তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্থান নামক রাষ্ট্রটি ৫৬ % মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল কিন্তু পারে নাই। কাকতালীয় ব্যপার হলো- সংবিধান কে উপেক্ষা করে এখন আমাদের প্রিয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি মাত্র ৫৬ % চাকরির সুযোগ কেড়ে নিচ্ছেন! তখন ছিল ১৯৫২ কিন্তু এখন ২০১৮ সাল। তখন ইতিহাস ছিল না; এখন আছে - একুশের ইতিহাস, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। তাই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হৃদয়ের গভীরে ঘুমিয়ে আছে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারের উপস্থিতি। কিন্তু রাকসু, ঢাকসু নির্বাচন না থাকায় বঙ্গবন্ধুর মত যোগ্য নেতৃত্ব নাই। নয়তো কবেই কোটা নামের বৈষম্য প্রথাকে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দিতাম।
'একুশ' আমাদের নির্ভিক হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। ভিডিও ক্লিপ দেখে চিহ্নিত করার হুমকি ধামকি আর চেতনার বিষ ঢেলে দিয়ে বারবার চুপ করানো যাবে না। আমরা বুঝি, একুশের চেতনাকে হৃদয়ে লালন করি। তাই চেতনা ব্যাখ্যা করবার জন্য অভিধান থেকে খটমট শব্দ খুঁজে আনতে হবে না। চেতনা তো সেটি যা হৃদয় থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেরিয়ে আসে; গোলাপের পাপড়ির মত। একুশের চেতনা চিৎকার করে বলে- ন্যায্য দাবীর কথা, দাবী আদায়ের কথা, বৈষম্য থেকে মুক্তির জন্য আন্দোলনে কথা।
সাতসকালে খালি পায়ে হাঁটার নাম 'একুশ' নয়! পাথরের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার নাম 'একুশ' নয়! গান গাওয়া কিংবা মাইকে গান বাজানোর নাম 'একুশ' নয়। 'একুশ' বলে, ন্যায্য দাবির কথা না বুঝলে- বোঝাব, গোল হয়ে দাঁড়াব, না শুনলে- শোনাব, গোল হয়ে দাঁড়াব, না মানলে- মানাব গোল হয়ে দাঁড়াব! 'একুশ' দাবী আদায়ের কথা বলে। যাঁরা ন্যায্য দাবীর কথা বলাকে 'উগ্রতা' বলে তকমা দেন তারাঁ আসলে চেতনা ব্যবসায়ী। তাঁরা জেনে রাখুক - একুশের চেতনা শুধুই ফুল দিতে বলে না, একুশের চেতনা কোটা নামের বৈষম্য মূলক প্রথাকে বাতিল করবার কথা বলে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



