somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সিরিজ জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ!

২২ শে মার্চ, ২০০৬ ভোর ৬:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইচ্ছা আর চেষ্টা হয়তো থাকবে। কিন্তু বিশ্বাসটা আর আগের মতো নেই। নড়বড়ে হয়ে গেছে! বড় বেশী নড়বড়ে! দিনকয়েক আগেও যে গলা ছিলো ভরাট-গম্ভীর, আজ সেটা যথেষ্ট মিনমিনে! সিরিজে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা জানাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু প্রত্যাশার বেলুনে জোরে ফুঁ দিতে সাহস পাচ্ছেন না। ফেটে যাওয়ার ভয়ই যে বেশী! 2-0 তে পিছিয়ে পড়ার চেয়ে বড় কথা যেভাবে কেনিয়া হেরেছে সেটা দেখে নতুন করে আর আশার বাণী শোনানো ঝুঁকিপূর্ণ! জেনেশুনে ঝুঁকিটা কেন নেবেন স্টিভ টিকোলো?
ঠিক বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। হাবিবুল-আশরাফুলরা তো এখন হাওয়ায় উড়ছেন। ভয়টা শুধু এখানেই। নিজের পায়ে কুড়াল মারার ভয়! কেনিয়াকে নিয়ে যে দর্ুভাবণার কোন কারণ নেই সেটা সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই জানা হয়ে গেছে সবার। ভয় নিজেদের নিয়ে। আত্মতুষ্টি যেন মাত্রা ছাড়িয়ে না যায়!
কেনিয়ানদের জন্য কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর আজই শেষ সুযোগ। অন্যদিকে এই জয় বাংলাদেশের সিরিজ শিরোপার নিশ্চয়তা আনার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রতিপৰকে হোয়াইটওয়াশ করার সম্ভাবনা তৈরী করবে। হোয়াইটওয়াশের প্রসঙ্গ একটু আগেভাগেই চলে আসছে। সিরিজ জয়ই যখন নিশ্চিত হয়নি তখন কেন আসবে হোয়াইটওয়াশের কথা? আসার একটাই কারণ কেনিয়ানদের ফর্মের অবস্থা যে বড় করম্নণ। নিক্তিতে শক্তিমত্ত্বার তুলনা করলে বাংলাদেশের পাশটা বড় বেশী হেলে থাকবে। তাইতো এখন আর ঘুরে দাঁড়ানোর কথাটা জোর দিয়ে বলতে পারছেন না সফরকারীরা। বরং কি বলছেন শুনুন,' আমাদেরকে আসলে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং তিনটি বিভাগেই উন্নতি করতে হবে। ভালো ক্রিকেট খেলাটাই মূল টার্গেট। অলরাউন্ড পারফরম্যান্স প্রয়োজন।' বক্তা আর কেউ নন, স্বয়ং কেনিয়ান কোচ রজার হার্পার। ম্যাচের আগের দিন প্রেস কনফারেন্সে অধিনায়ক টিকোলোর সুরও ছিলো কমবেশী একই।
সকাল 9টা থেকে দু'দলই প্র্যাকটিস করেছে ফতুলস্না স্টেডিয়ামে। ইতিহাসের অংশ হওয়ার হাতছানি নিয়েই পথচলা শুরম্ন হচ্ছে নতুন এই ভেনু্যর। আরো একটা কারনে আজকের ম্যাচটা গুরম্নত্বপূর্ণ স্বাগতিকদের জন্য। এই ম্যাচ জিতলেই কেনিয়াকে টপকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাছাইপর্ব খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে হাবিবুলের দল। আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে এখনো বাংলাদেশের উপরে আছে কেনিয়া। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নতুন ফরম্যাটে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ 6 দল সরাসরি আর পরের 4 দল বাছাইপর্বের বাঁধা টপকে উঠবে দু'দল। ফলে আজকের জয় শুধু এই সিরিজের জন্যই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কোয়ালিফাই করার জন্যও বাড়তি গুরম্নত্ব বহন করছে। স্বভাবত সিরিজের শেষ দুই ম্যাচ কেনিয়ার জন্য একঅর্থে লাইফলাইন। সে বিষয়ে টিকোলো বললেন,' চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে হতে সামনের দুটো ম্যাচই জিততে হবে আমাদের। আর সেটা হলে তো সিরিজও ড্র করে ফেলবো আমরা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে পারা দলের জন্য বড় মোটিভেশন। তবে আপাতত সেসব নয় বরং কালকের (আজ) ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। সন্ধ্যায় টিম মিটিং আছে। সেখানে একাদশ ঠিক করবো।' উইকেট কেমন দেখলেন? আরো বললেন,' আগের দুই ভেনু্যর মতোই। ফাট এবং লো।'
অন্যদিকে বাংলাদেশ অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সিরিজ জয় কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাছাইপর্বে কোয়ালিফাই করা কোনটিই মাথায় রাকতে চাচ্ছেন না,' এই ম্যাচ জিতলে সিরিজ জিতে যাব আমরা। তবে সেটা বাড়তি কোচ চাপ নয়। আমরা যে হার্ডওয়ার্ক করছি তাতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অন্য কোন বিষয় মাথায় আনছি না।' প্রতিটি ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ শিবির থেকে পরের ম্যাচে উন্নতির কথা বলতে শোনা যায়। কেনিয়ার বিপৰে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগই প্রত্যাশিত পারফর্ম করেছে। তাহলে এখন কোথায় উন্নতি দরকার? হাবিবুলের চটজলদি জবাব,' কেন ফিল্ডিংয়ে তো উন্নতির সুযোগ আছে।' শুধু ফিল্ডিং কেন, ব্যাটিং-বোলিংয়েও কিন্তু আরো উন্নতির সুযোগ আছে। ভুলে গেলে চলবে না পরের সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার বিপৰে! সুতরাং তৃপ্তির ঢেকুর তোলার কোন সুযোগ নাই!
তবে সত্যটা এবার মুখ ফুটে বলেই ফেলেছেন বাংলাদেশ কোচ ডেভ হোয়াটমোর। 2-0 তে এগিয়ে যাওয়া কিংবা সিরিজ জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় বাড়তি কোন টেনশন কাজ করছে কিনা সে বিষয়ে ডেভ বললেন,' কিছুই বদলায়নি। এমনটা হবে আমরা জানতাম।' তার মানে? তাহলে যে কেনিয়াকে শক্ত প্রতিপৰ বলে সার্টিফিকেট দেয়া এতোঅতো প্রশংসা, কেন?
এটাকেই মনে হয় বলে ভদ্রতা। যেটা সচরাচর অন্য দেশগুলো করে থাকে বাংলাদেশের বিপৰে। এমনকি কেনিয়াও করতো এতোদিন। রেকর্ডও যে ছিলো তাদের পৰে। কিন্তু বাংলাদেশ দল যে বদলাতে শুরম্ন করেছে। বিষয়টি জানা ছিলো কেনিয়ার। কিন্তু কতোটা বদলে গেছে বাংলাদেশ সেটা জানা হলো এখন। তাইতো এখন আর সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানো নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক ক্রিকেট খেলার আকুতি কেনিয়ানদের কন্ঠে। আফ্রিকান সিংহদের কন্ঠে আকুতি! লড়াইটা যে বড্ড একপেশে হয়ে যাচ্ছে!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×