“কখনো কখনো ভাগ্য কাউকে না জানিয়ে দুটো আলাদা জীবনের সুতো একসাথে বুনে ফেলে।”
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, বিদ্যুৎ নেই চারিদিকে অন্ধকার, শাহরিয়ার বাইকের গতি কমিয়ে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। ডান দিকের গলি থেকে হঠাৎ একটা রিকশা মেইন রোডে উঠে এলো। ব্রেক চাপার দেওয়ার আগেই তীব্র একটা শব্দ, একটা চাপা চিৎকার, আর পরের মুহূর্তেই সে রাস্তায়। ডান পা চেপে ধরে উঠে বসতেই দেখল, রিকশাওয়ালা ভয়ে পালিয়েছে। সে জানত না, রিকশা থেকে ছিটকে পড়া একটি মেয়ে তখন রাস্তার ওপারে একটা বন্ধ দোকানের শেডের নিচে দাঁড়িয়ে ঠিক একইভাবে নিজের ডান পা চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকারে কেউ কাউকে দেখল না। দুজন দুই দিকে পায়ে ব্যথা নিয়ে বাড়ি ফিরল।
ঘড়িতে তখন ২টা ১৩। শাহরিয়ার নিজের ফ্ল্যাটে চিনি ছাড়া এক মগ চা বানাল, সঙ্গে এক ফোঁটা লেবুর রস। অন্য দিকে খালার বাসায় বসে, মেয়েটি তার পায়ে কিছুক্ষন বরফ লাগিয়ে রান্না ঘরে গিয়ে এক কাপ বানাল সাথে অল্প একটু লেবু দিয়ে লেবু-চা করে নিল। চা হাতে নিয়ে বেলকনিতে একটা চেয়ার নিয়ে বসলো শাহরিয়ার। চায়ে চুমুক দিতে দিতে ভাবছিল, সবাই যখন ঘুমিয়ে, তখন নিজেকে কতটা একা লাগে। বাহিরে হালকা হালকা বৃষ্টি দেখতে দেখতে চায়ে চুমুক দিচ্ছিলো আর অতিথে ফিরে যাচ্ছিলো। চার বছর আগে এমন একটা রাতে বান্দরবানের রেমাক্রিতে আকাশ ভেঙে পড়ছিলো বৃষ্টি। পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ ছিলো, মোবাইলে নেটওয়ার্ক ছিলো না। কটেজের বারান্দা থেকে শুধু সাঙ্গু নদীর গর্জন শোনা যাচ্ছিল।
ভেতরে ইকবাল কাঠের মেঝেতে শুয়ে কাতরাচ্ছে। “দোস্ত, কেন যে এই অজপাড়াগাঁয়ে আসলাম! পেটের ব্যথায় মরে গেলাম!”
