somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বখাটে ভালোবাসা,,,

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'বুঝলেন ভাই,
জিনুকে আমি আমার
জীবনের থেকেও
বেশি ভালবাসি।'
কথাটা বলেই
ছেলেটা মাথা নিচু
করে মাটিতে পা খুঁটতে লাগল।
আমি চায়ের কাপ
টা ছেলেটার
হাতে ধরিয়ে দিলাম।
বাইরে বেশ ঠান্ডা পড়েছে।
রাত প্রায় নয়টা। এই
সময়টা সফদরের চায়ের
দোকানটা প্রায়
খালি হয়ে আসে। সামনের
লেডিস হোস্টেলের
গেটে প্রেমিকদের ভীড় ও
কমে আসে। দুই একটা সদ্য
প্রেমে পড়া পুরুষ গেটের
এপারে দাঁড়িয়ে লোহার
শিকের
ওপারে থাকা প্রেমিকাকে ছোঁবার
চেষ্টা করে।
ছোঁয়া না ছোঁয়ার
প্রেমে খিলখিল
হাসি সফদরের
দোকানে বসে চায়ে চুমুক
দিতে দিতে কান পাতলেই
পাওয়া যায়।
আমি সিগারেটে লম্বা একটা টান
দিয়ে ফুঁ
দিয়ে বাতাসে একদলা ধোঁয়া উড়িয়ে দিলাম।
শীতকালে ফুঁ
দিয়ে ধোঁয়া ওড়ানোর
একটা মজা আছে। দূর
থেকে কেউ
যদি দেখে তাহলে মনে হবে ছেলেটা খুব
ঠান্ডায় মুখ দিয়ে বাষ্প বের
করছে। মানুষ সব সময়
যে নেগেটিভ
চিন্তা করে তা কিন্তু না।
একজন এলোমেলো চুলের
ছেলে সিগারেট
টানছে ব্যাপারটা ভাবার
চেয়ে আজ বড্ড শীত
পড়েছে ভেবে নেওয়া বেশ
সহজ।
আমি ছেলেটার
দিকে তাকালাম।
ছেলেটা চায়ে চুমুক
না দিয়ে দুইহাতে কাপটা ধরে অল্প
অল্প কাঁপতে লাগল। এই
প্রথম খেয়াল করলাম
ছেলেটার বাম হাতে অজস্র
কাটা দাগ। হাতের
দিকে তাকিয়ে আছি দেখে বোধহয়
বিব্রত হয়েই
কিনা হাতটা চাদরের
আড়ালে টেনে নিয়ে বলতে শুরু
করল,
'জিনিয়ার সাথে আমার
রিলেশন তিন বছরের।
জিনিয়াকে আমি আদর
করে জিনু ডাকতাম। জিনু
ডাকলেই
মেয়েটা হাসিতে ভেসে যেত।
জানেন আমার মনে হত এই
হাসি দেখে সারাটা জীবন
কাটিয়ে দিব। বিশ্বাস
করেন আর কিচ্ছু চাওয়ার
ছিল না আমার।'
ছেলেটা নড়েচড়ে বসে এবার
চায়ে চুমুক দিল। চুমুক দিয়েই
মুখটা বিকৃত করে ফেলল।
আমি মুচকি হেসে সিগেরেটে শেষ
টানটা দিয়ে দূরে ছুড়ে ফেললাম।
দীর্ঘ ছয় বছরের ব্যাচেলার
জীবনে একটা জিনিস
আমি আবিস্কার করেছি। সব
গুলো লেডিস হোস্টেলের
সামনের চায়ের দোকানের
চা গুলো মারাত্তক বিস্বাদ
হয়। তারপরও সেই চা লাইন
ধরে কিনতে হয়। আমার
মনে হয় এরা ইচ্ছে করে এমন
বিস্বাদ চা বানায়। কারন
চা বানানোর সময় এদের মুখ
হাসি হাসি থাকে। লেডিস
হোস্টেলের সামনে কেউ
এসেছে অথচ
চা খেয়ে যায়নি অথবা প্রেমিকাকে চা খাওয়ায়নি ব্যাপারটা অসম্মানজনক।
সেটার সর্বোচ্চ
ফায়দা লুটে নেয়
চা দোকানদাররা।
আমার এই ঠান্ডার
রাতে এখনে আসার কোন
ইচ্ছে ছিল না। আসতে বাধ্য
করেছে ছেলেটা। ছেলেটার
প্রেমিকা আমার ক্লাসমেট।
ক্লাসমেট এর সংসার
জুড়ে দেবার মহান
কাজে এখানে এসে পড়েছি আমি।
ছেলেটা নড়েচড়ে বসে আমার
দিকে তাকিয়ে করুন গলায়
বলল, 'আপনাকে খুব বিরক্ত
করলাম। জিনিয়া আমার
সাথে কথা বলতেই
চাইছে না। আপনি ছাড়া আর
কাওকে বলতেও পারছি না। '
-কি যে বলেন না।
আচ্ছা তারপর কি করে এমন
হল?
