সে যা-ই হোক, বিদেশী ভাষার উচ্চারণ বাংলায় লেখা হলে এক একজন এক এক ভাবে লেখে। আমার মনে হয় মূল অর্থ বুঝতে এবং বুঝাতে এতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তার পরেও সঠিক বাংলা উচ্চারণ লিখতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
আসলে গন্ডগোলটা অন্যখানে। জাপানে যারা পড়তে আসে, প্রথম ছয় মাস সবাইকে জাপানী ভাষা শিখতেই হয়। এ এক অলিখিত নিয়ম। বিশেষ করে যারা নিজের খরচে পড়তে আসে, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বাধ্যতা মূলক পর্যায়ে পরে। কিন্তু যারা দেশ থেকেই স্কলারশীপ নিয়ে আসে, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মটা একটু শিথিল। কিছু স্টুডেন্ট আছে যারা বাংলাদেশে জাপানের এম্বাসির সিলেকশানে স্কলারশিপ পায়। তাদের জন্য জাপানে আসার পর প্রথম ছয় মাস জাপানী শেখা বাধ্যতা মুলক। আর কিছু ছাত্র জাপানের কোন ইউনিভার্সিটির প্রফেসরের মাধ্যমে স্কলারশিপ পায়। তাদের জন্য জাপানী ভাষা শেখাটা তেমন বাধ্যতা মূলক নয়। কারণ, যে প্রফেসর নিজে থেকে বিদেশী স্টুডেন্ট নেয়, সে ইংরেজীতে কিছুটা ভাল বলেই নিতে সাহস পায়।
কিন্তআমার ক্ষেএে যেটা হয়েছে, আমি আসার পরে আমার 'সেনসেই' (এটাও একটা জাপানী শব্দ। উচ্চারণে লিকতে ভুল হলে দুঃখিত) আমাকে লেনগুয়েজ ক্লাশে যেতে বল্লেন। আমার ল্যাব-এ একজন ইন্ডিয়ান আছে, তিনি পোষ্ট ডক করছেন। আমরা দু'জনই লেনগুয়েজ ক্লাশে যেতাম মজা করে। প্রথম দিকে ভালই লাগছিল। কিন্তু প্রথম ক্লাশ টেষ্টে পুরো ক্লাশের মধ্যে আমি আর ওই ইন্ডিয়ান ভদ্রলোক দু'জনেই শুণ্য পেলাম। তাতে যা হল, ইন্ডিয়ান ভদ্রলোক (ডঃ রমেশ) ক্লাশে আসা বন্ধ করে দিলেন। আমিও জাপানী ভাষা শিখার প্রতি আগ্রহ ারিয়ে ফেললাম।
এখানে সব প্রফেসরই আশা করেন, তার বিদেশী স্টুডেন্টরা ভাল জাপানী জানবে। তাতে তাদের কমিউনিকেশানে সুবিধা হয়। কারণ, জাপানে ছাত্র বা শিক্ষক সবারই ইংরেজী তে অতি+অন্ত খারাপ। সে জন্য ভাল ভাল গবেষণা ও ইন্টারন্যাশনাল জার্ণালে স্থান পায়না। শুধু তাই নয়, ইংরেজীতে খারাপ অবস্থার জন্য তারা বিদেশী ছাত্রও নিতে চায়না। আমার প্রফেসর ও আমি জাপানীতে ভাল করি, এটাই আশা করেছিলেন হয়তো। কিন্তু কিছুদিন পর ল্যাংগুয়েজ স্কুল থেকে আমার সম্পর্কে যা জানতে পারলেন, তাতে তিনি মোটেও আশানি্নত হতে পারেননি। এক দিন তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে বল্লেন, তোমাকে আর কষ্ট করে জাপানী শিখতে হবেনা। তুমি তোমার গবেষণায় মন দাও। পরে শুনেছি, আমার প্রফেসর নিজেই ইংলিশ শিখতে শুরু করেছেন। এখন তিনি ইংরেজীতে বেশ ভাল। আমার সাথে বেশ ভাল ইংলিশ বলেন।
এই হল ইতিহাস। এসব কারণে আমার জাপানীটা শিখা হলনা। জাপানী পারিনা বলে ল্যাব-এ স্টুডেন্টরা আমার সাথে কথাই বলেনা। শুধু আসার পর 'গুড মর্নিং' আর যাওয়ার সময় 'বাই বাই'। রাস্তা-ঘাটে চলা ফেরায়, মার্কেটে কেনাকাটায় কি যে সমস্যায় পরতে হয়। তবু দিন চলে যাচ্ছে। এইতো আর কটা দিন। তার পর আবার মায়ের কোলে, মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারব।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