“বাইরের ওই শুঁটকি ভর্তা খেলে এটাই হয়,” মোমবাতি জ্বালাতে জ্বালাতে বলল রাসেল।
শাহরিয়ার ওদের হট্টগোল ফেলে বারান্দায় এসে দাঁড়াল, হাতে একটা পুরোনো ডায়েরি আর পেনসিল। মন শান্ত করতে সে একটা পুরোনো সুর গুনগুন করতে লাগল।
উল্টো দিকের কটেজের বারান্দায় একটা লণ্ঠন জ্বলছিল। হলুদ, নরম আলো। সেই আলোয় চোখ বন্ধ করে বসে বৃষ্টির শব্দ উপভোগ করছিল ডায়রি হাতে এক তরুণী। শাহরিয়ার থমকে গেল। কী মনে করে সে তার হাতের ডায়েরি খুলে আলো-ছায়ায় ঢাকা সেই মুখটা আঁকতে শুরু করল। পাতার কোণে তারিখ লিখল: ২৭শে অক্টোবর, ২০২২।
ওপারে মেয়েটি তখন চোখ খুলেছে। মেয়েটির নাম জেরিন। সে দেখল, অন্ধকার বারান্দায় একজন মানুষ মাথা নিচু করে কী যেন আঁকছে, আর সেই অচেনা সুরটা ভেসে আসছে তার দিক থেকেই। জেরিন নিজের ডায়েরি খুলে একটা কবিতা লিখে ফেলল। তার শেষ লাইন ছিল:
“বৃষ্টির অচেনা সুর, তুমি কি জানো, কেউ একজন শুনছে তোমায় খুব কাছ থেকে”
নিচে সেও তারিখ বসাল: ২৭শে অক্টোবর, ২০২২।
পরদিন সকালে ফেরার সময় শাহরিয়ার এক মারমা বৃদ্ধার দোকান থেকে শখ করে একটা কাঠের লকেট কিনেছিল। গোল, তার ওপর খোদাই করা পাহাড়ি ফুল। শাহরিয়ার ঝুলিয়েছিল বাইকের চাবির রিংয়ে। জেরিনও একই রকম একটা লকেট কিনেছিল পার্সের চেইনে লাগানোর জন্য।
অফিস থেকে ফেরার পথে নিউ মার্কেট গেলো শাহরিয়ার। আজ তার বান্ধবী মিথিলার জন্মদিন তার জন্য একটা গিফট কিনতে। মিথিলার সাথে তার পরিচয় সেই কলেজ থেকে। নিলয়, রাসেল, ইকবাল আর জুনায়েদ স্কুলজীবনের বন্ধু, পরে কলেজে ওদের দলে যুক্ত হয়েছে রামিসা, ফেন্সি, ইসরাত আর মিথিলা। কলেজের সেই সোনালি দিনগুলো এখন অনেক দূরে। সবাই চাকরি আর সংসারে ব্যস্ত, শুধু শাহরিয়ারই এখনো ব্যাচেলর। কানুকগো থেকে একটা সুন্দর ঘড়ি নিয়ে সে বাসার দিকে রওনা দিলো।
শাহরিয়ার যখন মিথিলার বাসায় পৌঁছাল, ড্রয়িংরুম তখন অতিথিদের ভিড়ে গমগম করছে। ড্রয়িংরুমের কোণ থেকে চেঁচাল নিলয় বললো-
“কী রে লেট লতিফ! আজ আবার কী হয়েছিল?”
মিথিলা শাড়ির আঁচল সামলে ছুটে এলো। “দোস্ত, আসছিস?
“এই নে, কি অবস্থা তোর”
মিথিলা গিফটা হাতে নিতে নিতে বললো- “থ্যাংকইউ দোস্ত, তুই না বলেছিলি সাতটা-সাড়ে সাতটার মধ্যে আসবি! এখন দেখ নয়টা দশ!”
“বলিস না রে, যা জ্যাম! পায়ে ব্যথা, অবস্থা ভালো না, বাইক রেখে সিএনজিতে এসেছি, আর রাস্তায় যা খোঁড়াখুঁড়ি।” শাহরিয়ার ঘাম মুছতে মুছতে বললো।
“বের হয়েছিলি কয়টায়?”
“ওই তো, সাড়ে সাতটা হবে।”
“প্রায় দুই ঘণ্টার জ্যাম? তোর বাসা থেকে হেঁটে এলেও তো আগে পৌঁছে যেতি!”
“ও তো সবসময় শেষ মুহূর্তে বের হয়,” ইকবাল চায়ের কাপ হাতে এগিয়ে এলো। “কলেজে যাওয়ার সময়ও ঠিক বাস ছাড়ার মুহূর্তে এসে দাঁড়াত!”
