পকেটে মোবাইল আর চাবির রিং থাকায় স্টেডিয়ামের প্রবেশমুখে বসানো মেটাল ডিটেক্টরটা তীব্রস্বরে সতর্ক করলো সবাইকে। কিন্তু যাদের সতর্ক করা তাদের কেউ ছুটে এলেন না। আর দশটা দিনের মতো চোখে একরাশ বিরক্তি নিয়ে কেউ নিশ্চিত হতে চাইলেন না এরা আদৌ সাংবাদিক কিনা! উপরের নিদের্শেই কিনা কে জানে মাঠের ধারে কাছে থাকলো না পুলিশ। তাদের অবস্থান স্থির থাকলো স্টেডিয়াম গেটের আশেপাশে!
হাবিবুল-আশরাফুলদের সঙ্গে শত্রুতা থাকলে আজ (গতকাল) সুযোগটা নেয়া যেত। কিন্তু ওদের সঙ্গে শত্রুতা থাকবে কার? ওরা যে দেশের মূখপাত্র, জাতীয় ক্রিকেটার! ওদের তি মানে দেশের তি। পানত্দরে সাংবাদিকদের তো শত্রুর অভাব নেই! পুলিশের সঙ্গে আজীবণের শত্রুতা! তা না হলে কি আর অনুরূপ-অভিজিৎদের এখনো কাতরাতে হয় হাসপাতালের বিছানায়! সাইদুর রহমানকে ওয়ানডে সিরিজ কাভার করতে আসতে হয় হাতে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে! অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ আজ, অথচ প্রিভিউয়ের শুরুতে ক্রিকেট বিষয়ক কোন কথা নেই! কারণ জানতে আপনাকে কষ্ট করে ফিরে যেতে হবে 16 এপ্রিল! চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামের মাটিতে এখনো লেগে আছে অভিজিৎ-অনুরূপদের রক্ত! পুলিশী সেই বর্বরতাকে কি চাইলেই ভুলে যাওয়া সম্ভব? যেমন পারলেন না বাংলাদেশ কোচ ডেভ হোয়াটমোর। সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে বসে তার নজর চলে গেলো যুগানত্দরের সাইদুর রহমানের হাতের দিকে। ক্রিকেট বিষয়ক কথা শুরু হওয়ার আগে ডেভের কথা ধরে উঠে এলো সেই স্মৃতি যা ভুলে যেতে চান সবাই। কিন্তু ওই যে চাইলেও সবকিছু ভোলা যায় না! প্রথম ওয়ানডে নিয়ে পরিকল্পনা জানিয়ে চলে যাওয়ার সময় সাইদুরের কাঁধে হাত রেখে বাংলাদেশ কোচ জানতে চাইলেন, 'সেলাই লেগেছে ক'টা?' জবাবে 4টা সেলাই লেগেছে শুনে ডেভের মুখটা যদি দেখতেন! দুঃসহ সেই স্মৃতি ভুলে ক্রিকেটের টানে এতো দ্রুত যারা আবার মাঠে, সেই ক্রীড়া সাংবাদিকরা নাকি টেস্ট ম্যাচ ভন্ডুল করতে চেয়েছিলেন! আর পুলিশ সেই চক্রানত্দ রুখে দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি রায় একশতে একশ!!
