somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্লাস্তনস্ত (পর্ব- ২)

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার দেখলে খানিকটা হাসি পায়। ঢালাওভাবে বলছিনা তবে অনেকেই যে আসলে অকাজের কাজী তাতে সন্দেহ নেই। এনারা কেন যেন লাগিয়ে দিয়ে সমতা আনার চেষ্টা করেন। যেমন, কোটার পক্ষে ও বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি অবস্থান। যেন দুইটা আন্দোলন সমানে সমান, কিন্তু আদতে তা নয়। ৫৬% আর ৪৪% কী সমান? আচ্ছা, একদল প্রিলিতেই কোটা চায় আরক দল ৫৬% কোটার অবসান চায়। তাহলে দুই দলই তো আসলে কোটার সংস্কার চায়। তাহলে আপনি মাঝখানে থেকে পক্ষ-বিপক্ষ বানিয়ে দুইটাকে একসাথে জোড়াজাপ্টি দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করে বাজিয়ে দিচ্ছেন কেন? এমনিতে কেউই কাউকে গালি দেয় না বরং আপনার সংবাদটা পড়ে কিংবা দেখেই তো গালির উৎপত্তি হচ্ছে। তাহলে এই উষ্কানি কে দিচ্ছে; ভায়া?

যদি শুধু একটা নিউজকে ফোকাস করতে বলা হয় তাহলে প্রিলিতেই কোটা চালুর পক্ষে যে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন তাদের জন্য কেউই নিউজ করবে না। অথচ কোটার সংস্কারের বিশাল আন্দোলনের নিউজটা যখন ছাপাচ্ছেন বা টিভিতে রিপোর্ট করছেন তখন কোটার পক্ষের গুটিকয়েক জনের নিউজটাও বহালতবিয়তে ছাপিয়ে দিয়ে লাগিয়ে দিচ্ছেন। কেন রে ভাই? এভাবে আপনি কোটা সংস্কারের আন্দোলনের উজ্জ্বলতা নষ্ট করছেন? প্রয়োজনে আপনি দুইটা আলাদা নিউজ করেন। কিন্তু একটার সাথে আরেকটা লাগিয়ে দুইটার গুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছেন কেন?

দুই পক্ষের দাবি যেহুতু সরকারের কাছে, আপনি ক্ষমতাবানদের জানান, তাদের আলাদাকরে প্রশ্ন করেন, পিএসসির চেয়ারম্যানকে বলেন এব্যপারে তাঁর আর কিছুই কি করার নাই? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন ছেলেমেয়ে রাস্তায় কেন? আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকে প্রশ্ন করেন ছাত্রলীগ রাস্তায় কোন যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকার করেছে কি না? ছাত্রলীগ কে প্রশ্ন করেন তাঁরা কি চায়? আওয়ামীলীগ কী চায়? সরকার কী চায়? তিনটার আদর্শ এক হলেও তিনটা তো এক নয়। কোটা প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া নেন। তাঁকে প্রশ্ন করেন বঙ্গবন্ধুর বাংলায় কেন নতুন করে জয় বাংলার স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত হচ্ছে? কারা কি চায়? কেন চায়? দিচ্ছেন না কেন? রোহিঙ্গাদের যদি ঠাই হয় বাংলাদেশে তাহলে দেশের যোগ্য মেধাবীদের ঠাই প্রজাতন্ত্রের চাকুরীতে হবে না কেন? প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির মতামত নিতে ভয়ের কি আছে? বারবার ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করেন? বারবার।

ও আচ্ছা, কেন এমন করবেন? কারন আপনিতো এমনই করেন! কিছু না ঘটতেই যদি ছুটে গিয়ে রাজনীতিবিদ দের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া লাইভ প্রকাশ করতে পারেন (যদিচ যিনি প্রতিক্রিয়া শেয়ার করেন তিনি হয়তো এখনো বিষয়টি ক্লিয়ার বুঝেই উঠেন নাই; তবুও!) এতে ভুলভাল যাই বকলেন সেটি নিয়ে আবার বিরোধীদলের প্রতিক্রিয়া লাইভ প্রচার করতে পারেন। তাহলে এখন কি সমস্যা? পরিস্থিতি এতটা তুঙ্গে তোলে যে আমরা টিভি সেটের সামনে বসে তামাশা দেখি। তিল কে তাল করতে এতো তৎপর আপনি অথচ কোটা সংস্কার নিয়ে শুধু 'ছাত্ররা রাস্তায়' বলেই ছেড়ে দিচ্ছেন কেন? কেন ক্ষমতাবানদের প্রশ্নের মুখোমুখি করছেন না? আশ্চার্য!

টিভি ওয়ালারা ভাবেন, দর্শক বুঝি তাদের বানানো নিউজ দেখতে চাচ্ছে। চালিয়ে দাও অহেতুক নিউজ, এক্সট্রা নিউজ, লাইভ লেখা অফলাইন টকশো...! না রে, ভাই না; আমরা দেখতে চাই না। আপনেরা এতো করে দেখাচ্ছেন বলেই আমরা দেখছি। রিমোটটা মাঝেমাঝে বালিশের তলে পড়ে যায়- খুজে পাই না তাই!

৫ দফা নিয়ে ৫ম বারেরমত রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করছি এই আর্তনাদের সংবাদ কি ভালোভাবে পৌঁছেছে প্রধান মন্ত্রীর কানে? যদি এটা পৌঁছানোর দায়িত্ব ক্ষুব্ধ ছাত্রসমাজকে নিতে হয় তাহলে সাংবাদিকদের থেকে কী লাভ? তারুণ্যের এ যৌক্তিক দাবি, এতো বড় সমাবেশ কিভাবে পত্রিকার ভেতরের পাতায় হারিয়ে যায়? এই নিউজ তো পত্রিকার প্রথম পাতায় থাকবে, ইলেকট্রিক মিডিয়ার শিরোনাম হবে- যতদিন না এর যথাবিহিত সুরহা হয়। গণমাধ্যমের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা নেই ঠিকি কিন্তু রাষ্ট্র কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, মানুষ কী নিয়ে ভাববে- সেটি গণমাধ্যমই ঠিক করে দেন। তাই গণমাধ্যমের কোটা সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনায় খামখেয়ালিপনা মোটেও কাম্য নয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১০:৩১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×