somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবার সামনে কেনিয়া...

১৭ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গলায় শক্ত কোন খাবার বেঁধে গেলে পানি খেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়! কিন্তু সেই সঙ্গে তৈরী হয় পানি খেতে গিয়ে বিষম লাগার শঙ্কা! এবং সেটা হলে বিপদ কিন্তু আরো বেশী! সেই বিষম খাওয়ার ভয়টা শেষপর্যনত্দ থেকেই যাচ্ছে! টিকোলো-ওটিয়েনোদের পরিসংখ্যানে চোখ বুলালে সেই শঙ্কা উঁকি দিতে বাধ্য। কেনিয়ার বিপ েসিরিজ থেকে বাংলাদেশের যতোটা না পাওয়ার আছে তার চেয়ে বেশী থাকছে হারানোর ভয়। ফেবারিট হওয়ার এই তো জ্বালা!
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যসব প্রতিপকে শক্ত খাবারের সঙ্গে তুলনা করা হলে কেনিয়ার অবস্থা ওই পানির মতো! কিন্তু সেই সহজ প্রতিপরে বিপ েবাংলাদেশের রেকর্ড জানলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। 7 বারের মুখোমুখিতে সফরকারীরা 6-1 ব্যবধানে এগিয়ে! সে কারনেই আসছে পানি গলায় বেঁধে বিষম খাওয়ার কথাটা। কেনিয়ার সঙ্গে হোঁচট খাবে নাতো বাংলাদেশ? প্রশ্ন আছে আরো। রেকর্ড প েথাকার পরও কেন ওরা নিজেদের 'আন্ডারডগ' ভাবছে? হতে পারে এটা স্টিভ টিকোলোর একটা স্ট্র্যাটেজি। কিন্তু বাংলাদেশ শিবির যে অতীত রেকর্ড জানা থাকার পরও নিজেদের 'ফেবারিট' দাবী করছে। সেই সঙ্গে কোচ-অধিনায়ক মিলিতস্বরে ঘোষনা দিচ্ছেন,' 4-0 তে সিরিজ জিততে চাই আমরা।' হারানোর ভয়টা এখানেই! প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তিযোগ মেলাটা কঠিনই বটে। সেই বিবেচনায় এই সিরিজটা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ, একই সঙ্গে কঠিনও!
ঘুরেফিরে ভয়ের কথাটা বেশী বেশী আসছে, কারণ এরআগে একবারই 'ফেবারিট' হিসাবে কোন সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপ েগতবছরের সেই ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুইম্যাচ হেরে বাংলাদেশ কিন্তু চাপে পড়ে যায়! সিরিজ 5 ম্যাচের হওয়ায় পরের 3 ওয়ানডে জেতায় শিরোপা ওঠে হাবিবুল বাশারের হাতে। এবার তেমন চাপে পড়লে কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে না। কারণ বাংলাদেশ-কেনিয়া সিরিজ যে 4 ম্যাচের। ফলে সিরিজের প্রথম ম্যাচটা দুদলের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। বগুড়ায় আজকের প্রথম ওয়ানডে জিতে সুবিধাজনক অবস্থায় যেতে আত্মবিশ্বাসী দু শিবিরই। আর বগুড়াবাসীর সামনে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আরেকবার উৎসবে মাতার সম্ভাবনা। তবে শর্ত একটাই! বাংলাদেশের জয়!
আশঙ্কার কথার এখানেই শেষ নয়, আছে আরো একটা! অতীত ঘাটলে দেখা যায় প্রতিপরে কোন একজনকে নিয়ে বেশী ভেবে বাংলাদেশ আত্মসমর্পন করে অন্য কারো কাছে। এই যেমন এবার মাতামাতিটা হচ্ছে টিকোলোকে নিয়ে। তাকে কিভাবে সামলানো হবে এনিয়ে ব্যাপক গবেষনা চারদিকে। অথচ অনেকেই জানেন না কেনিয়ার এই দলটিতে এমন একজন আছেন যে কিনা বাংলাদেশের বিপ েটিকোলোর চেয়েও বেশী সফল। বিস্ময়কর শোনালেও এটাই সত্য। পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশের বিপ ে7 ম্যাচে 40.1 গড়ে টিকোলো করেছেন 243 রান। অন্যদিকে ওপেনার কেনেডি ওটিয়েনো সমান সংখ্যক ম্যাচে 56.7 গড়ে করেছেন 340 রান! সেঞ্চুরী করার দিক থেকেও ওটিয়েনো এগিয়ে। বাংলাদেশের বিপ েটিকোলো তিন অঙ্কে রান করেছেন মাত্র একবার। অন্যদিকে ওটিয়েনো সেঞ্চুরী করেছেন 2 টা। পরিসংখ্যানটা মাশরাফি-রাসেলদের জানাটা খুব জরুরী। তাই ওটিয়েনো থেকে সাবধান!
