somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামারাবীরার লড়াইয়ে লঙ্কানদের ম্যাচে ফেরা

০১ লা মার্চ, ২০০৬ সকাল ৮:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টেস্টে ব্যাটসম্যানদের হতে হয় 'জোঁক'য়ের মতো! দলের প্রয়োজন বুঝে উইকেট আঁকড়ে পড়ে থাকাটাই ব্যবধান গড়ে দেয় দুদলের মধ্যে। ঠিক 'জোঁক' যেভাবে মাংষ কামড়ে বসে থেকে শুষে নেয় রক্ত! তুলনা করতে গিয়ে এমন কদাকার একটি প্রাণীকে বেছে নেয়া ঠিক হচ্ছে কিনা সেটা নিয়ে বির্তক হতে পারে। কিন্তু থিলান সামারাবীরার ইনিংস দেখে থাকলে 'জোঁক'য়ের কথা মনে পড়তে বাধ্য! এবং 'হাবিবুলদের ঘুম হারাম করতে জোঁক'টা যে এখনো জীবিত! তিনি অপরাজিত আছেন 57 রানে। সামারাবীরার কাছে যে অনেক কিছু শেখার আছে হাবিবুল-নাফিসদের।
178 রানে 5 উইকেট হারানো দলটা যে দ্বিতীয় দিন শেষে লিড নেয়ার অপোয় তার মূল কৃতিত্ব এই মিডলঅর্ডারের। অনেকে বলতে পারেন ফারভিজ মাহরুফের কথা। রান করার দিক থেকে মাহরুফ (72) এগিয়ে থাকলেও 'এ্যাঙ্কর' রোলটা কিন্তু প্লে করেছেন সামারবীরা। আর আক্রমনটা করিয়েছেন মাহরুফকে দিয়ে। তাইতো দিনশেষে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে হাসি হাসি মুখে বলতে পারলেন, ' সার্বিক পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট।' খুশি না হওয়ার তো কোন কারন নেই। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের 319 রানের জবাবে লিড নেয়ার আশাই যে ছেড়ে দিয়েছিলেন মাহেলা। কি বলছেন তিনি শুনুন, ' 5 উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তো ভেবেছিলাম 250 হবে। কিন্তু এখন তো 350-এর বেশী আশা করছি। আসলে 275 রানের পর যা এসেছে সেটাকে বোনাস হিসাবে ধরছি আমরা। সামারাবীরা আর মাহরুফের পার্টনারশিপ ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে আমাদের। দারুণ ব্যাট করেছে ওরা দুজন। পরিস্থিতি সামলে নিতে দতার পরিচয় দিয়েছেন দুজনই।' হতাশার কথাও যে শোনালেন না তা নয়,' দলের টপঅর্ডার প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেনি। এমন ব্যাটিং উইকেটে তাদের আরো ভালো করা উচিত ছিলো।'
বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে স্বাগতিক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার। দিনশেষে যতোটা খুশি হওয়ার কথা ছিলো তা হতে পারছেন না তিনি। কারণ 4 উইকেট হাতে রেখে প্রতিপ যে মাত্র 6 রান দূরে। সে হিসাবে ম্যাচে তো সফরকারীরাই সুবিধাজনক অবস্থানে। তাইতো তাকে মিশ্র অনুভূতি জানাতে হলো, ' দিনটা খুব ভালোও যায়নি, আবার খুব খারাপও না। ল্য ছিলো ওদেরকে 319 এর নিচে অলআউট করা। আর যদি না করা যায় তো যতোটা সম্ভব দেরী করানো।' কিন্তু শ্রীলঙ্কার 319 রান টপকানো তো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাহলে নতুন টার্গেট কি? হাবিবুল জানালেন,' ম্যাচে টিকে থাকতে হলে ওদেরকে 350 এর ভিতর আটকে রাখতে হবে। তবে তার চেয়েও বড় কথা দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ব্যাট করতে হবে আমাদের। একটা ভালো টার্গেট দাঁড় করাতে পারলে রেজাল্ট আমাদের প েআসতে পারে। কারণ এই উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা কঠিন হবে।'
6ষ্ঠ উইকেট জুটিতে সামারাবীরা-মাহরুফের 117 রানের পার্টনারশিপ নিয়ে হাবিবুল বাশারও হতাশ, ' ওদের শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান দিলশান চলে যাওয়ার পর আমরা আরো ভালো কিছু করার আশা করেছিলাম। কিন্তু ওই পার্টনারশিপটা হতাশ করলো আমাদের। কিছু করারও ছিলো না। সামারাবীরা খুব ভালো ব্যাটসম্যান। শুধু আমাদের বিপইে না, অন্যান্য দেশের বিপওে ওর রেকর্ড ভালো।' ক্রিকইনফো ঘেঁটে হাবিবুলের কথার সত্যতা মিললো। চট্টগ্রাম টেস্টের আগে খেলা 33 টেস্টে 46.42 গড়ে সামারাবীরার রান 1857। তবে উইকেটের আচরনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বেশ বিস্মিত,' সকালে তো বেশ টার্ন ছিলো। অথচ দিনেন শেষভাগে যখন আরো বেশী বল ঘোরার কথা তখন তা হলো না। আসলেই ব্যাপারটা অবাক হওয়ার মতো।' তবে একই বিষয়ে জয়াবর্ধনের মতটা একটু ভিন্ন,' উইকেটে টার্ন তো হচ্ছে প্রথম দিন থেকেই। তবে সেটা উল্লেখযোগ্য কিছু না, আগামীকাল (আজ) বিকাল থেকে টার্নটা বাড়তে পারে।' প্রথম ইনিংসে মুত্তিয়া মুরালিধরন প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে না পারলেও বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে তাকে খেলাই হবে মূল হুমকী। তবে মালিঙ্গা বান্দারার কথাও ভুলে গেলে চলবে না। উইকেট বলছে স্পিনারদের হাতেই থাকবে ম্যাচের লাগাম!
প্রথম ইনিংসে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা মুরালিকে ভালোই সামলেছেন। এটা কি দ্বিতীয় ইনিংসে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে তাদেরকে? হাবিবুল একমত হয়ে বললেন,' হ্যাঁ, ব্যাটসম্যানদের ভয়টা কেটে গেছে। কিন্তু প্রথম ইনিংসে আশরাফুল ছাড়া দলের 3/4 জন ( হাবিবুল নিজে সহ) উইকেটে সেট হয়ে আউট হয়েছি। এটা খুবই হতাশার। এক অর্থে তো এটা ক্রাইম।'
ক্রাইম যে করে তাকে বলে ক্রিমিনাল। আর ক্রিমিনাল হয় দুই ধরনের। একদল অপরাধ বুঝতে পেরে দ্রতি সেটা শুধরে নেয়। আর আরেক দল বিকারহীনভাবে চালিয়ে যায় ক্রাইম। অতীত বলছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পপাতটা দ্বিতীয় দলের দিকেই। এবার কি তার ব্যতিক্রম হবে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×