somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রেজাউল করিম সাগর
হাড্ডি খিজিরের মত ঠোঁটকাটা হইতে চাই শেষমেশ ওসমান অরফে রঞ্জু হয়াই দিন কাটে। রোগা শালিকের বিবর্ণ ইচ্ছা কী আছিলো সেইটা অনুভব করার খুব শখ আছিলো, জীবনদা তো আর নাই। তার কথা মনে হইলেই শোভনার ব্যর্থ প্রেমিক, লাবণ্যের ব্যার্থ স্বামী মনে হয়।

সেই সময় - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ( পাঠ প্রতিক্রিয়া/বই আলোচনা)

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৯ ভোর ৪:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস 'সেই সময়'-এ সেই আশ্চর্য জাগরণের সময়কে তুলে এনেছেন ২০-২১ শতকের মানুষদের সামনে। ৭০০ পৃষ্ঠার দুইখন্ডের এই সুবিশাল উপন্যাস পড়তে গিয়ে কখনো ক্লান্তি আসবেনা। পড়তে পড়তে আপনার মনে হবে ১৮৪০-১৮৮০ পর্যন্ত চল্লিশ বছরের ঘটনাপ্রবাহ আপনার চোখের সামনেই ঘটছে,নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারবেননা সেই সময় থেকে। বেঙ্গল রেঁনেসা বলতে আমরা যা বুঝি তার সূত্র ধরে এগিয়ে চলে উপন্যাস; ডিরোজিওর শিষ্যদের প্রথা ভাঙার যে বিদ্রোহ শুরু করেছিলেন তার জলজ্যান্ত বিবরণ চোখের সামনে দেখতে পাবেন। রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য, সমাজ, ধর্ম, দর্শন, আইন, সংস্কার, সংস্কৃতি এই প্রত্যেকটি বিষয়েই ভারত উপমহাদেশে এই যুগে জাগরণ এসেছিলো। এই সবগুলো বিষয় নিয়ে ভারতবাসী নতুনভাবে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছিলো। এবং যার কেন্দ্র ছিলো বাংলা তথা সম্মিলিত পূর্ব ও পশ্চিম বাংলা। অনেকগুলো সামাজিক,রাজনৈতিক আন্দোলনের একেবারে চিত্ররূপ বর্ণনা পাবেন বইটিতে। সিপাহী বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, সূর্যাস্ত আইন, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, সতিদাহ প্রথা রোধ, বিধবা বিবাহ আইন পাশ করা এবং বিধবা বিবাহ প্রচলন,বহুবিবাহ রোধ এই সব আন্দোলনকে চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে যেতে দেখবেন যদি বইটিতে চোখ বুলিয়ে যান।যে বিষয়গুলো সম্পর্কে শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য নিতান্ত বাধ্য হয়ে,বর্ণনাটুকু পড়েছেন;কথা দিচ্ছি সেসব বিষয়ই গল্পের ছলে এই উপন্যাসে যেভাবে আনন্দ নিয়ে আপনি পড়বেন, সেভাবে আর কোনদিন পড়েননি।
এখানে আরো পাবেন ব্রাহ্ম সমাজকে, হিন্দু সমাজ তথা ভারতবর্ষের সামাজিক পরিমন্ডলে যার অবদান অনেক। এখানে পাবেন ব্রাহ্ম সমাজের উৎপত্তি, ঝিমিয়ে পরা এবং পরবর্তীতে দেবেন ঠাকুর কর্তৃক এর ক্রমবিকাশ। সমাজ সংস্কারের জন্যও এই সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ; রামমোহন রায়ের চেষ্টায় সতীদাহ প্রথা রোধ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রাণান্তকর সমাজ সংস্কারের চেষ্টা, বিধবা বিবাহ প্রচলন, বহুবিবাহ রোধসহ অনেকগুলো ধর্মীয় সংস্কারমূলক কাজ এবং তার ফলে ভারতবর্ষ তথা বাংলায় সামাজিক জাগরণ যদি চোখের সামনে দেখতে চান ,তবে আজই পড়ে ফেলুন সুনীল গাঙ্গুলীর ' সেই সময়' । বাঙলা গদ্যের নতুন যুগের শুরু, কালিপ্রসন্ন সিংহের "হুতুম প্যাঁচার নকশার" পটভূমিতে আপনারও থাকবে নিরব উপস্থিতি। বাংলা সাহিত্যের গদ্যের ক্রমবিকাশের জন্য সম্ভবত এই সময়টিই সবচেয়ে আলোচিত এবং সবচেয়ে সমাদৃত হয়ে থাকবে। বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন, বঙ্কিমচন্দ্র, প্যাঁরিচাদ মিত্র, কালিপ্রসন্ন সিংহ, দীনবন্ধু মিত্র এই নামগুলোর কাছে বাংলা গদ্যসাহিত্য চিরদিন ঋণী থাকবে। বইটি পড়তে পড়তে আপনার মনে হবে এই মানুষদের একেবারে চোখের সামনেই দেখছেন। মাইকেল মধূসুদনের কলেজজীবন, কাব্যসাধনা, দেশত্যাগ, ছন্নছাড়া জীবনের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে একজন আধুনিক কবির আবির্ভাব পর্যবেক্ষণ করবেন।
এছাড়াও রবীন্দ্রনাথের আবির্ভাবের প্রস্তুতিপর্ব পাবেন এখানে,যে রবীন্দ্রনাথকে "প্রথম আলো" উপন্যাসটিতে পাবেন জ্বলন্ত রবি হিসেবে।
এককথায় আর কিছু নাও যদি লিখতেন,তবু শুধু অসাধারণ এই উপন্যাসটি লেখার জন্য সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় একইরকম জনপ্রিয় হতে পারতেন।।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৯ ভোর ৪:৪৫
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্রেফ 'জিন্নাহকে স্মরণ আর বঙ্গবন্ধুকে গালি' রাজাকারি মানসিকতারই উদাহরণ

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



ভারতীয় উপমহাদেশের জাতিসত্তাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন নেতা হিসেবে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি কেউ 'যৌক্তিক' বা তাঁর 'প্রাপ্য' সম্মানটুকু জানাতেই পারেন; তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু, যখন সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×