বাংলাদেশ 50 ওভারে 301/7 (শাহরিয়ার 91, আফতাব 62)
কেনিয়া 48.1 ওভারে 170/10 (মিশ্রা 43)
ফলাফল বাংলাদেশ 131 রানে জয়ী।
'রয়েল বেঙ্গল টাইগার'এর আবাসভূমি সুন্দরবনে পর্যনত্দ ওদের ডাক শুনতে পাওয়া সৌভাগ্যের (নাকি দূর্ভাগ্য) ব্যাপার! তবে তেমন ভাগ্য বরণ করতে চান না কেউই। কারণ সেই স্মৃতি অন্যদের বলার সুযোগ খুব কম লোকের কপালে জোটে! বাঘের গর্জন শোনার পর অধিকাংশই যে হয়ে যান পরপারের বাসিন্দা। তবে কয়েকদিনের ব্যবধানে বগুড়াবাসী দুবার শুনলো বাঘের গর্জন! আর নিজেরাও মাথায় বেঁধে নিলো সিরিজ স্পন্সর বাংলালিংকের ডোরাকাটা স্কার্ফ! ফলে গ্যালারীতেও ছিলো বাঘের উপস্থিতি। এই বগুড়াতেই কিছুদিন আগে বেঙ্গল টাইগারদের সামনে আত্মসমর্পন করে শ্রীলঙ্কা। সেই স্মৃতি ভোলার সুযোগ না দিয়ে গতকাল কেনিয়াও হেরে গেলো বাংলাদেশের কাছে। তবে ওদের আত্মসমর্পনের আগে অসহায় শব্দটা যোগ করতে হবে! হারের ব্যবধানটা যে 131 রানের!
পরিসংখ্যানটা তাই আজ শিকেয় তুলে রাখাই ভালো! ভুলে যান আগের 7 মুখোমুখিতে কেনিয়ার বিপ েবাংলাদেশের 6 হারের কথা। গতকালের জয় শুধু ব্যবধানই কমায়নি, রেকর্ডবুকে এনেছে অনেক সংশোধন। অনেককিছু লেখা হয়েছে নতুন করে। তারপরও এই জয় আগের জয়গুলোর মতো মানুষকে রাসত্দায় টেনে আনতে পারেনি। কারণ কেনিয়ার সঙ্গে তো বাংলাদেশের জেতারই কথা! কিন্তু সেই জয়টা যেভাবে এসেছে তাতে এখন আর কেনিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার ঘোষণা স্বাগতিক কোচ-অধিনায়কের দ্বম্ভ বলে মনে হচ্ছে না। কেনিয়া যে এই মুহুর্তে বাংলাদেশের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে সেটা বোঝা গেছে কাল। নিজেরা আত্মতুষ্টিতে ভূঁগে কপাল না পোড়ালে সিরিজ ফল 4-0 হতেই পারে! তবে আপাতত খবর এই জয় দিয়ে সিরিজে 1-0 তে এগিয়ে গেলো হাবিবুল বাশারের দল।
ওয়ানডেতে এই প্রথম তিনশ'র উপর রান করলো বাংলাদেশ। বলাই বাহুল্য এটা সবের্াচ্চ দলীয় স্কোর। হারের ব্যবধানের দিক থেকে এটা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে গত এশিয়া কাপে 116 রানে তারা হংকংকে হারিয়েছিলো। বাংলাদেশের ইনিংস শেষ না হয়ে গেলে মাশরাফি বিন মুর্তজা ছুঁয়ে ফেলতে পারতেন সবচেয়ে কম বলে ফিফটি করার রেকর্ডটা। বেচারা মাশরাফি বাংলাদেশ ইনিংস শেষে অপরাজিত থাকলেন 44 রানে। ওই রান করতে বল খেলেছেন মাত্র 16টি! 5 বাউন্ডারি আর 3 ছক্কার ওই ইনিংস কতোটা বিভৎস (কেনিয়ার জন্য) ছিলো বোঝাই যাচ্ছে। ইনিংসের 50 ওম ওভারে অনগন্ডোকে 2 ছক্কা আর 2 বাউন্ডারির মাধ্যমে তুলে নেন 23 রান! ফলে দলীয় রান তিনশ পার করার কৃতিত্বটা একানত্দই মাশরাফির। কাল তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্যাটসম্যানদের চেয়েও বড় ব্যাটসম্যান। আর একটা বল পেলে না জানি সবচেয়ে কম বলে হাফ সেঞ্চুরীর রেকর্ডটা ছুঁয়ে ফেলতেন মাশরাফি। 17 বলে করা সবচেয়ে কম বলে ফিফটির রেকর্ড অত থেকে গেলো। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। স্বসত্দি মোহাম্মদ আশরাফুলের জন্যও। 21 বলে ফিফটি করে বাংলাদেশীদের মধ্যে ওই রেকর্ডটাও থেকে গেলো তারই দখলে। অথচ দুটো রেকর্ডের জন্যই হুমকী হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশের এই পেসার। ভাগ্যিস একজন বোলারের দখলে চলে যায়নি ব্যাটিংয়ের ওই মূল্যবান রেকর্ডটি। সেকারনে ব্যাটসম্যানদের প থেকে জয়াসুরিয়া আর আশরাফুলের উচিত মাশরাফিকে ধন্যবাদ দেয়া!
