টম মুডির মুডটা এবার যদি একটু ভালো হয়! বাংলাদেশে পা রাখার পর থেকে শ্রীলঙ্কান কোচের মুখে হাসি দেখা 'ডুমুরের ফুল'য়ের মতো দুষপ্রাপ্য হয়ে উঠেছে। প্রথমে ব্যসত্দ সফরসূচী ও ভ্রমণজনিত কানত্দি তার হাসি কেড়ে নিয়েছিলো। পরে যোগ হয় দলের ভালো না খেলা। বাংলাদেশের বিপ েসিরিজে 1-1 থাকা অবস্থায় আর যাই হোক ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সাজে না। কিন্তু সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে জিতে কোচের মুখের হাসি ফিরিয়ে দিলো মাহেলা জয়াবর্ধনের দল। 78 রানের বড় জয় দিয়ে 2-1 ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছে লঙ্কানরা। ফলে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামের অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশের প্রাপ্তি লড়াই করে হারার মধ্যেই আটকে থাকলো। স্বপ্নের সিরিজ জয় এ যাত্রা অধরাই রয়ে গেলো।
অথচ টস জয়ে হ্যাটট্রিকের সাফল্য নিয়ে দিনটা শুরু করেছিলেন স্বাগতিক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। উইকেটের সতেজতা কাজে লাগাতে আগের ম্যাচের মতো বোলারদের হাতে বল তুলে দেন তিনি। সফরকারী দলের প্রথম 5 ওভারে মাত্র 5 রান, 10 ওভারে 22 আর 15 ওভারে 41 রান তোলাই বলে দেয় উইকেটের সজীবতা ভালোই কাজে লাগিয়েছিলো মাশরাফি-রাসেলরা। আর ওই 41 রান তুলতে দুই ওপেনার উপল থারাঙ্গা (0) আর ডেঞ্জারম্যান সনাৎ জয়াসুরিয়াকে (4) ফেরত পাঠিয়ে দেয় বাংলাদেশ। স্বপ্নের মতো প্রথম স্পেলে 6 ওভার বল করে মাত্র 9 রানের বিনিময়ে দুটি উইকেটই নেন দেশ সেরা পেসার মাশরাফি মতর্ুজা। প্রথম স্পেলে ঠিক যতোটা বিধ্বোংসী ছিলেন মাশরাফি পরের স্পেলে ততোটাই বাজে বল করেন তিনি। পরের 4 ওভারে 62 রান দেয়ায় তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় 10-2-71-2! 24.3 ওভারে 100 রান করা শ্রীলঙ্কা দল 50 ওভার শেষে গড়ে তোলে 309 রানের এক পাহাড়সম পুঁিজ। শেষ 10 ওভারে তারা তোলে 114 রান! ম্যাচটা আসলে এখানেই হেরে যায় বাংলাদেশ। ফলে বোঝাই যাচ্ছে শুধু মাশরাফি নয় ইনিংসের শেষদিকে বাজে বল করেছেন সবাই।
সে হিসাবে একরকম হেরে থেকেই ব্যাট করত নামে স্বাগতিক দল। এখানে মোহাম্মদ আশরাফুলের 64 রান আর তার সঙ্গে জুটি বেঁধে অধিনায়ক সুমনের 86 রানের পার্টনারশিপ ছাড়া বলার মতো আর কিছু নেই। শেষ দিকে মাত্র 7 বলে 2 ছক্কা আর 1 বাউন্ডারিতে 19 রান করে মাশরাফি শুধু দর্শকদের বিনোদন বাড়িয়েছেন। তবে সেটা শুধু হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। এর আগে 17 রানে দুই ওপেনারকে হারানো শ্রীলঙ্কা ঘুঁরে দাঁড়ায় তাদের অধিনায়ক আর সহ অধিনায়কের পার্টনারশিপে। 51 রান করে মোহাম্মদ রফিকের বলে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে মাহেলা জয়াবর্ধনে 75 রানের পার্টনারশিপ ভেঙ্গে যায়। তবে মাহেলার ডেপুটি সাঙ্গাকারা ফিরেছেন তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের 5ম সেঞ্চুরী করে। 80 বলে প্রথম ফিফটি করা এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান তার পরের ফিফটি করেন মাত্র 37 বলে! শেষপর্যনত্দ 125 বলে 109 রান করে রফিকের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। কিন্তু ততোনে লঙ্কানদের নিরাপদ অবস্থানে নিয়ে গেছেন সাঙ্গাকারা। এখানে তাকে দুর্ধানত্দ সমর্থন দিয়েছেন সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা লেগস্পিনার কাম ব্যাটসম্যান লোকুরাচ্চি। প্রথমে ব্যাট হাতে 57 বলে 69 করার পর বল হতেও 2 উইকেট নেন 52 রান দিয়ে। ফলে 'ম্যান অব দ্য ম্যাচ'এর দাবীদার ছিলেন তিনিও। যদিও চাপের মুখে সেঞ্চুরী করে দলকে শক্ত অবস্থানে নেয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ম্যাচ সেরা পুরষ্কার দেয়া হয়েছে সাঙ্গাকারাকে।
আগে দুবার সিরিজ 1-1 করেও শেষ ম্যাচে গিয়ে শিরোপার দাবী ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। একবার ভারত ও আরেকবার জিম্বাবুয়ের বিপ।ে সিরিজ জয়ের সম্ভাবণা তৈরী করে শেষপর্যনত্দ হেরে যাওয়ার রেকর্ড সংখ্যা বেড়ে হলো তিন। তবু ভালো ধীরে ধীরে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে সম্ভাবণা তৈরী তো করছে। সম্ভাবণা তৈরী করতে করতেই তো একসময় আসবে জয়। এবং সেটা নিয়মিতভাবে.........
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



