somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রেটলি এবং তার গিটার!

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৬:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গিটার ছাড়া নাকি তার চলেই না! ব্রেটলি আর গিটার শব্দ দুটি সমার্থক জানা ছিলো বলে সংবাদ সম্মেলন শেষে মূহুর্তের সুযোগটা হাতছাড়া করা গেলো না। ডাক দিয়ে জানতে চাওয়া, তোমার গিটারটা সঙ্গে এনেছ? 'ও ইয়্যা' বলে দুই শব্দের জবাবের পর গিটার বাজানোর অভিনয় করে দেখাতে ভুললেন না অস্ট্রেলিয়ান এই স্পিডষ্টার। সঙ্গে মুখ দিয়ে গিটারের মৃদু ঝংকারও তুললেন। ব্রেটলির এই রূপ দেখে কে বলবে ক্রিকেট মাঠে তিনি ব্যাটসম্যানদের মৃতু্যদূত! বল হাতে তার ক্ষিপ্রতার সঙ্গে এই শিল্পসত্ত্বা যেমন যায় না, তেমনিভাবে লি'র ভুবণ ভোলানো হাসির সঙ্গে চেহারার সি্নগ্ধতাও ঠিক মেলে না। 'অন দ্য ফিল্ড' আর 'অফ দ্য ফিল্ড' ব্রেটলি যে পুরোপুরি আলাদা!
একই কথা প্রযোজ্য অ্যাডাম গিলক্রিস্টের বেলায়ও। পার্থক্য শুধু গিলির খুনি মেজাজের বলি হতে হয় লি'র মতোই কোন না কোন বোলারকে! 'অফ দ্য ফিল্ড' অসি সহ-অধিনায়কও শানত্দ-শুভ্রতার প্রতীক। ক্রিকেট যে ভদ্রলোকের খেলা তার আদর্শ বিজ্ঞাপন হতে পারেন তিনি। আউট জেনে আম্পায়ারের সিদ্ধানত্দের জন্য দেরী না করে যিনি হেঁটে যেতে পারেন তাকে তো ভদ্রলোক বলতেই হবে। গতকাল মিডিয়ার মুখোমুখি হওয়া চার অসি ক্রিকেটারের আরেকজন মাইকেল হাসি দুষ্টু নাকি ভদ্র ক্রিকেটার সেটা বিচারের সময় এখনো আসেনি। ক্যারিয়ারের প্রথমিক পর্যায়টা যে এখনো পার হয়নি হাসির। কিন্তু এর অল্পকিছুসময় আগে অস্ট্রেলিয়া দলের নমনীয়তা নিয়ে যে গর্ব করে গেলেন অধিনায়ক রিকি পন্টিং তার আদর্শ উদাহরন এই হাসি। নিয়মিত ওপেনার জাস্টিন ল্যাঙ্গার দলে নেই তো কি হয়েছে, হাসিকে পাঠিয়ে দাও নতুন বল সামলাতে! এবং সে কাজে তিনি সফলও বটে! তিনজনের কথা তো হলো, এবার চতুর্থজন। ক্রিকেটের 'ব্যাডবয়' শেন ওয়ার্নকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কিছু নেই। তবে এই 'ব্যাডবয়' ইমেজ ক্রিকেটের বাইরের জগত। 'অন দ্য ফিল্ড' তিনিও লি-গিলিদের এক খুনি মেজাজের ক্রিকেটার!
বেচারা হাসি! পাশের তিনজনের আলোকচ্ছটায় আলোকিত হতে হচ্ছে তাকে। অথচ সাম্প্রতিক ফর্মে তিনি ওদের কারো চেয়ে কোন অংশে কম যান না! প্রেস কনফারেন্সে তার দিকে প্রশ্ন গেলো হাতে গোনা কয়েকটি। কারণ তারকামূল্য বিচারে বাকী তিনজনের চেয়ে হাসি যে অনেকটাই পিছিয়ে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ ভাবনা জানাতে গিয়ে লি জানালেন,' টাগের্ট একটাই, নিজেদের শতভাগ উজার করে দেয়া। এবং অবশ্যই 2-0 ব্যবধানে সিরিজ জয়।' প্রশ্নটা যখন যাচ্ছে গিলি'র দিকে তার জবাব,' বেশ কিছুদিন হলো আমি ফর্মে নেই। তাই আমার টার্গেট লম্বা ইনিংস খেলা। স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করবো। আর শুধু আমি নই, পুরো অস্ট্রেলিয়া দলই এখন আক্রমনাত্মক ক্রিকেট খেলে।' গিলক্রিস্ট যখন আক্রমনাত্মক খেলার ঘোষনা দিচ্ছেন তখন বাংলাদেশ শিবির থেকে মাশরাফি মুর্তজা জানাচ্ছেন বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যানসহ অন্যদের আটকানোর কৌশল,' ওদের দলের কাউকে আলাদাভাবে গুরম্নত্ব দেয়ার উপায় নেই। কারণ একজনকে নিয়ে ভাবলে অন্যজন দেখা যাবে বড় ইনিংস খেলে দিয়েছে। তবে আমি মনে করি ভালো জায়গায় বল ফেলতে পারলে শচীন, লারা কিংবা গিলক্রিস্টই হোক, সবারই সমস্যা হয়। তাই আমাদেরকে লাইন লেন্থ রেখে বল করে যেতে হবে।'
দুই বছর আগের সঙ্গে এখনকার ব্রেটলিকে আলাদা করতে গিয়ে জানালেন,' তখন আমি শুধু গতি নিয়ে ভাবতাম। আর এখনকার লি অনেক বেশী পরিণত।' বাংলাদেশের মতো দুর্বল দলের বিপক্ষে নিজেকে মোটিভেট রাখেন কিভাবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে বর্তমান সময়ে দ্রততম এই বোলার বললেন,' আসলে টেস্ট ক্রিকেটটাই তো একটা মোটিভেশন। আর বাংলাদেশ তো গত বেশ কিছুদিন প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক ক্রিকেট খেলছে। অ্যাসেজও আমাদের সামনে। তবে এখন আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে জিততে পারি।'
চারজনের জন্য সময় বরাদ্দ ছিলো মাত্র 15 মিনিট! মানে একেকজনের জন্য 3 মিনিট 45 সেকেন্ড করে। ওয়ার্ন, গিলক্রিস্ট কিংবা ব্রেটলিদের কথা জানতে সময়টা বড় বেশী অপ্রতুল! সোনারগাঁ হোটেলের বলরম্নমটা কাল দুপুরে ছিলো একটু বেশী আলোকিত। এক মঞ্চে একসঙ্গে এতো তারকা যে সহজে মেলে না! কার্ডিফে বাংলাদেশ পন্টিংদের না হারালে এমন তারকা সমারোহ হতো কিনা বলা মুশকিল। তাই ধন্যবাদের ভাগটা আশরাফুল-হাবিবুলদেরও যে দিতে হবে!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×