সারাটা দিন সবকিছুই হয়েছে বাংলাদেশের প।ে বাংলাদেশ অধিনায়ক তো টস জয়টা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন। লঙ্কানদের বিপ েশেষ টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ মিলিয়ে টানা 5 ম্যাচেই টস জিতেছিলেন। সংখ্যাটা কাল বেড়ে কাল হলো 6। চোখ বন্ধ করে ব্যাটিং নেয়ার মতো উইকেটে প্রত্যাশিত একটা ওপেনিং পার্টনারশিপ এলো জাভেদ ওমর আর শাহরিয়ার নাফিসের মধ্যে। 11.1 ওভারে দলীয় 50 এর পর 15 ওভার শেষে সেটা গিয়ে দাঁড়ালো 70 রানে। আর 22.3 ওভারে যখন দলীয় একশ রান হলো ততনে স্টিভ টিকোলোর দুর্দানত্দ এক ডাইভিং ক্যাচে ফিরে গেছেন জাভেদ ওমর (28)। আর ম্যাচের এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহের প্রত্যাশায় বদলে ফেলে ব্যাটিং অর্ডার। তিনে ব্যাট করতে এসে 54 বলে ফিফটি করেন আফতাব আহমেদ। শেষপর্যনত্দ 69 বলে 62 করে আউট হন তিনি। ব্যাটিং অর্ডার বদলাতে বদলাতে নিজের আর নামাই হয়নি সুমনের। একপ্রানত্দে ওপেনার শাহরিয়ার ছিলেন অবিচল। সেঞ্চুরী থেকে 9 রান দূরে থাকতে রানআউটের খড়গে কাটা পড়েন তিনি। 112 বলের ওই ইনিংস দেখে মনে হচ্ছিল না কেনিয়ান কোন বোলার গতকাল তাকে আউট করতে পারবে। অগত্যা কাভার থেকে সেই টিকোলোর সরাসরি থ্রোতে রানআউট নাফিস। তবে ম্যাচশেষে সেঞ্চুরী মিস নিয়ে আপে ছিলো না 20 বছরের এই তরুণের কন্ঠে। বরং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেই ব্যাপক খুশি তিনি,' যে রানটা নিতে গিয়ে আউট হয়েছি ওটা রান ছিলো। আমি আরেকটু শার্প হলে কিংবা ডাইভ দিলে তো বেঁচে যেতাম। তবে তারচেয়ে বড় কথা দলের জয়ে অবদান রাখতে পারা। শুরু থেকেই আমার ল্য ছিলো পার্টনারশিপ গড়ে তোলা। সেটা করতে পেরে আমি খুশি।' অন্যদিকে অধিনায়ক সুমন বললেন,' এই ম্যাচ দেখলে মনে হতে পারে 4-0 তে জেতাটা সহজ। কিন্তু কেনিয়া ভালো দল। দিনটা ওদের ভালো যায়নি। ওরা কিন্তু ঘুঁরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য রাখে।'
বাংলাদেশ 301 রান করার পরই আসলে ম্যাচ একরকম শেষ হয়ে যায়। সেটা আরো নিশ্চিত হয়ে যায় মাত্র 29 রানের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য দুই ত্রাস কেনেডি ওটিয়েনো (6) ও স্টিভ টিকোলো (8) আউট হয়ে গেলে। এই দুজনকে ছাড়াও টানা 8 ওভারের স্পেলে ওপেনার ওবুয়াকেও আউট করেন বাংলাদেশের নতুন বলের বোলার সৈয়দ রাসেল। রাসেলের পার্টনার মাশরাফি কোন উইকেট না পেলেও তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন দুদলের অধিনায়কই। ডেবু্য ম্যাচের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে সুপারসাব হিসাবে শাহরিয়ারের জায়গায় নামা রাজিব আউট করেন কেনিয়া দলের আরেক সিনিয়র ব্যাটসম্যান হিতেশ মোদিকে (1)। টনি সুজির 33 আর তন্ময় মিশ্রর 43 রান না হলে কেনিয়ানদের হারের ব্যবধান আরো বড় হতে পারতো। শেষপর্যনত্দ সফরকারী দল 48.1 ওভারে অলআউট হয় 170 রানে। সেই সঙ্গে আসে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের 12 তম জয়।
বাংলাদেশ অধিনায়কের মুখে আজকাল প্রায়ই শোনা যায় বদলে যাওয়া বাংলাদেশের কথা। ক্রিকেট দলের ইদানিং কালের পারফরম্যান্স তাকে ওই কথা বলার প েসার্টিফিকেট দিচ্ছে। সেই সার্টিফিকেটটা আরেকটু জোরালো হলো কাল।
বাংলাদেশে নাকি খারাপ কিছু বদলায় না, বরং আরো বাড়ে। কে বলেছে বাংলাদেশে কিছুই বদলায় না? সত্যিই যে বদলাতে শুরু করেছে বাংলাদেশ দল!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



