somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজাউল_করিম
জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পারতখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার!

প্রান পাখি

২১ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৩:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক বনে ছিল এক শিকারী। সেই বনটা ছিল নীরব এবং ভয়ানক। শিকারীর বন্দুকে ছিল একটি মাত্র গুলি। একদা সে একটি ময়না পাখির দেখা পেলো এবং পাখিটা শিকার করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পরলো।
কি এক অজানা মোহে আচ্ছন্ন শিকারী পাখিটা শিকারের আশায় গহীন অরন্যে প্রবেশ করতে থাকলো। অবশেষে দেখা গেলো পাখিটা এমন একটা গাছের ডালে বসা যে গাছটি ছিলো একটি পাহাড়ের শেষ
প্রান্তে এবং ময়না পাখি যে ডালে বসা সেই ডালের নিচে বিশাল খাদ। যদি শিকারী তাকে শিকার করে, ময়না পাখি শিকারীর হাতে ধরা না দিয়ে হারিয়ে যেতে পারে পাহারের খাদে। হতভাগা শিকারী ময়না
পাখির আশায় পাহাড়ের কিনারায় বসে ভেবে ভেবে মরে। বসে বসে পাখির সৌন্দর্য অবলোকন করে, দেখে প্রকৃতির লীলা, পাহাড়ি ঝরনা, আর ভাবতে থাকে পাখিটির নীড় ও পরিবেশ নিয়ে। বেলা গড়াতে
থাকে তবু পাখি শিকার করা হয় না ভয়ে। এ ভয় পাহাড়ী নীরবতা ভেঙ্গে যাওয়ার ভয় না। যাতে বন্য প্রানীরা তাকে আঘাত করবে। এ ভয় পাখিটিকে হারানোর ভয়। যদি পাখিটা শিকারীর বন্দুকের গুলিকে
এড়িয়ে যায়? অথবা যদি হারিয়ে যায় পাহাড়ের নিচে? তবে শিকারীর এই ময়না পাখিটা উড়াউড়ি না করে নম্র ও ভদ্র ভাবে বসে রইলো একই ডালে সারাক্ষন। পাখির এই নম্রতা ও ভদ্রতাই শিকারিকে
বেঁধে দিলো তার ভালোবাসার বেড়াজালে।
বেলা শেষে সন্ধ্যা নামে। অন্ধকার হতে থাকে চারিধার। তখনও মৃদু আলোয় পাখিটা আবছা আবছা দেখা যায়। ভাবনার সাগরে হাবুডুবু খাওয়া শিকারী অনুধাবন করতে পারে যে ময়না পাখি তার কাছ থেকে
হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে তার আত্মার পরিপূরক, হারিয়ে যাচ্ছে তার মনের সম্পূরক সেই সাথে ম্লান হচ্ছে তার এক জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
রাত আরও গভীর হয়। হারিয়ে যায় ময়না পাখি। গভীর অন্ধকারে।
রাতের আঁধার বাড়ার সাথে সাথে পাহাড়ী ঝরনার পানি পতনের শব্দও বাড়তে থাকে। সেই শব্দ ছুটে যায় দিক-দিগন্তে। কিন্তু সেই শব্দ কেউ শুনতে পায় না। এই ঝরনা রয়ে যায় সবার অগোচরে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এআই বিবেচনায় সামুর সেরা ব্লগারগণ

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪১




সামহোয়্যার ইন ব্লগের উল্লেখযোগ্য ২০ ব্লগার
ক্রম ব্লগার যে কারণে উল্লেখযোগ্য
১ রাজীব নূর দীর্ঘ ১৬+ বছর সক্রিয়তা, বিপুল পোস্ট ও মন্তব্য, জীবনঘনিষ্ঠ লেখা
২ চাঁদগাজী/সোনাগাজী রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন যে এসব লাল বদর/বাঙ্গালী পাকিস্তানি (বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে বিকলাঙ্গ) আমাদের সাথে লাগতে আসে?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯



১//@দেশ প্রেমিক বাঙালীঃ

তোমাদের মতো জামায়াতি লাল বদরদের/পাকিস্তানি শারমেয়দের/বরাহ শাবকদের.....

এক বছর রাখতে হবে বেলুচিস্তানে। তাহলে তাদের শৈশব থেকে ধোলাই হওয়া মগজ reset হলে হতেও পারে। reset হলে তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×