দ্বিতীয় টেস্টে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না হলেও ফতুল্লা থেকে উৎসাহ খুঁজছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক,' আমরা পজেটিভ 'ফ্রেম অব মাইন্ড' নিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছি। এমনিতে টেস্টের চেয়ে ওয়ানডেতে আমরা ভালো দল। আর এবার তো টেস্ট সিরিজও ভালো গেছে আমাদের।' বাংলাদেশ দল চাইলে অনুপ্রেরনা খুঁজতে পারে কার্ডিফ থেকেও। সেদিন যে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছিলো হাবিবুলের দল। একবার যখন পারা গেছে তখন আবার নয় কেন? তাছাড়া এটা তো বদলে যাওয়া বাংলাদেশ দলের গল্প! হাবিবুল বাশার গলাটা তাই অনেকবেশী আত্মবিশ্বাসী শোনালো,' ওয়ানডে ম্যাচ একটা দিনের খেলা। নির্দিষ্ট ওই দিনে যে ভালো খেলবে সেই হাসিমুখে মাঠ ছাড়বে। কালকের (আজ) দিনটা আমাদেরও তো হতে পারে।' অধিনায়কের সঙ্গে গলা মিলিয়ে দলের কোচ ডেভ আরো বললেন,' 2-0 ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারলেও আমরা প্রতিপরে সমীহ আদায় করেছি। কারণ একটা টেস্ট জেতার মতো অবস্থায় ছিলাম আমরা। ফলে কোন টেস্ট না জিতেও আমরা প্রশংসা পেয়েছি।' সকালে ঘন্টা দুয়েক প্র্যাকটিস করেছে বাংলাদেশ। নেটে হাবিবুল বাশারের ব্যাটিং শেষে কোচ ডেভ তাকে ডেকে নিলেন আলাদা। দূর থেকে দেখে বোঝাই যাচ্ছিল একাদশ নিয়ে কথা হচ্ছিল তাদের মধ্যে। এবং তারা যে কিছুটা দ্বিধায় আছেন সে আভাসও ছিলো তাদের অভিব্যক্তিতে! পরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হলো দল জানানো হবে সন্ধ্যায়। তার আগে দুপুরে একাদশ গঠনের জন্য বসবে ম্যানেজমেন্ট। সেখান থেকে পরে জানা গেছে অলোক কাপালি, শাহাদত রাজিব আর জাভেদ ওমরকে বাইরে রেখে একাদশ ঘোষনা করেছে বাংলাদেশ। বিকালে প্র্যাকটিস করা অসি দলও তাদের একাদশ ঘোষণা করেছে। টেস্ট ডেবু্যর পর এবার চট্টগ্রামেই ওয়ানডে অভিষেক হতে যাচ্ছে অফস্পিনার ডেনিয়েল কুলেনের। উইকেট স্লো হবে ধরে নিয়ে কুলেনের অফস্পিনের পাশাপাশি থাকবে ব্র্যাড হগের লেগস্পিন। প্রয়োজনে হাত ঘুরানোর জন্য মাইকেল কার্ক আর এন্ড্রু সাইমন্ডস তো থাকছেনই! তাছাড়া বাংলাদেশের উইকেটের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর কাজটা তো বেশ আগেই সেরে নিয়েছে সফরকারীরা। সে প্রমান তো চট্টগ্রাম টেস্টে দিয়েছে পন্টিংয়ের দল। প্র্যাকটিস শেষে সফরকারী অধিনায়ক রিকি পন্টিং বলেছেন,' উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হবে আশাকরী। আর একাদশে পর্যাপ্ত স্পিন অপশন রেখেছি আমরা।'
সর্বশেষ খেলা ওয়ানডেতে একটা বাজে স্মৃতি আছে অসিদের। রেকর্ড 434 রান তুলেও তারা হেরে যায় দণি আফ্রিকার কাছে! সেই স্মৃতি ভুলে গেছেন জানিয়ে বাংলাদেশের জন্য একটা হুমকীও দিয়ে রেখেছেন পন্টিং। দ্বিতীয় টেস্ট শেষে হাসতে হাসতে বলেছিলেন,' আবার 400 রান করতে চাই!' যে দলে পন্টিং-গিলক্রিস্ট-সাইমন্ডসরা আছেন তারা জোরগলায় বলতেই পারেন এমন কথা! এ যে নতুন আরেক চ্যালেঞ্জ!
তবে হুমকীতে ভয় পাওয়ার দিন শেষ। বাংলাদেশ এখন শুধু ভালো খেলার জন্য মাঠে নামে না। মাঠে নামে জয়ের টার্গেট নিয়ে। অস্ট্রেলিয়াও সেই টার্গেটের বাইরে থাকছে না।
বাংলাদেশ একাদশ হাবিবুল (অধিঃ), শাহরিয়ার, রাজিন, আশরাফুল, তুষার, আফতাব, পাইলট, রফিক, মাশরাফি, রাসেল ও রাজ।
অস্ট্রেলিয়া একাদশ পন্টিং (অধিঃ), গিলক্রিস্ট, ক্যাটিচ, কার্ক, সায়মন্ডস, হাসি, ব্রাকেন, জনসন, ব্রেটলি, কালেন ও হগ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