- ও হ্যা। মাস তিনেক
আগে থেকেই
ব্যাপারটা ধরতে পারি আমি।
আমার জিনু আর আগের মত
নেই। ফোন দিলে ঠিক মত
কথা বলে না। সারাদিন
ব্যাস্ততা, ক্লাস, এক্সামের
অজুহাত।
আমি বুঝতে পারছিলাম
জিনু আর আগের মত
আমাকে ভালবাসেনা।
আমি ছুটে এলাম
দেখা করতে। কিন্তু কোথায়
যেন সুরটা কেটে গিয়েছিল।
এই সব নিয়ে খুব
ঝগড়া হতে লাগল। তারপর
থেকে ওর ফোনে ওয়েটিং এর
পরিমান বেড়ে গেল। আর
আমাদের ঝগড়াটাও। এক
সপ্তাহ আগে একটা খুব বড়
ঝগড়া হয়ে গেল। রাগের
মাথায় আমিও বোকার মত
গালি দিয়ে ফেললাম।
তারপর থেকে মেয়েটা আমার
ফোন ধরছে না। নাম্বারটাও
ব্লক করে দিয়েছে।
ছেলেটা কথাগুলো বলতে গিয়ে বোধহয়
কেঁদে ফেলেছে। মুখ
ঘুরিয়ে চারতলা লেডিস
হোস্টেলের
দিকে তাকিয়ে কি যেন
দেখার চেষ্টা করতে লাগল।
এমন সময় আমার ফোন
বেজে উঠল,
হ্যালো?
-আমি গেটে।
তাড়াতাড়ি আয়। বেশিক্ষন
দাঁড়াতে পারব না।
আমি ফোনটা রেখে গেটের
দিকে এগিয়ে গেলাম।
ছেলেটা আমার পিছু পিছু
আসছে। মুখটায়
আশা নিরাশার আনন্দ
বেদনা খেলা করছে।
আমি গেটের
সামনে দাড়িয়ে আছি।
জিনিয়া এসেছে। এসেই মুখ
ঝামটা দিয়ে বলল, এত
রাতে কি এমন জরুরী কথা?
-শুনলাম তোর আর নাহিদের
নাকি ব্রেকাপ হয়ে গেছে?
-এই কথা বলার জন্য তুই
আমাকে ডেকেছিস?
-ঘটনা কি বলবি তো?
-দ্যাখ অর্ক তুই তো বুঝিস।
নাহিদ আনস্মার্ট, খ্যাত।
কোন পারসোনালিটি নেই।
ওর সাথে আমার থাকা সম্ভব
না। আর আমাকে রায়হান
প্রপোজ করেছে। আই এম ইন এ
রিলেশনশিপ নাউ।
-রায়হান মানে সেই
বখাটে ছেলেটা?
-অর্ক! মাইন্ড ইউর
ল্যাংগুয়েজ। রায়হানের মত
ছেলেই হয় না। তুই কি বুঝবি।
নিজেই তো একটা গাঁইয়া।
-নাহিদ তোকে অনেক
ভালবাসে।
-কুত্তা! তুই আমার কাছে ওর
দালালী করতে এসেছিস?
ছিহ তোকে আমার বন্ধু
ভাবতাম আমি।
জিনিয়া চলে গেছে। মনের
আড়াল তো ছিলই, দরজার
আড়ালটা নাহিদ
কে দেখতে দেয়নি জিনিয়াকে।
নাহিদ কাঁদছে।
কাঁদতে কাঁদতে আমাকে জিজ্ঞেস
করল, আমি এখন কি করব
ভাই?
আমি ফস
করে একটা সিগারেট
ধরিয়ে লম্বা করে একটা টান
দিয়ে বললাম,
বখাটে হতে পারবেন?
আমরা দুজনে ল্যাম্পপোস্ট
এর নিচে দাড়িয়ে আছি।
চারিদিকে ঠান্ডা কুয়াশা ঝরে পড়ছে।
ল্যাম্পপোস্ট এর আলোয়
আমার বাম হাতে অস্পষ্ট
হয়ে আসা কয়েকটা কাটা দাগ
দেখা যাচ্ছে।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস
ফেলে তিনতলার
একটা জানালার
দিকে তাকালাম। এই
মুহুর্তে একটা জানালাকে ভুলে যাওয়ার
জন্য এক বছর সময়টাকে খুব
ছোট মনে হতে লাগল।
সত্যিকারের
ভালবাসাগুলো সব সময়
ধোঁকাবাজদের জন্য
আমরা তুলে রাখি।
ভালবাসার মানুষ
ধোঁকা দিয়ে ভালবাসা নিয়ে পালায়।
দাগ রেখে যায় শরীরে, মনে।
শরীরের দাগ তো সময়ের
সাথে সাথে মুছে যায়। মনের
দাগটা বোধহয় থেকে যায়।
সারাজীবন
ভালবেসে অভিশাপ দেবার
জন্য। মাঝরাতে কষ্ট
পেয়ে কেঁদে ফেলার মত
অভিশাপ
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:৫১
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×