অাঁকাবাঁকা রাস্তায় ড্রাইভ করার ঝক্কি অনেক! রাস্তা কখন কোথায় বেঁকে গেছে সেটা খুঁজতে প্রতি মূহুর্তে সর্তক থাকতে হয়। শঙ্কা আর সংশয় উঁকি দেয় প্রতিমূহুর্তে। সে কারনেই হাইওয়ে সচরাচর সোজা হয়ে থাকে। এক্সেলেটরে পা রেখে স্পিড তোলা যায় ইচ্ছামতো! টেস্ট অঙ্গনে পা রাখার পর অনেকটা সময় আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে অবশেষে হাইওয়েতে উঠে এসেছে বাংলাদেশ দল! তাইতো দিনের টার্নিং পয়েন্ট খুঁজতে মাথার চুল খাড়া হচ্ছে না। ফতুল্লা টেস্টের প্রথম দিন পুরোটাই যে বাংলাদেশের! সেখানে রান তোলার স্পিডে পাল্লা দিয়েছেন শাহরিয়ার নাফিস (189 বলে 138), হাবিবুল বাশার (113 বলে 76) আর মোহাম্মদ আশরাফুল (28 বলে 29)। নইলে কি আর দিনশেষে 355 রান ওঠে স্কোরবোর্ডে! চোখ কপালে উঠবে যখন জানা যাবে প্রতিপক্ষ দলটির নাম অস্ট্রেলিয়া। এখানেই শেষ নয়, 355 কে চারশ'র উপরে নিয়ে এখনো যে 5 ব্যাটসম্যান অক্ষত! মূল কাজটা করেছেন হাবিবুল-শাহরিয়ার জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে তাদের তোলা 187 রান যে কোন উইকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সবের্াচ্চ পার্টনারশিপ রেকর্ড। অথচ ওই পার্টনারশিপ ভাঙ্গতে পারতো 50 পেরুনোর পরপরই যদি না হাবিবুলের দেয়া ক্যাচ অ্যাডাম গিলক্রিস্টের হাত ফসকাতো। ঘটনাটা বাংলাদেশ ইনিংসের 24 তম ওভারের (ওয়ার্নের 6ষ্ঠ)। শেন ওয়ার্নের বলে অমন ক্যাচ হরহামেশাই জমা পড়ে গিলির গ্লাবসে! কিন্তু এ যাত্রা জমা তো পড়লোই না, সঙ্গে বল দিক পরিবর্তন করে চলে গেলো প্রথম স্লি্লপে দাঁড়ানো মাইকেল ক্লার্কের নাগালের বাইরে! নইলে 36 রানে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়কের ব্যাট ছুঁয়ে বল সোজা যেত ক্লার্কের হাতে। বেচারা ওয়ার্ন! এরপর সারাদিনে আর লাইনই খুঁজে পাননি। থেকে গেছেন উইকেটশূন্য। তারচেয়েও বড় কথা শেনের হাত থেকে বেরুনো বল নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলায় মেতেছিলেন সেঞ্চুরিয়ান শাহরিয়ার আর মিঃ হাফসেঞ্চুরী হাবিবুল! কাল তার ফিপারগুলো প্রত্যাশিত দ্রুততায় ব্যাটসম্যানের ব্যাড বরাবর ধেয়ে যায়নি, বড় টার্ন করার জন্য রাফস্পটও খুঁজে পায়নি বল! 20-1-112-0 শেষ কবে শেনের এমন ফিগার দেখা গেছে মনে করতে কষ্ট হবে! সেই হতাশা থেকেই কিনা কে জানে 66 রানে শাহরিয়ারের দেয়া ক্যাচ তালুতে জমাতে ব্যর্থ হন তিনি। সেটাও দিনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট! কিন্তু ততোক্ষনে বাংলাদেশের অবস্থান হয়ে গেছে অনেকটাই সুসংহত! অথচ সুমনকে লাইফ না দিলে 187 রানের পার্টনারশিপ হয় না। আর পরের ব্যাটসম্যানরা এতোটা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেন না। সেখান থেকেই দিনের নিয়ন্ত্রন চলে আসে স্বাগতিকদের হাতে। ফলে অসিদের বিপক্ষে টেস্টের প্রথম দিনের টার্নিং পয়েন্ট ব্যক্তিগত 36 রানে বাংলাদেশ অধিনায়কের জীবণ ফিরে পাওয়া!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০০৬ রাত ৩:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



