বিশ্ব জুড়ে ইসলামি মৌলবাদের এমন রমরমা বাজার কেন ? এর মূল সূত্র হলো, বিশ্বায়ন এবং সংস্কৃতির সাযুজ্য বিধান ও একাকীত্বকরণের নামে পশ্চিমা বিশ্ব যেভাবে আধিপত্য চালিয়ে যাচ্ছে, তারই উল্টো দিকে মৌলবাদী চিন্তার সামাজিকীকরণ হয়েছে বহুল পরিমাণে। একটা সময় এমন ছিল যে, অর্ধশিক্ষিত গ্রাম্য মোল্লা শ্রেণির লোকদের একটা অংশ ছিল মৌলবাদী ধ্যান-ধারণার প্রবক্তা। কিন্তু গত ২৫/৩০ বছরে মৌলবাদীদের সামাজিক ভিত্তি বহুদূর বিস্তার লাভ করেছে।শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণি বিশেষ করে ছাত্র-যুবরা পশ্চিমা ধাঁচের আধুনিকতা গ্রহণে বেশি আগ্রহী ছিল। কিন্তু এখন তার বিস্তর পরিবর্তন হয়েছে। উচ্চশিক্ষিত ছাত্র-যুব সম্প্রদায়, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি বড়ো অংশ আজ মৌলবাদের চালিকা শক্তি। অতীতে মৌলবাদী সংগঠনগুলো কদাচিত্ মিছিল-সমাবেশ করতো। মিছিল-সমাবেশে যাদের বয়স যৌবন অতিক্রম করেছিল, তাদের উপস্থিতির প্রাধান্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে ঐ মিছিল-মিটিং এর অবয়ব আর গভীরতা দুই-ই পাল্টে গেছে। নতুন নতুন মুখের ছাত্র-যুবক তাতে অংশীদার। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের সংগঠনের ব্যাপ্তি বাড়ছে। যে কোনো বিপ্লবী আন্দোলনের মতো এখানেও মূল সংগঠকরা শুধুমাত্র মাদ্রাসায় শিক্ষিতরা নয়। ভালো ভালো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীরা এর নেতৃত্বে অগ্রগামী। এদের নেতৃত্বের অর্ধেকের বেশি এসেছে এলিট কলেজগুলো থেকে অথবা বিদ্যাবুদ্ধির সবচেয়ে বেশি দাবিদার যেসব জায়গা, সেই কারিগরি শিক্ষা প্রযুক্তির প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। অনেকে আবার চিকিত্সাবিদ্যা ও ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার ছাত্র ও শিক্ষক।এদের ৭০ শতাংশেরও বেশিরভাগ হল মধ্যবিত্তের সন্তান। গরিব নয়, অথচ সচ্ছলও নয়। এমন অনেক পরিবারের সন্তান, যারা এ প্রজন্মেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেল। এ ধরনের লোকের সংখ্যাও এদের সংগঠনে ব্যাপক। তারা ছোট বেলায় মফস্বলে কাটালেও বড় হয়ে বিরাট শহরে পা রাখছে। সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও উচ্চ শিক্ষিত তরুণরা (সমগ্র জনসংখ্যায় তাদের অংশ খুবই কম কিন্তু তুলনামূলক বিচারে তারাই) অত্যধিক হারে মৌলবাদীদের সাথে যোগ দিয়েছে। সব মিলিয়ে মৌলবাদীদের সামাজিক অংশ নানাভাবে শক্তিশালী হচ্ছে।
অতিরিক্ত আগ্রাসনবাদ মৌলবাদীদের দর্শনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। বিশ্বায়ন কর্তাদের সঙ্গে তাদের এক্ষেত্রে যথেষ্ট মিল আছে ।
অন্যদিকে বিশ্বায়ন কর্তারা মানে পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠী আমাদের দেশকে উদার মুসলিম দেশ বলে মূলতঃ সাম্প্রদায়িক ও উগ্র মৌবলবাদী কাজকে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে। মোটকথা, সাম্রাজ্যবাদ বিশ্বে চরম আধিপত্যবাদ ছড়িয়ে দেবার জন্য আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে এগিয়ে চলেছে। সে চলার পথে বিশ্বায়ন, মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ-সবগুলোই এক একটি সাম্রাজ্যবাদী হাতিয়ার। এদের আক্রমণ কখনো জোটবদ্ধভাবে, আবার কখনো সময় বিশেষে আলাদা আলাদা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