“এই জন্যই তোর বিয়ে হয় না,” হাসতে হাসতে ফেন্সি শাহরিয়ারের পিঠে একটা চড় বসিয়ে দিল।
আড্ডার মাঝেই এক তরুণী এগিয়ে এসে মিথিলাকে ডাকল। “কী রে মিথু, কেক কাটবি না? সবাই বসে আছে।”
তাকে দেখে শাহরিয়ার একটু থমকে গেল। কেমন একটা চেনা চেনা অনুভূতি, অথচ কোথায় দেখেছে কিছুতেই মনে পড়ছে না। অস্বস্তি ঢাকতে সে চাবির রিংটা টেবিলে নামিয়ে রাখল। রিংয়ে ঝোলানো কাঠের লকেটটা ঠুক করে একটা শব্দ করল।
“এই তো আসছি,” মিথিলা বলল। “দোস্ত, ও জেরিন, আমার কাজিন। ঢাকা থেকে এসেছে পরশু। আর জেরিন, ওরা সবাই আমার কলেজের বেস্ট বাড্ডি। তোরা একটু কথা বল, আমি কেক কাটার ব্যবস্থা করে আসি।”
কেক কাটা হলো, হাসি-ঠাট্টায় মেতে উঠল সবাই। ডিনার সেরে অন্য অতিথিরা একে একে বিদায় নিলে বন্ধুরা ড্রয়িংরুমের কোণে আবার আড্ডা জমাল।
মিথিলা তখন ডাইনিং টেবিলে চায়ের কাপ গোছাচ্ছিল। ড্রয়িংরুম থেকে শাহরিয়ারের গলা ভেসে এলো, সে রাসেলকে বলছে, “আর বলিস না, পরশু রাতে অফিস থেকে বাসায় ফিরছিলাম। কমার্স কলেজের সামনে একটা রিকশা এমন ধাক্কা দিল! ডান পায়ে যা ব্যথা পেলাম, এখনো ফুলে আছে।”
মিথিলার হাত একটু থেমে গেল। মিনিট পাঁচেক আগেই এই টেবিলের পাশে জেরিন ফেন্সিকে প্রায় একই কথা বলছিল। “ভাগ্য ভালো, বেঁচে গেছি। পরশু রাতে আগ্রাবাদে, কমার্স কলেজের মোড়ে, রিকশা থেকে ছিটকে পড়লাম। কোত্থেকে একটা বাইক এসে... ডান পায়ে এখনো নীল দাগ।”
কিছুক্ষণ পর রামিসা জেরিনের ফোনে একটা ছবি দেখে বলে উঠল, “ওয়াও জেরিন, ছবিটা তো দারুণ! কোথায় তোলা?”
জেরিন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে একটু ম্লান হাসল। “রেমাক্রির। বান্দরবানের।”
“কবে গিয়েছিলে?”
“চার বছর আগে, ২০২২-এর অক্টোবরের শেষে। সে যে কী অবস্থা! বৃষ্টির রাত, বিদ্যুৎ নেই, নেটওয়ার্ক নেই।” জেরিন একটু থামল। “শুধু বৃষ্টির শব্দ সেটা আজও মনে আছে।”
মিথিলা ট্রে হাতে ড্রয়িংরুমের দিকে এগোল। দরজার কাছে আসতেই ইকবালের জোরালো হাসি।
“দোস্ত, রেমাক্রির ট্যুরটার কথা মনে আছে?”
“তোর তো পেট খারাপ হয়েছিল,” রাসেল বলল।
“পেট খারাপ না, জাস্ট ব্যথা!
