকায় আছে তাদের কেউ মৃত বলে ঘোষিত হয় নাই। কারো জানাজা হয় নাই, কারণ লাশ নাই। শরিয়তে নিখোঁজ ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করার একটা নিয়ম আছে এবং সেই নিয়মে সময়ের হিসাব লাগে, এবং এখানে সবার সময় আলাদা।

কমিটির লোকেরা তিন দিন ধরে বসে এবং তারা সমাধান বের করতে পারে না। ইদ্রিস আলী বলে, "নাম না নিয়া পড়ান। খালি দোয়া।"

ইমাম সাহেব বলেন, "নাম ছাড়া দোয়া হয়। কিন্তু নাম ছাড়া মিলাদ ক্যান হইব, হেইডা মাইনষে জিগাইব।"

মিলাদ শেষ পর্যন্ত হয় না। এই ঘটনার পর ইসলামবাগের লোকেরা আরো একটা জিনিস বুঝতে পারে, যেটা এতদিন তারা বোঝে নাই। তারা বুঝতে পারে যে কন্টেইনারের ভেতর যা পাওয়া গেছে তা দিয়ে কাউকে শোক করা যায় না, কারণ শোক করার জন্য তারিখ লাগে, এবং তারিখ পাওয়ার জন্য শরীর লাগে, এবং শরীর নাই। তারা এও বুঝতে পারে যে এই কারণেই রাহেলা বেগম রোজ এসে বলে যে জুতাটা তার ছেলের না। তারা এই কথা রাহেলা বেগমকে বলে না।

কন্টেইনারটা চাতালের ওপর দুই বছর তিন মাস পড়ে থাকে। এই সময়ের ভেতর তার ভেতরে বেড়াল বাচ্চা দেয়, ঘাটের কুলিরা দুপুরে ভেতরে ঘুমায়, এবং একবার এক বর্ষায় এক লঞ্চঘাটের টিকিট বিক্রেতা রাতে ভেতরে আশ্রয় নিয়ে সকালে বের হয়ে বলে যে ভেতরে সারা রাত কোনো শব্দ শোনা যায় নাই, একদম কোনো শব্দ না, এমনকি নদীর শব্দও না। এই কথাটা মহল্লায় ছড়ায় এবং এরপর কুলিরা আর ভেতরে ঘুমায় না।

তারপর নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ চাতাল খালি করার নোটিশ দেয়। মামলার আলামত হিসেবে কন্টেইনার রাখার আর দরকার নাই বলে থানা থেকে ছাড়পত্র আসে। কন্টেইনার নিলামে ওঠে এবং পোস্তার এক ভাঙারি ব্যবসায়ী সেটা কিনে নেয় এবং গ্যাস কাটার এনে সাত দিনে সেটাকে কেটে টুকরা করে।

লোহার পাত ইসলামবাগে ছড়িয়ে পড়ে। আক্কাস আলী দুটো পাত কেনে এবং তার চায়ের দোকানের সামনের কাঠের ঝাঁপ ফেলে দিয়ে লোহার শাটার লাগায়। একটা পাত যায় বরফকলের পেছনের মুরগির খোপে। বড় একটা পাত দিয়ে কামালবাগের এক বাড়ির উঠানের বেড়া হয়। আরো কয়েকটা টুকরা কেরানীগঞ্জের ডকইয়ার্ডে চলে যায় এবং সেখানে সেগুলো নৌকার তলায় তালি হিসেবে লাগানো হয়, এবং সেই নৌকাগুলো বুড়িগঙ্গায় চলাচল করতে থাকে। এইভাবে যে জিনিস নদীর তলা থেকে উঠে এসেছিল, সেটা টুকরা টুকরা হয়ে মহল্লার ভেতর ঢুকে যায় এবং মহল্লার লোকেরা তার ভেতরে বসে চা খায় এবং তার আড়ালে মুরগি পোষে এবং তার ওপর দিয়ে হেঁটে নদী পার হয়।

জুতাগুলো নিয়ে থানা কী করে তা কেউ ঠিক জানে না। বলা হয় যে সেগুলো গুদামে গেছে। বলা হয় যে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ছবি বেগম বলে যে সেগুলো নাকি ঢাকার বাইরে কোথাও পাঠানো হয়েছে, তবে সে এটা কোথায় শুনেছে তা বলতে পারে না।

শুধু সাত নম্বর জুতা, বাদামি চামড়ার, গোড়ালির কাছে নীল সুতা দিয়ে সেলাই করা, সেটা ইসলামবাগেই থেকে যায়। কীভাবে থাকে তা নিয়ে দুই রকম কথা আছে। এক দলের মতে আক্কাস আলী কনস্টেবলকে পঞ্চাশ টাকা দিয়ে সেটা রেখে দেয়। আরেক দলের মতে নাদিম সেটা চুরি করে এবং বেচতে না পেরে আক্কাস আলীর দোকানের পেছনে ফেলে রেখে যায়। যেভাবেই হোক, নতুন লোহার শাটার লাগানোর পর আক্কাস আলী জুতাটা একটা তারে ঝুলিয়ে দোকানের দরজার ওপরে টাঙিয়ে দেয়, কারণ দোকানে নজর লাগে এবং নজর কাটানোর জন্য জুতা ঝোলানোর রেওয়াজ পুরান ঢাকায় বহুদিনের।

রাহেলা বেগম এখনো মাসে দুই একবার সোয়ারীঘাটে আসে। ঘাটের চাতালে এখন মাছের আড়তের বরফের গাদা থাকে এবং কন্টেইনার যেখানে ছিল সেখানে গাড়ি ঘোরানো হয়। সে চাতালের দিকে তাকায় না। সে আক্কাস আলীর দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায় এবং দরজার ওপরে ঝোলানো বাদামি জুতার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকে। আক্কাস আলী চা বানায়, পয়সা নেয় না। কখনো কখনো মোসলেম উদ্দিনও সেই সময় দোকানে থাকে, বরফের গুঁড়া মাথায় নিয়ে, এবং সে নগদ পয়সা দিয়ে চা খায়, কারণ তার কোনো কার্ড নাই বলে তার বাকি চলে না। কেউ কারো সঙ্গে কথা বলে না।

যাওয়ার আগে রাহেলা বেগম প্রতিবার একই কথা বলে। সে বলে, "এইটা আমার পোলার না।"

আক্কাস আলী মাথা নাড়ে। মোসলেম উদ্দিন মাথা নাড়ে। মহল্লার যে যেখানে থাকে সে মাথা নাড়ে। তারপর রাহেলা বেগম গলি ধরে হেঁটে চলে যায় এবং জুতা তারের সঙ্গে ঝুলতে থাকে, এবং বর্ষার রাতে যখন বৃষ্টি নামে তখন আক্কাস আলীর লোহার শাটারের ওপর যে শব্দ হয়, ইসলামবাগের লোকেরা সেই শব্দ শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুপান্তর

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:০৭


কাজী সালাউদ্দিন সাহেবের আসলেই রাজকপাল , এই কথা বললে বিন্দুমাত্র বাড়িয়ে বলা হয় না। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মসনদে টানা ষোলো বছর বসে থাকার এক বিরল কীর্তি তিনি গড়েছেন, যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×