somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক সময় আমরা সবাই ফড়িং ছিলাম

১১ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বেলায় আব্বা খুব মারত, একটু দেরি করে বাসায় ঢুকলেই শুরু হয়ে যেত বাপের বেধম মার, বাবা-মায়ের একগাদা রেস্টিকশানে ঘেরা সাথে বাপের মাইর আমাকে অস্থির করে তুলতো, নিজেকে খাঁচার বন্দী প্রানীর মত লাগত, প্রায় সময়ই মনে হত বাসা ছেড়ে পালাই কিন্তু সেখানেও ভয় কাজ করত। মনে হত কোন ভাবে যদি আমাকে খুঁজে পায় তাহলে তো বাপে মাইরা কিছু রাখবোনা, হাড্ডি-গুড্ডি এক কইরা ফালাইবো। একদিকে আমার বয়ঃসন্ধি অন্যদিকে বাপের মাইর আর মায়ের সবসময় বিপদজনক সংকেত আমাকে পাগল করে তুলতো, প্রচন্ড মানসিক চাপে ভুগতাম। তখন মনে হত বড় হয়ে বাপের মাইরের প্রতিশোধ নিমু।

ছোট ছিলাম তাই অনেক কিছু পর্দার আঁড়ালে পরে থাকত। মানসিক শান্তির আশায় প্রায় সময়ই বন্ধুরা মিলে ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে স্কুলের পাশে থাকা এক খালার দোকানের পেছনে গিয়ে টিট্টট্টট্টট্ট পান করতাম, আর মাসে এক দুইটা হলে গিয়ে ছবি দেখা সেটা তো ছিল ঐ বয়সের সবচেয়ে আকাংখিত এবং আকর্ষণীয় বিষয়। প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য সকল ব্যবস্থা সাথেই থাকত- যেমনঃ ব্যাগের মধ্যে সবসময়ই একটা বাড়তি জামা রাখা, (কারন স্কুল ড্রেস পরে সিনেমা হলে ঢুকতে দিতনা), যখন-তখন টাকা ধার করার জন্য এক বড় ভাইকে হাত করে রাখা, সিনেমা হলের কাউন্টার ম্যানের মোবাইল নাম্বার রাখা (কখন কি ছবি চলছে খবরটা রাখতে হত, টাকাটা উঠবে কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন স্বাপেক্ষ বিষয়)। সেই সাথে অদ্ভূত ভাবে ম্যাডামদের প্রেমে পড়া, তাদের নিয়ে নানান চিন্তা ভাবনা করাটা মনে হয় বয়সের দাবীই ছিল। বাবা-মার চোঁখকে ফাঁকি দেয়াই ছিল তখন প্রধান বিষয়। আসতে আসতে মিথ্যা বলা ও অনেক কিছুই গোপন করতে শিখলাম। দূরত্ব তৈরি হতে লাগল পরিবারের সাথে এবং ক্লোজনেস বাড়তে লাগল বন্ধুদের সাথে। এভাবেই একটা ছেলের জীবন গড়ে ওঠে, স্বাভাবিকভাবেই তারা আড্ডা আর বন্ধু-বান্ধবদের প্রাধান্য বেশি দেয়, অনেকটা সময় ঘরের বাইরে কাটায় বলেই দয়া-মায়া, আবেগ-সেন্সিটিভিটি এসব বিষয় আমাদের খুব কম কাজ করে, আবার কমটুকু অপ্রকাশিত থেকে যায়। আমি প্রায় সময়ই সেই সব বন্ধুদের মিস করি যারা আমার অনেক অপকর্মের নিরাপদ স্বাক্ষী।

আসলে সত্যি বলতে কি, বাবা-মায়ের প্রতি আমার কোন আক্ষেপ নেই। তবে তাদের অত্যাধিক শাসন আর রেস্টিকশান আমার মেধা বিকাশকে কিছুটা অব্যাহত করেছে, প্রতিটা পদে পদে আমাকে ভীত করে তুলেছে, এখন বুঝি তখনকার সময়ে বাবা-মায়ের রেস্টিকশানের কারন এবং কম বেশির পরিমাপটাও করতে পারি। শাসন টা একটু বেশি ই ছিল, হয়তো একটু কম হলে এখন আরেকটু সাহসী থাকতাম, জীবনবোধ টা আরেকটু আগেই বুঝতাম।

এই লেখাটার উৎস বলে নেয়াটা জরুরী মনে করছিঃ
মুভি #ফড়িং অসাধারন একটা ছবি, যতখন দেখেছি মনে হচ্ছিল আমি আমার শৈশবের চিত্র আমার চোঁখের সামনে দেখছি। শৈশবের প্রতিটা চিত্র আমার চোঁখের সামনে প্রতিফলিত হচ্ছিল। সকল পুরুষ জাতিকে মুভিটা দেখার জন্য অনুরোধ করা হল (তাই বলে মেয়েরা দেখতে পারবেনা এমন কোন কথা নেই)।

লিংকঃ https://www.youtube.com/watch?v=NfhqsQ9rLLk


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×