“এই অক্টোবরেই তো চার বছর হবে”
“এক তো বৃষ্টি, তার ওপর কারেন্ট নেই, কী একটা অবস্থা! তবে যা-ই বলিস, জায়গাটা জোস ছিল।”
মিথিলার পা থেমে গেল। সে দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে ট্রেটা দুহাতে শক্ত করে ধরল। মিথিলা মনে মনে কথাটা আওড়াল। একই বছর, একই মাস, একই জায়গা, বৃষ্টিভেজা রাত। সে একবার ডাইনিং টেবিলের দিকে তাকাল, যেখানে জেরিন তখনো ফোনের ছবিটা দেখছে। তারপর ফিরে তাকাল ড্রয়িংরুমে, শাহরিয়ার সোফায় হেলান দিয়ে হাসছে। তাহলে কি ওরা আগে থেকেই একে অপরকে চেনে? আমাকে লুকিয়ে প্রেম করে বেড়াচ্ছে? ভাবনাটা মনে আসতেই সে নিজেই হেসে ফেলল। কিন্তু হাসিটা মিলিয়ে যাওয়ার পরও প্রশ্নটা মাথা থেকে গেল না।
“শাহরিয়ার, একটু ওঠ তো। জেরিন, তুইও আয় এদিকে।”
“কেন রে?” শাহরিয়ার ভুরু কোঁচকাল।
“আয় না, কথা আছে।”
দুজনকে ড্রয়িংরুমের মাঝখানে মুখোমুখি দাঁড় করানো হলো। শাহরিয়ার অস্বস্তিতে গলা খাঁকারি দিল, জেরিন ওড়নার প্রান্ত আঙুলে পেঁচাতে লাগল। বন্ধুরা কৌতূহলী হয়ে ওদের ঘিরে ধরল।
“তোদের একটা ম্যাজিক দেখাই,” মিথিলা গম্ভীর গলায় বলল। “শাহরিয়ার, পরশু রাতে তোর অ্যাক্সিডেন্ট ক’টায় হয়েছিল?”
“রাত ন’টার দিকে।”
মিথিলা জেরিনের দিকে ফিরল। “আর তোর?”
“ন’টার দিকেই,” জেরিন মৃদু স্বরে বলল।
“কোথায়?”
“আগ্রাবাদ কমার্স কলেজের মোড়ে,” দুজনেই প্রায় একসাথে বলে উঠল।
ঘরটা হঠাৎ শান্ত হয়ে গেল। তারপর রামিসা আস্তে আস্তে বলল, “এক মিনিট। একজনের বাইকে রিকশা এসে ধাক্কা দিল, আরেকজন রিকশা থেকে ছিটকে পড়ল... তোরা কি একই অ্যাক্সিডেন্টের কথা বলছিস?”
শাহরিয়ার আর জেরিন একে অপরের দিকে তাকাল। শাহরিয়ারের মুখ হাঁ হয়ে গেল। “আপনি... রিকশায় ছিলেন?”
“আর আপনার বাইকটা... ডান দিক থেকে...” জেরিন কথা শেষ করতে পারল না।
“আর চার বছর আগে, অক্টোবরের শেষে,” মিথিলা প্রতিটা শব্দ আলাদা করে বলল, “তোরা দুজন কে কোথায় ছিলি?”
এক মুহূর্তের নীরবতা। তারপর দুজনের গলা একসাথে ভেসে এলো: “রেমাক্রি।”
কেউ হাসল না। ইকবালের মত রসিক ছেলেও কোনো রসিকতা করল না।
“সত্যি করে বল তো, তোদের মধ্যে কী চলছে? প্রেম করছিস না তো?”
“পাগল নাকি!” শাহরিয়ার বলে উঠলো।
“আমি তো উনাকে আজই প্রথম দেখলাম।” জেরিন অবাক হয়ে আস্থে আস্থে বললো।
জেরিন চুপ করে তাকিয়ে রইলো টেবিলে পড়ে থাকা শাহরিয়ারের চাবির রিংয়ের দিকে তারপর কোনো কথা না বলে পার্স থেকে বের করল একটা কাঠের গোল লকেট। সেখানে ঝুলছে ঠিক একই পাহাড়ি ফুলের নকশা যেটা শাহরিয়ারের চাবির রিংয়ের সাথে হুবহু মিল।
ঠিক তখন রাসেল শাহরিয়ারের দিকে ঝুঁকে ফিসফিস করল, “দোস্ত, তুই না একবার বলেছিলি, রেমাক্রির কটেজের সামনে এক মেয়েকে এক পলক দেখে তোর ভালো লেগেছিল? লণ্ঠনের আলোয় তার স্কেচও এঁকেছিলি ডায়েরিতে...”