ম্যাচের আগের দিন দুদলই শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ঘন্টা তিনেক প্র্যাকটিস করেছে। তবে প্র্যাকটিসশেষে কেনিয়ানদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বৃত্ত তৈরী করে মিনিট পনের'র টিমমিটিং ওদের বাড়তি সিরিয়াসনেসের প্রমান দিচ্ছিল। ততোনে বাংলাদেশ দল ফিরে গেছে হোটেলে। যাওয়ার আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের কাছে জানতে চাওয়া ছিলো, রেকর্ড বিপ েথাকার পরও কেন বাংলাদেশ ফেবারিট? ছোট কোন বাচ্চার কাছে যদি জানতে চাওয়া হয় তোমাকে কে বেশী ভালবাসে বাবা নাকি মা, তাহলে সে যেমন কাউকেই নিরষ্কুশ সমর্থন দেয় না তেমনি সুমনের কুটনৈতিক জবাব,' অতীত ফলাফলে ওরা আর বর্তমান ফর্ম বিচারে আমরা ফেবারিট।' স্বাগতিক অধিনায়ক যখন ফেবারিট বিচারে দু'দলকে সমান সমান রাখছেন তখন বাংলাদেশকে বারবার কেন এগিয়ে রাখার কথা হচ্ছে? কারণ আর কিছুই নয়, টিকোলোর সরল স্বীকারক্তি! ঢাকায় পা রাখার পর থেকে যে কথা বলে যাচ্ছেন সেটা কালও নতুন করে বললেন কেনিয়ান অধিনায়ক,' সিরিজে বাংলাদেশই ফেবারিট। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তোলা এবং ভালো ক্রিকেট উপহার দেয়া।' আরো বললেন,' সিরিজটা কঠিন হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে নিজের দলের তুলনায় যেতে চাই না। নিকট অতীতে আমরা বেশী ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। ফলে দলের সবার মধ্যেই নিজেদের প্রমানের চেষ্টা থাকবে।' কিছু সময় আগে একই জায়গায় বসে স্বাগতিক অধিনায়ক বলে গেলেন,' কেনিয়া খুব ভালো দল। যারা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে উঠতে পারে তারা অবশ্যই ভালো দল। আমাদের টার্গেট 4-0 তে সিরিজ জেতা। কিন্তু আপাতত সেসব নিয়ে ভাবছি না। ভাবনা শুধু কালকের (আজ) ম্যাচ নিয়ে।'
ইদানিং বাংলাদেশ একাদশ ঘোষনার বদলে 12 জনের দল জানিয়ে দেয়। তবে সেটা থেকে একাদশ বের করতে খুব বেশী গবেষনার প্রয়োজন হয় না। এই যেমন আজকের ম্যাচে 14 জনের দল থেকে বাইরে থাকছেন মানজারুল রানা আর শাহাদত হোসেন রাজিব। দুই পেসার মাশরাফি মতর্ুজা আর সৈয়দ রাসেলের পাশে দুই স্পিনার মোহাম্মদ রফিক আর রাজ্জাক রাজ। সঙ্গে আফতাব আহমেদের মিডিয়াম পেস আর অলোক কাপালির লেগস্পিন বৈচিত্র্য বাড়াবে। ব্যাটিংয়ে একে একে জাভেদ ওমর, শাহরিয়ার নাফিস, হাবিবুল বাশার, মোহাম্মদ আশরাফুলরা আসবেন। এতে করে আবারো দ্বাদশ ব্যক্তি রাজিন সালেহ'র হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তবে কেনিয়া তাদের একাদশ সকালে ঠিক করবে শেষবার উইকেট দেখে। তবে গতকাল যতোটুকু দেখেছেন তাতে কিছুটা হলেও হতাশ টিকোলো। কারণ উইকেট অতিরিক্ত স্লো মনে হয়েছে তার কাছে। কিউরেটরের সঙ্গে কথা বলেও তেমন আভাস মিলেছে। আর সে কারনেই দলে রাজকে নেয়া।
তবে এতো সব ব্যাখ্যার পরও বাংলাদেশকে ঠিক 'ফেবারিট' মানতে রাজী নন অনেকে। তারা বরং সুমনের মতো সম্ভাবনা 'ফিফটি ফিটটি'র মধ্যে আটকে রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তাহলে কেন 'ফেবারিট'এর চাপটা নিতে যাওয়া? এখানে আসছে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের কথা। এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশ তো অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে। তাহলে কেনিয়াকে পারবে না কেন? এভাবে ভাবলে হাবিবুলের দল ষ্পষ্ট ফেবারিট। আবার 'হেড টু হেড' কিংবা দু'দলের ওয়ানডের সার্বিক রেকর্ড দেখলে আবার উল্টোটা ঘটবে। কারণ 71 ওয়ানডে খেলে কেনিয়ার জয় যেখানে 15টি, সেখানে 118 ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ জিতেছে 11টি ম্যাচ। ফলে সিরিজে কে ফেবারিট, সেটা 'মিসির আলীর অমিমাংসিত রহস্য'র মতোই রহস্যাবৃত! সিরিজ শেষ হলে হয়তো তার জট খুলবে! আবার নাও খুলতে পারে। কারণ 4 ম্যাচের সিরিজ হওয়ার 2-2 হওয়ার সম্ভাবনা তো থেকেই যায়। তেমন কিছু হলে স্বাগতিকদের জন্য সেটা হবে সিরিজ হেরে যাওয়ার সমতুল্য!
মিসির আলী কখনো কোন রহস্যের চুড়ানত্দ সমাধান না দিলেও এখানে সমাধান হওয়াটা খুব জরুরী। এখন সেটা বাংলাদেশের প েগেলেই হয়! আর বাংলাদেশ অধিনায়ক যতোই বলুন চিনত্দা আছে তবে দুশ্চিতা নেই, দুশ্চিন্তুা কিছুটা থাকছেই!!

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×