ফিসফিসটা যতটা আস্তে হওয়ার কথা ছিল, ততটা হলো না।
“লণ্ঠনের আলো?” জেরিনের গলা কেঁপে গেল। “ওই রাতে আপনি কি বারান্দায় বসে একটা সুর গুনগুন করছিলেন?”
শাহরিয়ার কিছু বলতে পারল না। সে ফোন বের করে ডায়েরির সেই স্কেচের ছবিটা মেলে ধরল। নিচে স্পষ্ট লেখা: ২৭শে অক্টোবর, ২০২২।
জেরিন ব্যাগ থেকে নিজের ডায়েরি বের করে ঠিক সেই তারিখের পাতাটা খুলল। কবিতাটার শেষ লাইনে সে আঙুল রাখল।
স্কেচ আর কবিতা পাশাপাশি রাখতেই পুরো ঘরে একটা অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো। যেন চার বছর ধরে আলাদা ছুটে চলা দুটো রেখা আজ রাতে এক বিন্দুতে এসে মিলে গেছে।
নীরবতা ভাঙল নিলয়ের ফিসফিস। “দোস্ত, একেই বলে ভাগ্য। চার বছর আগে রেমাক্রিতে যে সুতো আলগা করে বাঁধা পড়েছিল, আজ মিথুর জন্মদিনে সেটা শক্ত হয়ে গেল।”
ঘর হেসে উঠল একসাথে, আর সেই হাসির মধ্যেও শাহরিয়ার আর জেরিনের একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে।
বন্ধুরা যখন স্কেচ আর কবিতা নিয়ে হইচই করছে, শাহরিয়ার আস্তে করে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল। রাতের হাওয়াটা ঠান্ডা। কিছুক্ষণ পর জেরিনও এলো, হাতে দুটো চায়ের কাপ। একটা সে শাহরিয়ারের দিকে বাড়িয়ে দিল। চিনি নেই, শুধু এক ফোঁটা লেবুর রস। শাহরিয়ার চুমুক দিয়ে অবাক হয়ে তাকাল। “চিনি ছাড়া লেবু-চা? আপনিও?”
“রাতে স্ট্রেস কমাতে এটাই আমার অভ্যাস,” জেরিন হাসল। “পরশু রাতে অ্যাক্সিডেন্টের পরও এটাই বানিয়েছিলাম।”
“আমিও। ঠিক রাত দুটোয়।”
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। রাতের অন্ধকারে সাঙ্গুর সেই গর্জন আর পরশু রাতের আগ্রাবাদের বৃষ্টির শব্দ যেন একাকার হয়ে যাচ্ছিল।
“আজ যদি মিথিলার জন্মদিন না হতো...” জেরিন কথাটা শেষ করল না।
“...তাহলে হয়তো কোনোদিনই জানতাম না, এই মহাবিশ্বে আমরা কেউ একা ছিলাম না,” শাহরিয়ার বাকিটা বলে দিল।
জেরিন হেসে ফেলল। দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর জেরিন হালকা হেসে বলল, "ডায়েরিটা এখনো আছে?"
শাহরিয়ার কিছু বলল না, শুধু মৃদু হাসল।
দূর থেকে দুজনকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখল মিথিলা। নিজের মনেই ভাবল, আমরা কতজনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাই, কতজনের গল্প কানে আসে, অথচ কখনো থেমে শুনি না। শুনলেই হয়তো বোঝা যেত, আমাদের জীবনগুলো একে অপরের সাথে কতটা জড়িয়ে আছে।
টেবিলে জন্মদিনের কেক তখনো অর্ধেক পড়ে আছে। কিন্তু ঘরের ভেতর একটা নতুন গল্প ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে, ধীরে, নিঃশব্দে, ঠিক যেভাবে ভালো গল্পগুলো শুরু হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

